ঢাকা ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পিতার মত কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খাল খননের সূচনা প্রধানমন্ত্রীর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:২৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
  • / 177

ছবি সংগৃহীত

 

পাঁচ দশক আগে তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান জিয়াউর রহমান যে স্থান থেকে খাল খনন বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন, আজ ঠিক সেই দিনাজপুরেই এক আবেগঘন ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার জলাধার খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খালে নিজে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে তিনি এই বিশাল প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন।

লাল-সবুজের ক্যাপ এবং সাধারণ পোশাকে প্রধানমন্ত্রীর এই অংশগ্রহণ ১৯৭৭ সালের সেই স্মৃতিকেই মনে করিয়ে দেয়, যখন তৎকালীন সরকার প্রধান হিসেবে জিয়াউর রহমান গ্রামীণ অর্থনীতি পুনর্গঠনে এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এবারের কর্মসূচির মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে একযোগে দেশের ৫৪টি জেলায় নদী-নালা ও খাল খনন কাজ শুরু হলো, যা কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  জুলাই যোদ্ধাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

এই প্রকল্পের অধীনে খনন করা ১২.২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহাপাড়া খালটি পুনর্ভবা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত, যা সম্পন্ন হলে স্থানীয় প্রায় ৩১ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং সাড়ে তিন লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী পাঁচ বছরে পানিসম্পদ, স্থানীয় সরকার, কৃষি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে সারাদেশে জলাধার সংস্কার করা।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, এই প্রকল্পের ফলে ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে, যা খরা ও বন্যা মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রতিটি কিলোমিটার খননে সরকারের প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ বিশেষ করে কৃষিজীবী নারীরা তাদের নেতাকে একনজর দেখতে ভিড় জমিয়েছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্বাধীনতার আগে দেশে প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ থাকলেও বর্তমানে তা ভরাট হয়ে মাত্র ৪ হাজার কিলোমিটারে নেমে এসেছে। সরকারের এই ব্যাপক খনন কার্যক্রম কেবল কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, বরং মৃতপ্রায় নৌপথগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে দেশের জিডিপিতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

পিতার মত কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খাল খননের সূচনা প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০৩:২৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

 

পাঁচ দশক আগে তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান জিয়াউর রহমান যে স্থান থেকে খাল খনন বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন, আজ ঠিক সেই দিনাজপুরেই এক আবেগঘন ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার জলাধার খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খালে নিজে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে তিনি এই বিশাল প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন।

লাল-সবুজের ক্যাপ এবং সাধারণ পোশাকে প্রধানমন্ত্রীর এই অংশগ্রহণ ১৯৭৭ সালের সেই স্মৃতিকেই মনে করিয়ে দেয়, যখন তৎকালীন সরকার প্রধান হিসেবে জিয়াউর রহমান গ্রামীণ অর্থনীতি পুনর্গঠনে এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এবারের কর্মসূচির মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে একযোগে দেশের ৫৪টি জেলায় নদী-নালা ও খাল খনন কাজ শুরু হলো, যা কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  নদী-খাল দখল রোধে কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর: মনিটরিং সেল গঠনের ঘোষণা

এই প্রকল্পের অধীনে খনন করা ১২.২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহাপাড়া খালটি পুনর্ভবা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত, যা সম্পন্ন হলে স্থানীয় প্রায় ৩১ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং সাড়ে তিন লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী পাঁচ বছরে পানিসম্পদ, স্থানীয় সরকার, কৃষি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে সারাদেশে জলাধার সংস্কার করা।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, এই প্রকল্পের ফলে ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে, যা খরা ও বন্যা মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রতিটি কিলোমিটার খননে সরকারের প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ বিশেষ করে কৃষিজীবী নারীরা তাদের নেতাকে একনজর দেখতে ভিড় জমিয়েছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্বাধীনতার আগে দেশে প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ থাকলেও বর্তমানে তা ভরাট হয়ে মাত্র ৪ হাজার কিলোমিটারে নেমে এসেছে। সরকারের এই ব্যাপক খনন কার্যক্রম কেবল কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, বরং মৃতপ্রায় নৌপথগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে দেশের জিডিপিতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারকরা।