ঢাকা ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকাসহ ৪ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা: বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে আর জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ফক্স নিউজকে জেডি ভ্যান্স ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেয়ে মুক্তি পেলেন জামায়াত নেতা আজহারুল ইসলাম

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
  • / 147

ছবি: সংগৃহীত

 

দীর্ঘ নয় বছরের কারাবাস শেষে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম কারামুক্ত হয়েছেন। বুধবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) থেকে মুক্তি পান, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এর আগে, মঙ্গলবার সকালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আজহারুল ইসলামকে খালাস দেন আপিল বিভাগ। বিকেলে তার মুক্তির আদেশ সুপ্রিম কোর্ট থেকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন  লোকে লোকারণ্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, জামায়াতে ইসলামীর মহাসমাবেশ শুরু

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ বিষয়ে তিন পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত রায় দেন। এতে বলা হয়, যদি অন্য কোনো মামলা বা আইনগত কারণে আটক রাখার প্রয়োজন না থাকে, তবে আজহারুল ইসলামকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

রায়ে আরও বলা হয়, মামলার পুনর্মূল্যায়নে দেখা গেছে যে, তার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার মৌলিক নীতিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে। এতে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে। পূর্ববর্তী রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগগুলোর প্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন আদালত। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে তার দণ্ড বহাল রাখা যায় না।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। এরপর ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি তিনি আপিল করেন। শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

পরে আজহারুল ইসলাম রিভিউ আবেদন করলে, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ তা গ্রহণ করে এবং পুনরায় আপিল শুনানির সিদ্ধান্ত দেয়। এটি ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত প্রথম মামলা, যা রিভিউ শেষে পুনরায় আপিল শুনানির সুযোগ পেয়েছে।

এই ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে প্রায় এক দশক ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়ার অবসান ঘটল। জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তি দেশের রাজনৈতিক ও বিচারাঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেয়ে মুক্তি পেলেন জামায়াত নেতা আজহারুল ইসলাম

আপডেট সময় ১১:০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫

 

দীর্ঘ নয় বছরের কারাবাস শেষে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম কারামুক্ত হয়েছেন। বুধবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) থেকে মুক্তি পান, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এর আগে, মঙ্গলবার সকালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আজহারুল ইসলামকে খালাস দেন আপিল বিভাগ। বিকেলে তার মুক্তির আদেশ সুপ্রিম কোর্ট থেকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামে হত্যাকাণ্ড: তিন ভাইসহ পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ বিষয়ে তিন পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত রায় দেন। এতে বলা হয়, যদি অন্য কোনো মামলা বা আইনগত কারণে আটক রাখার প্রয়োজন না থাকে, তবে আজহারুল ইসলামকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

রায়ে আরও বলা হয়, মামলার পুনর্মূল্যায়নে দেখা গেছে যে, তার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার মৌলিক নীতিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে। এতে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে। পূর্ববর্তী রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগগুলোর প্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন আদালত। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে তার দণ্ড বহাল রাখা যায় না।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। এরপর ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি তিনি আপিল করেন। শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

পরে আজহারুল ইসলাম রিভিউ আবেদন করলে, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ তা গ্রহণ করে এবং পুনরায় আপিল শুনানির সিদ্ধান্ত দেয়। এটি ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত প্রথম মামলা, যা রিভিউ শেষে পুনরায় আপিল শুনানির সুযোগ পেয়েছে।

এই ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে প্রায় এক দশক ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়ার অবসান ঘটল। জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তি দেশের রাজনৈতিক ও বিচারাঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।