ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

আইসিজিতে শুরু রোহিঙ্গা গণহত্যা বিচার, দশ বছর পর ন্যায়বিচারের পথে প্রথম ধাপ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 744

ছবি সংগৃহীত

 

প্রায় এক দশকের অপেক্ষার পর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজি) আজ সোমবার এই মামলার শুনানি শুরু হয়, যা টানা তিন সপ্তাহ চলবে।
বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া এই শুনানিতে রোহিঙ্গা সংকটের পটভূমি, সহিংসতার ধরন এবং দায় নির্ধারণের বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। মামলাটি নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করা জাতিসংঘের সংস্থা ‘ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’-এর প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে শুনানি শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার ভয়াবহতা বিশ্ববাসীর নজরে আসে। ওই বছরের জুলাইয়ে কয়েকটি নিরাপত্তা স্থাপনায় হামলার ঘটনার পর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। অভিযানের সময় নির্বিচার হত্যা, ধর্ষণ, গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে, যার ফলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বলে সরকারি হিসেবে জানা যায়।

আরও পড়ুন  মিয়ানমারের ভূমিকম্পে মৃত্যু ছাড়াল ৩ হাজার ৬০০, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও মিলছে মরদেহ

সহিংসতার পরপরই জাতিসংঘের একটি স্বাধীন অনুসন্ধানী দল মাঠপর্যায়ে তদন্ত চালিয়ে তাদের প্রতিবেদনে সেনা অভিযানে গণহত্যার উপাদান থাকার কথা উল্লেখ করে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া আইসিজিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে মামলা করে।

সে সময় মিয়ানমারের সরকার ও তৎকালীন নেত্রী অং সান সুচি জাতিসংঘের প্রতিবেদন ও মামলার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, এসব অভিযোগ একপেশে ও বিভ্রান্তিকর। তবে ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর সুচি ক্ষমতাচ্যুত হন এবং বর্তমানে তিনি কারাবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

মামলার প্রধান তদন্তকারী নিকোলাস কৌমজিয়ান বলেন, এই বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গণহত্যার আইনি সংজ্ঞা, প্রমাণের মানদণ্ড এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ আরও স্পষ্ট হবে। তার মতে, এই মামলা ভবিষ্যতে গণহত্যা সংক্রান্ত বিচারকার্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আইসিজিতে শুরু রোহিঙ্গা গণহত্যা বিচার, দশ বছর পর ন্যায়বিচারের পথে প্রথম ধাপ

আপডেট সময় ১২:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

 

প্রায় এক দশকের অপেক্ষার পর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজি) আজ সোমবার এই মামলার শুনানি শুরু হয়, যা টানা তিন সপ্তাহ চলবে।
বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া এই শুনানিতে রোহিঙ্গা সংকটের পটভূমি, সহিংসতার ধরন এবং দায় নির্ধারণের বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। মামলাটি নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করা জাতিসংঘের সংস্থা ‘ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’-এর প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে শুনানি শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার ভয়াবহতা বিশ্ববাসীর নজরে আসে। ওই বছরের জুলাইয়ে কয়েকটি নিরাপত্তা স্থাপনায় হামলার ঘটনার পর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। অভিযানের সময় নির্বিচার হত্যা, ধর্ষণ, গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে, যার ফলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বলে সরকারি হিসেবে জানা যায়।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-মিয়ানমার করিডরে চীনের সম্পৃক্ততা নেই: চীনা রাষ্ট্রদূত

সহিংসতার পরপরই জাতিসংঘের একটি স্বাধীন অনুসন্ধানী দল মাঠপর্যায়ে তদন্ত চালিয়ে তাদের প্রতিবেদনে সেনা অভিযানে গণহত্যার উপাদান থাকার কথা উল্লেখ করে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া আইসিজিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে মামলা করে।

সে সময় মিয়ানমারের সরকার ও তৎকালীন নেত্রী অং সান সুচি জাতিসংঘের প্রতিবেদন ও মামলার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, এসব অভিযোগ একপেশে ও বিভ্রান্তিকর। তবে ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর সুচি ক্ষমতাচ্যুত হন এবং বর্তমানে তিনি কারাবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

মামলার প্রধান তদন্তকারী নিকোলাস কৌমজিয়ান বলেন, এই বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গণহত্যার আইনি সংজ্ঞা, প্রমাণের মানদণ্ড এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ আরও স্পষ্ট হবে। তার মতে, এই মামলা ভবিষ্যতে গণহত্যা সংক্রান্ত বিচারকার্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।