ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, দাবি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের বক্স অফিসে ‘জেলার ২’-এর ঝড় আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব

মিয়ানমারের ভূমিকম্পে মৃত্যু ছাড়াল ৩ হাজার ৬০০, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও মিলছে মরদেহ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫
  • / 659

ছবি সংগৃহীত

 

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মিয়ানমারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬০০-এ। আহত হয়েছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ। এখনও চলছে উদ্ধার তৎপরতা, বিশেষ করে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মান্দালয় অঞ্চলে ধ্বংসস্তূপের নিচে মিলছে একের পর এক মরদেহ। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘর্ষের কারণে, যেখানে জাতিসংঘ জানিয়েছে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

গত ২৮ মার্চ দুপুরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে মিয়ানমার। এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও স্বাভাবিক হয়নি জনজীবন। ভূমিকম্পের পরপরই একাধিক আফটারশক দেশটির জনমানসে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মান্দালয়ে, যেখানে বহু ভবন ধসে পড়ে, রাস্তা-বাড়ি পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।

আরও পড়ুন  আফগানিস্তানে হিন্দুকুশ অঞ্চলে ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাত 

স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, এখনও উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষজনকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দুর্যোগের মধ্যে আরও বিপর্যয় হয়ে দেখা দিয়েছে প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়। এতে বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

চীনের উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্থাপন করেছে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র। মান্দালয়ের দুটি স্টেডিয়ামে গাদাগাদি করে বাস করছেন হাজারো মানুষ। তৃতীয় দফায় চীন থেকে এসেছে মানবিক সহায়তা। চীনা বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে প্রায় ৯০০টি ভবনের কাঠামো পর্যবেক্ষণ করেছেন, যাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো যায়।

তবে সবচেয়ে বড় বাধা দেশজুড়ে চলমান গৃহযুদ্ধ। জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে বহু দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছানো যাচ্ছে না জরুরি সহায়তা। জাতিসংঘ আশঙ্কা করছে, সহিংসতা অব্যাহত থাকলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও ব্যাহত হবে।

গৃহযুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক সংকট এই ত্রিমুখী দুর্যোগে বিপর্যস্ত মিয়ানমার। আন্তর্জাতিক সহায়তাই এখন তাদের একমাত্র ভরসা। মানবিক সংস্থাগুলোর মতে, সহিংসতা বন্ধ না হলে এই সংকট থেকে মিয়ানমারের উত্তরণ সম্ভব নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

মিয়ানমারের ভূমিকম্পে মৃত্যু ছাড়াল ৩ হাজার ৬০০, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও মিলছে মরদেহ

আপডেট সময় ০১:১২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫

 

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মিয়ানমারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬০০-এ। আহত হয়েছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ। এখনও চলছে উদ্ধার তৎপরতা, বিশেষ করে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মান্দালয় অঞ্চলে ধ্বংসস্তূপের নিচে মিলছে একের পর এক মরদেহ। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘর্ষের কারণে, যেখানে জাতিসংঘ জানিয়েছে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

গত ২৮ মার্চ দুপুরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে মিয়ানমার। এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও স্বাভাবিক হয়নি জনজীবন। ভূমিকম্পের পরপরই একাধিক আফটারশক দেশটির জনমানসে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মান্দালয়ে, যেখানে বহু ভবন ধসে পড়ে, রাস্তা-বাড়ি পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।

আরও পড়ুন  মিয়ানমারে বৌদ্ধ বিহারে দুই দফা বিমান হামলা, নিহত ১৪

স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, এখনও উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষজনকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দুর্যোগের মধ্যে আরও বিপর্যয় হয়ে দেখা দিয়েছে প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়। এতে বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

চীনের উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্থাপন করেছে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র। মান্দালয়ের দুটি স্টেডিয়ামে গাদাগাদি করে বাস করছেন হাজারো মানুষ। তৃতীয় দফায় চীন থেকে এসেছে মানবিক সহায়তা। চীনা বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে প্রায় ৯০০টি ভবনের কাঠামো পর্যবেক্ষণ করেছেন, যাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো যায়।

তবে সবচেয়ে বড় বাধা দেশজুড়ে চলমান গৃহযুদ্ধ। জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে বহু দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছানো যাচ্ছে না জরুরি সহায়তা। জাতিসংঘ আশঙ্কা করছে, সহিংসতা অব্যাহত থাকলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও ব্যাহত হবে।

গৃহযুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক সংকট এই ত্রিমুখী দুর্যোগে বিপর্যস্ত মিয়ানমার। আন্তর্জাতিক সহায়তাই এখন তাদের একমাত্র ভরসা। মানবিক সংস্থাগুলোর মতে, সহিংসতা বন্ধ না হলে এই সংকট থেকে মিয়ানমারের উত্তরণ সম্ভব নয়।