ঢাকা ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা

বন্দরের ভবিষ্যৎ আজ আদালতে নির্ধারণ, রায়ের অপেক্ষায় বন্দর অঙ্গন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৩৫:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 1280

ছবি সংগৃহীত

 

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দেশীয় ব্যবস্থাপনায় থাকবে, নাকি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে যাবে—এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মিলতে যাচ্ছে আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি)। এ সংক্রান্ত একটি রিটের চূড়ান্ত রায় দেবেন উচ্চ আদালত। ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সবচেয়ে বড় টার্মিনালটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বন্দর সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি এখন আদালতের দিকে। 

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকার এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরাম হাইকোর্টে রিট করে। রিটে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের বিরোধিতা করা হয়।

আরও পড়ুন  হিলি বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, পাসপোর্টযাত্রী পারাপার স্বাভাবিক

সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইনের করা ওই রিটে গত ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে দ্বিধাবিভক্ত রায় আসে। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তি প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেন। অপরদিকে বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট খারিজ করে দেন। ফলে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির নির্দেশে নতুন বেঞ্চ গঠন করা হয় এবং আজ চূড়ান্ত রায়ের দিন ধার্য করা হয়।

মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন বলেন, বিদেশি অপারেটরের হাতে একটি লাভজনক রাষ্ট্রীয় সম্পদ তুলে দেওয়ার বিষয়ে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা জনস্বার্থের পরিপন্থী। সে কারণেই আদালতের শরণাপন্ন হওয়া হয়েছে।

এই রায়ের ওপর ভিত্তি করেই সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—এনসিটির পরিচালনা ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তর করা হবে, নাকি বর্তমানে যেভাবে চলছে সেভাবেই নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রিত চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড এর দায়িত্বে থাকবে।

বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করে। অবকাঠামো ও আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ এতে ব্যয় হয় আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি। ২০১৫ সালে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টার্মিনালটি পরিচালিত হচ্ছিল।

তবে রাজস্ব ফাঁকি ও অনিয়মের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই চুক্তি বাতিল করে।
চলতি বছরের জুলাই থেকে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড এনসিটি পরিচালনা শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই টার্মিনাল থেকে সরকারি রাজস্ব কয়েকগুণ বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। বর্তমানে এটি চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বোচ্চ আয়কারী টার্মিনাল হিসেবে পরিচিত।

এই অবস্থায় রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে নির্মিত এবং লাভজনক এই টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বন্দর এলাকার কর্মচারী, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এবং বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো একাধিক কর্মসূচি পালন করেছে। বিক্ষোভ, অবরোধ ও মিছিল হলেও সরকার ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দায়িত্ব দেওয়ার অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে একসঙ্গে চারটি সমুদ্রগামী জাহাজ ভেড়ানো যায়। এর বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ১০ লাখ টিইইউএস হলেও বর্তমানে তা ছাড়িয়ে ১২ লাখ টিইইউএসের বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হচ্ছে। বন্দরের মোট কনটেইনার কার্যক্রমের ৪০ শতাংশের বেশি এই টার্মিনালেই সম্পন্ন হয়।

সব মিলিয়ে আজকের রায় শুধু একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়, চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যৎ পরিচালনা কাঠামোর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বন্দরের ভবিষ্যৎ আজ আদালতে নির্ধারণ, রায়ের অপেক্ষায় বন্দর অঙ্গন

আপডেট সময় ০৪:৩৫:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

 

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দেশীয় ব্যবস্থাপনায় থাকবে, নাকি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে যাবে—এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মিলতে যাচ্ছে আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি)। এ সংক্রান্ত একটি রিটের চূড়ান্ত রায় দেবেন উচ্চ আদালত। ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সবচেয়ে বড় টার্মিনালটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বন্দর সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি এখন আদালতের দিকে। 

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকার এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরাম হাইকোর্টে রিট করে। রিটে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের বিরোধিতা করা হয়।

আরও পড়ুন  প্রথমবার মোংলা বন্দরে রেলপথে পণ্য পরিবহন: নতুন দিগন্তের সূচনা

সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইনের করা ওই রিটে গত ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে দ্বিধাবিভক্ত রায় আসে। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তি প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেন। অপরদিকে বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট খারিজ করে দেন। ফলে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির নির্দেশে নতুন বেঞ্চ গঠন করা হয় এবং আজ চূড়ান্ত রায়ের দিন ধার্য করা হয়।

মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন বলেন, বিদেশি অপারেটরের হাতে একটি লাভজনক রাষ্ট্রীয় সম্পদ তুলে দেওয়ার বিষয়ে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা জনস্বার্থের পরিপন্থী। সে কারণেই আদালতের শরণাপন্ন হওয়া হয়েছে।

এই রায়ের ওপর ভিত্তি করেই সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—এনসিটির পরিচালনা ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তর করা হবে, নাকি বর্তমানে যেভাবে চলছে সেভাবেই নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রিত চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড এর দায়িত্বে থাকবে।

বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করে। অবকাঠামো ও আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ এতে ব্যয় হয় আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি। ২০১৫ সালে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টার্মিনালটি পরিচালিত হচ্ছিল।

তবে রাজস্ব ফাঁকি ও অনিয়মের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই চুক্তি বাতিল করে।
চলতি বছরের জুলাই থেকে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড এনসিটি পরিচালনা শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই টার্মিনাল থেকে সরকারি রাজস্ব কয়েকগুণ বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। বর্তমানে এটি চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বোচ্চ আয়কারী টার্মিনাল হিসেবে পরিচিত।

এই অবস্থায় রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে নির্মিত এবং লাভজনক এই টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বন্দর এলাকার কর্মচারী, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এবং বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো একাধিক কর্মসূচি পালন করেছে। বিক্ষোভ, অবরোধ ও মিছিল হলেও সরকার ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দায়িত্ব দেওয়ার অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে একসঙ্গে চারটি সমুদ্রগামী জাহাজ ভেড়ানো যায়। এর বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ১০ লাখ টিইইউএস হলেও বর্তমানে তা ছাড়িয়ে ১২ লাখ টিইইউএসের বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হচ্ছে। বন্দরের মোট কনটেইনার কার্যক্রমের ৪০ শতাংশের বেশি এই টার্মিনালেই সম্পন্ন হয়।

সব মিলিয়ে আজকের রায় শুধু একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়, চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যৎ পরিচালনা কাঠামোর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।