ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী বলিভিয়া: আন্দেসের হৃদয়ে লুকানো বৈচিত্র্যময় দেশ মধ্যপ্রাচ্যের ১৫ দেশ ছাড়ার জরুরি নির্দেশ দিল যুক্তরাষ্ট্র

আইসিজিতে শুরু রোহিঙ্গা গণহত্যা বিচার, দশ বছর পর ন্যায়বিচারের পথে প্রথম ধাপ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 197

ছবি সংগৃহীত

 

প্রায় এক দশকের অপেক্ষার পর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজি) আজ সোমবার এই মামলার শুনানি শুরু হয়, যা টানা তিন সপ্তাহ চলবে।
বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া এই শুনানিতে রোহিঙ্গা সংকটের পটভূমি, সহিংসতার ধরন এবং দায় নির্ধারণের বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। মামলাটি নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করা জাতিসংঘের সংস্থা ‘ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’-এর প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে শুনানি শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার ভয়াবহতা বিশ্ববাসীর নজরে আসে। ওই বছরের জুলাইয়ে কয়েকটি নিরাপত্তা স্থাপনায় হামলার ঘটনার পর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। অভিযানের সময় নির্বিচার হত্যা, ধর্ষণ, গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে, যার ফলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বলে সরকারি হিসেবে জানা যায়।

আরও পড়ুন  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রোহিঙ্গা মুসলমান ঢুকিয়ে এক কোটি ভোট বাড়িয়েছেন: শুভেন্দু

সহিংসতার পরপরই জাতিসংঘের একটি স্বাধীন অনুসন্ধানী দল মাঠপর্যায়ে তদন্ত চালিয়ে তাদের প্রতিবেদনে সেনা অভিযানে গণহত্যার উপাদান থাকার কথা উল্লেখ করে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া আইসিজিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে মামলা করে।

সে সময় মিয়ানমারের সরকার ও তৎকালীন নেত্রী অং সান সুচি জাতিসংঘের প্রতিবেদন ও মামলার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, এসব অভিযোগ একপেশে ও বিভ্রান্তিকর। তবে ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর সুচি ক্ষমতাচ্যুত হন এবং বর্তমানে তিনি কারাবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

মামলার প্রধান তদন্তকারী নিকোলাস কৌমজিয়ান বলেন, এই বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গণহত্যার আইনি সংজ্ঞা, প্রমাণের মানদণ্ড এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ আরও স্পষ্ট হবে। তার মতে, এই মামলা ভবিষ্যতে গণহত্যা সংক্রান্ত বিচারকার্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আইসিজিতে শুরু রোহিঙ্গা গণহত্যা বিচার, দশ বছর পর ন্যায়বিচারের পথে প্রথম ধাপ

আপডেট সময় ১২:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

 

প্রায় এক দশকের অপেক্ষার পর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজি) আজ সোমবার এই মামলার শুনানি শুরু হয়, যা টানা তিন সপ্তাহ চলবে।
বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া এই শুনানিতে রোহিঙ্গা সংকটের পটভূমি, সহিংসতার ধরন এবং দায় নির্ধারণের বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। মামলাটি নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করা জাতিসংঘের সংস্থা ‘ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’-এর প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে শুনানি শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার ভয়াবহতা বিশ্ববাসীর নজরে আসে। ওই বছরের জুলাইয়ে কয়েকটি নিরাপত্তা স্থাপনায় হামলার ঘটনার পর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। অভিযানের সময় নির্বিচার হত্যা, ধর্ষণ, গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে, যার ফলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বলে সরকারি হিসেবে জানা যায়।

আরও পড়ুন  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রোহিঙ্গা মুসলমান ঢুকিয়ে এক কোটি ভোট বাড়িয়েছেন: শুভেন্দু

সহিংসতার পরপরই জাতিসংঘের একটি স্বাধীন অনুসন্ধানী দল মাঠপর্যায়ে তদন্ত চালিয়ে তাদের প্রতিবেদনে সেনা অভিযানে গণহত্যার উপাদান থাকার কথা উল্লেখ করে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া আইসিজিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে মামলা করে।

সে সময় মিয়ানমারের সরকার ও তৎকালীন নেত্রী অং সান সুচি জাতিসংঘের প্রতিবেদন ও মামলার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, এসব অভিযোগ একপেশে ও বিভ্রান্তিকর। তবে ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর সুচি ক্ষমতাচ্যুত হন এবং বর্তমানে তিনি কারাবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

মামলার প্রধান তদন্তকারী নিকোলাস কৌমজিয়ান বলেন, এই বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গণহত্যার আইনি সংজ্ঞা, প্রমাণের মানদণ্ড এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ আরও স্পষ্ট হবে। তার মতে, এই মামলা ভবিষ্যতে গণহত্যা সংক্রান্ত বিচারকার্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।