ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
ভারী বৃষ্টিতে রেল চলাচল বন্ধ, ৫ ফিট উঁচু করবে সরকার: রেল প্রতিমন্ত্রী মানিকগঞ্জে শ্রমিকদের অবরোধে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট কাল জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ স্পেনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ট্রাম্প জরিপে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্টি ৭৫.৩ শতাংশ, দাবি ডেল্টাগ্রামের ‘ভেবেছিলাম আমিই দলকে ডুবিয়ে দিলাম’— মেসি জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রস্তুত করছে ইসি তীব্র গরমে মক্কা-মদিনায় সতর্কতা, ধূলিঝড় ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস পঞ্চদশ সংশোধনী মামলায় আপিল বিভাগের রায় বৃহস্পতিবার

টানা ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস: রয়েছে জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের ঝুঁকি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:২৮:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • / 31

ছবি: সংগৃহীত

 

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রামসহ পার্বত্য এলাকায় ভূমিধস এবং চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে ভারতের মধ্যপ্রদেশ অঞ্চলে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। তবে এর প্রভাবে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে, যা আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত রাখতে পারে।

আরও পড়ুন  ভবদহ অঞ্চলে জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত কৃষি, এবছর বোরো চাষ অনিশ্চিত

বুধবার (৮ জুলাই) সকালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৩১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বান্দরবানে। একই সময়ে রাজধানী ঢাকায় ৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা চলতি মৌসুমে এক দিনে সর্বোচ্চ।

আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে। এর ফলে ১১ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ১০ জুলাই থেকে ঢাকাসহ দেশের মধ্যাঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুধবার সকালের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বুধবার বিকেল ৩টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এতে চট্টগ্রাম মহানগরের কিছু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, ওডিশা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দুর্বল হয়ে বর্তমানে পূর্ব-মধ্যপ্রদেশ ও আশপাশের এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। তবে এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের পার্থক্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতেও বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

টানা ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস: রয়েছে জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের ঝুঁকি

আপডেট সময় ১২:২৮:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

 

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রামসহ পার্বত্য এলাকায় ভূমিধস এবং চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে ভারতের মধ্যপ্রদেশ অঞ্চলে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। তবে এর প্রভাবে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে, যা আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত রাখতে পারে।

আরও পড়ুন  দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ৭ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস

বুধবার (৮ জুলাই) সকালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৩১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বান্দরবানে। একই সময়ে রাজধানী ঢাকায় ৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা চলতি মৌসুমে এক দিনে সর্বোচ্চ।

আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে। এর ফলে ১১ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ১০ জুলাই থেকে ঢাকাসহ দেশের মধ্যাঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুধবার সকালের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বুধবার বিকেল ৩টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এতে চট্টগ্রাম মহানগরের কিছু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, ওডিশা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দুর্বল হয়ে বর্তমানে পূর্ব-মধ্যপ্রদেশ ও আশপাশের এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। তবে এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের পার্থক্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতেও বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।