সেনা কর্মকর্তা তানজিম হত্যা মামলায় ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন
- আপডেট সময় ০৩:৫৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
- / 77
কক্সবাজারের চকরিয়ায় দেশজুড়ে বহুল আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এই মামলায় পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, চারজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং অপরাধে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত চত্বরে সাধারণ মানুষ, নিহত সেনা কর্মকর্তার স্বজন ও গণমাধ্যমকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। রায় ঘোষণার পরপরই আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কড়া পাহারায় প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম চৌধুরী জানান, দীর্ঘ শুনানি, ১৮ জন আসামির মধ্যে ১২ জনের সশরীরে উপস্থিতি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আলামত পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা শেষে বিজ্ঞ আদালত এ রায় দিয়েছেন। একই সাথে এই ঘটনার পর দায়ের হওয়া সংশ্লিষ্ট অস্ত্র মামলায়ও কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় অভিযুক্ত ১৮ জন আসামির বিরুদ্ধে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করেছিল। আসামিরা হলেন—জালাল উদ্দিন ওরফে বাবুল, হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ, আনোয়ার হাকিম, জিয়াবুল করিম, ইসমাইল হোসেন, নুরুল আমিন, নাছির উদ্দিন, আব্দুল করিম, মোহাম্মদ সাদেক, আনোয়ারুল ইসলাম, মোরশেদ আলম, শাহ আলম, আবু হানিফ, এনামুল হক ওরফে তোতলা এনাম, মো. এনাম, কামাল ওরফে ভেন্ডি কামাল ও মিনহাজ উদ্দিন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্তদের আলাদা নামের তালিকা জানা যায়নি।
২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় একটি বাড়ি থেকে ডাকাত দল মালামাল লুট করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে যায় সেনাবাহিনী। সেখানে ডাকাতদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে তাদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন মাত্র ২৩ বছর বয়সী তরুণ সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ২৫ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে ১৭ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও হত্যার অভিযোগে চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন অস্ত্র আইনে আরেকটি পৃথক মামলা করেন। পরবর্তীতে চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরী তদন্ত শেষে ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
বহুল প্রতীক্ষিত এই রায়ের পর নিহত সেনা কর্মকর্তা নির্জনের পরিবারের সদস্যরা গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

























