ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
আগামী ২ জুলাই শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী বিগত দুই সরকার হামের টিকা না দিয়ে ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে: প্রধানমন্ত্রী পল্লবীতে নিরাপত্তা প্রহরী সালাহউদ্দিন হত্যা: ঘাতক অটোরিকশা চালক গ্রেপ্তার রোহিঙ্গা সংকটের কার্যকর সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান থালাপতি বিজয়ের বিরুদ্ধে চেন্নাই পুলিশের মামলা বিসিএস ক্যাডার, প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী; এক নজরে সালাহউদ্দিন আহমদ ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে: দাবি ট্রাম্পের সংসার সুখের করতে স্বামীকে কৃতজ্ঞতা জানানোর দিন আজ খুলনা পুলিশ লাইনে কনস্টেবলের রহস্যজনক আত্মহত্যা জিলকদ মাসের চাঁদ দেখতে সন্ধ্যায় বসছে জাতীয় কমিটি

মঙ্গলে গ্রহাণুর আঘাতে জীবনের সম্ভাবনা খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:২০:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / 250

ছবি সংগৃহীত

 

মঙ্গল গ্রহ, যা আমাদের সৌরজগতের ‘লাল গ্রহ’ নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। অজস্র মিশন, গবেষণা ও কল্পনা ঘিরে আছে এই প্রতিবেশী গ্রহটিকে ঘিরে মানুষ একদিন কি সত্যিই মঙ্গলে বসবাস করতে পারবে?

মঙ্গলের বুকে রয়েছে পারক্লোরেট নামের একটি বিষাক্ত রাসায়নিক, যা মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। পাশাপাশি এর বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত পাতলা, মূলত কার্বন ডাই-অক্সাইডে পূর্ণ। এই পরিবেশে শ্বাস নেওয়া তো দূরের কথা, মানুষের শরীরের জলীয় অংশ দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে। তাই মঙ্গলে জীবনধারণ এখনো অসম্ভব এক চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুন  মহাকাশ স্টেশনে নতুন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

তবে আশার আলো দেখাচ্ছেন পোল্যান্ডের ‘পোলিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস’-এর গবেষক লেজেক চেকভস্কি। তিনি মঙ্গলকে প্রাণের উপযোগী করতে এক অভিনব পদ্ধতির প্রস্তাব দিয়েছেন মঙ্গলে গ্রহাণুর পরিকল্পিত সংঘর্ষ। তাঁর মতে, বরফে মোড়ানো গ্রহাণু যদি মঙ্গলের বুকে সংঘর্ষ করে, তবে তাতে উৎপন্ন তাপ ও গ্যাস মিশে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে নাটকীয় পরিবর্তন আনতে পারে।

এই পদ্ধতির মাধ্যমে একদিকে যেমন কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব বাড়তে পারে, তেমনি মুক্তি পেতে পারে জলীয় বাষ্প ও অন্যান্য সহায়ক গ্যাস। ফলে গড়ে উঠতে পারে একটি ঘন বায়ুমণ্ডল, যা ভবিষ্যতে গাছপালা জন্মাতে এবং জীবনের অস্তিত্ব ধরে রাখতে সহায়ক হবে।

অন্যান্য বিজ্ঞানীরা এর আগেও অ্যান্টার্কটিকার মতো পরিবেশে টিকে থাকা লাইকেন ও মস জাতীয় উদ্ভিদের কথা বলেছিলেন, যা মঙ্গলের চরম পরিবেশে বেঁচে থাকতে সক্ষম হতে পারে।

মঙ্গলের বুকে প্রাণের বসতি গড়ার স্বপ্ন যদিও এখনও বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে, তবু বিজ্ঞানীরা থেমে নেই। প্রতিটি নতুন তত্ত্ব, প্রতিটি পরীক্ষাই আমাদের আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মহাজাগতিক ভবিষ্যতের পথে। মঙ্গল হয়তো একদিন সত্যিই মানুষের দ্বিতীয় ঠিকানা হয়ে উঠবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মঙ্গলে গ্রহাণুর আঘাতে জীবনের সম্ভাবনা খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা

আপডেট সময় ০৫:২০:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৫

 

মঙ্গল গ্রহ, যা আমাদের সৌরজগতের ‘লাল গ্রহ’ নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। অজস্র মিশন, গবেষণা ও কল্পনা ঘিরে আছে এই প্রতিবেশী গ্রহটিকে ঘিরে মানুষ একদিন কি সত্যিই মঙ্গলে বসবাস করতে পারবে?

মঙ্গলের বুকে রয়েছে পারক্লোরেট নামের একটি বিষাক্ত রাসায়নিক, যা মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। পাশাপাশি এর বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত পাতলা, মূলত কার্বন ডাই-অক্সাইডে পূর্ণ। এই পরিবেশে শ্বাস নেওয়া তো দূরের কথা, মানুষের শরীরের জলীয় অংশ দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে। তাই মঙ্গলে জীবনধারণ এখনো অসম্ভব এক চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুন  মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে রহস্যময় সংকেত: ডার্ক ম্যাটারের নতুন ইঙ্গিত?

তবে আশার আলো দেখাচ্ছেন পোল্যান্ডের ‘পোলিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস’-এর গবেষক লেজেক চেকভস্কি। তিনি মঙ্গলকে প্রাণের উপযোগী করতে এক অভিনব পদ্ধতির প্রস্তাব দিয়েছেন মঙ্গলে গ্রহাণুর পরিকল্পিত সংঘর্ষ। তাঁর মতে, বরফে মোড়ানো গ্রহাণু যদি মঙ্গলের বুকে সংঘর্ষ করে, তবে তাতে উৎপন্ন তাপ ও গ্যাস মিশে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে নাটকীয় পরিবর্তন আনতে পারে।

এই পদ্ধতির মাধ্যমে একদিকে যেমন কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব বাড়তে পারে, তেমনি মুক্তি পেতে পারে জলীয় বাষ্প ও অন্যান্য সহায়ক গ্যাস। ফলে গড়ে উঠতে পারে একটি ঘন বায়ুমণ্ডল, যা ভবিষ্যতে গাছপালা জন্মাতে এবং জীবনের অস্তিত্ব ধরে রাখতে সহায়ক হবে।

অন্যান্য বিজ্ঞানীরা এর আগেও অ্যান্টার্কটিকার মতো পরিবেশে টিকে থাকা লাইকেন ও মস জাতীয় উদ্ভিদের কথা বলেছিলেন, যা মঙ্গলের চরম পরিবেশে বেঁচে থাকতে সক্ষম হতে পারে।

মঙ্গলের বুকে প্রাণের বসতি গড়ার স্বপ্ন যদিও এখনও বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে, তবু বিজ্ঞানীরা থেমে নেই। প্রতিটি নতুন তত্ত্ব, প্রতিটি পরীক্ষাই আমাদের আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মহাজাগতিক ভবিষ্যতের পথে। মঙ্গল হয়তো একদিন সত্যিই মানুষের দ্বিতীয় ঠিকানা হয়ে উঠবে।