০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
নিউক্যাসলকে বিদায় করে লিগ কাপ ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটি কুমিল্লায় হাঁস চুরির সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা ‘আহার গ্রহণও করা যাবে না’: নির্বাচনে কর্মকর্তাদের কঠোর নিরপেক্ষতার নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কুষ্টিয়ায় জামায়াত-বিএনপির দফায় দফায় সংঘর্ষ বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ফরিদপুরকে বিভাগ করা হবে: তারেক রহমান বিশ্বের প্রথম ‘৮০০ বিলিয়ন’ ডলারের মালিক ইলন মাস্ক সোমবার বিটিভিতে ভাষণ দেবেন জামায়াত আমির ১০৫১ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ: নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে সরকারের বড় পদক্ষেপ ড্রাফটের আগে রিশাদকে ছেড়ে দিল লাহোর শান্তি ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য জুলুম করা যাবে না: সারজিস আলম

পুঁজিবাজার থেকে উধাও ১৫ হাজার কোটি টাকা: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের বিস্ফোরক দাবি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:২৬:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫
  • / 107

ছবি সংগৃহীত

 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন, ২০১০-১১ সালে দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিরা শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে।

শনিবার (২৪ মে) রাজধানীতে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনায় পুঁজিবাজার: দর্শন ও অনুশীলন’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, “শাস্তি না হলে অন্যায় ও দুর্নীতি কখনোই থামে না। আমরা ১৯৯৬ সালে দেখেছি, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় শেয়ারবাজারে বড় অনিয়ম হয়েছিল। হাজারো মানুষ পথে বসে গিয়েছিল। বিপুল পরিমাণ অর্থ বাজার থেকে তুলে নেওয়া হলেও কারো বিচার হয়নি। সেটাই ছিল পাপের সূচনা।”

তিনি বলেন, “রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারী নিঃস্ব হয়ে গেছেন। কোনো প্রকৃত কোম্পানি তালিকাভুক্ত না করে কৌশলে শেয়ারের দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু কারসাজিকারীদের শাস্তি না হওয়াই পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বড় সমস্যা। তাই শুধু টোটকা চিকিৎসা দিয়ে বাজারের উন্নতি সম্ভব নয়।”

ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, “পুঁজিবাজার একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রতিষ্ঠান। এটিকে ‘দিন এনে দিন খাওয়া’ ধরণের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা যায় না। বাজারকে স্থিতিশীল করতে হলে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে, আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। আর যদি তাও কাজ না করে, তাহলে বুঝতে হবে, সমস্যাটি গভীরতর।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন বিএসইসি কমিশনার মো. মোহসিন চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ, জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. তাজনুভা জাবিন ও আইসিএমএবি’র সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।

সেমিনারে বক্তারা পুঁজিবাজারে সুশাসন ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত একটি শক্তিশালী বাজার গঠনের আহ্বান জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

পুঁজিবাজার থেকে উধাও ১৫ হাজার কোটি টাকা: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের বিস্ফোরক দাবি

আপডেট সময় ০৮:২৬:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫

 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন, ২০১০-১১ সালে দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিরা শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে।

শনিবার (২৪ মে) রাজধানীতে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনায় পুঁজিবাজার: দর্শন ও অনুশীলন’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, “শাস্তি না হলে অন্যায় ও দুর্নীতি কখনোই থামে না। আমরা ১৯৯৬ সালে দেখেছি, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় শেয়ারবাজারে বড় অনিয়ম হয়েছিল। হাজারো মানুষ পথে বসে গিয়েছিল। বিপুল পরিমাণ অর্থ বাজার থেকে তুলে নেওয়া হলেও কারো বিচার হয়নি। সেটাই ছিল পাপের সূচনা।”

তিনি বলেন, “রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারী নিঃস্ব হয়ে গেছেন। কোনো প্রকৃত কোম্পানি তালিকাভুক্ত না করে কৌশলে শেয়ারের দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু কারসাজিকারীদের শাস্তি না হওয়াই পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বড় সমস্যা। তাই শুধু টোটকা চিকিৎসা দিয়ে বাজারের উন্নতি সম্ভব নয়।”

ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, “পুঁজিবাজার একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রতিষ্ঠান। এটিকে ‘দিন এনে দিন খাওয়া’ ধরণের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা যায় না। বাজারকে স্থিতিশীল করতে হলে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে, আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। আর যদি তাও কাজ না করে, তাহলে বুঝতে হবে, সমস্যাটি গভীরতর।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন বিএসইসি কমিশনার মো. মোহসিন চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ, জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. তাজনুভা জাবিন ও আইসিএমএবি’র সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।

সেমিনারে বক্তারা পুঁজিবাজারে সুশাসন ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত একটি শক্তিশালী বাজার গঠনের আহ্বান জানান।