ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
আলোচনায় ‘ভাইকিং রো’, কী এই বিশেষ উদযাপন? আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রশাসনে ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগীদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০.৮ মিমি বৃষ্টি, চট্টগ্রামে তীব্র জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ ইরানের হামলার ঝুঁকিতে উপসাগরীয় ঘাঁটি সরানোর পরামর্শ সাবেক সেন্টকম প্রধানের এনসিপির জনসভায় হামলা রাজনীতির জন্য ‘কালো অধ্যায়’: ইশরাক হোসেন বিকাল ৩টায় বাজেট দ্বিতীয় অধিবেশনের শুরু তেহরান থেকে কওমে খামেনির মরদেহ, শোকযাত্রায় লাখো মানুষ ন্যাটো সম্মেলনের আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, নিহত অন্তত ২০ এনসিপির কর্মসূচিতে বিস্ফোরণ; পুলিশের তদন্ত কমিটি গঠন

২৪ ঘণ্টায় ৩৩০.৮ মিমি বৃষ্টি, চট্টগ্রামে তীব্র জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৩৯:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • / 5

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিপাতে তীব্র জলাবদ্ধতায় জনজীবন বিপর্যস্ত। টানা বর্ষণে গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীতে ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের প্রভাবে নগরীর বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে নগরজুড়ে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাতের তথ্য জানিয়ে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, এ সময়ে ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

তিনি জানান, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে। একই সময়ে কর্ণফুলী নদীতে জোয়ার শুরু হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হয়নি। এতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

আরও পড়ুন  ফের টানা কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর

সকালের ভারী বৃষ্টির পর আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, কাজীরহাট, হালিশহর, চান্দগাঁও, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, আকমল আলী রোড, পতেঙ্গা ও কুয়াইশসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। এতে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অনেক কর্মজীবী মানুষ জুতা হাতে নিয়ে ও প্যান্ট গুটিয়ে কর্মস্থলে যেতে বাধ্য হন। গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকট দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

অতিরিক্ত বৃষ্টিতে অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে আসবাবপত্র ও মালামালের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। চকবাজারের বিভিন্ন অলিগলিতে পানি জমে স্বাভাবিক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

আগ্রাবাদের বাসিন্দা জিয়া উদ্দিন বলেন, প্রতি বর্ষায় একই ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হলেও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মতিঝরনা, আকবরশাহ, ১ নম্বর ঝিল, ২ নম্বর ঝিল, বিজয়নগর, জিয়ানগর, বেলতলীঘোনা, খুলশী, বায়েজিদ ও সলিমপুরসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে এখনও অনেক পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে অবস্থান করছে।

পাহাড়ধসের আশঙ্কায় লালখান বাজার ও আকবরশাহ এলাকার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের একাধিক দল বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন, খাল ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ স্থান থেকে আবর্জনা অপসারণ এবং পানি নিষ্কাশনের কাজ করছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

২৪ ঘণ্টায় ৩৩০.৮ মিমি বৃষ্টি, চট্টগ্রামে তীব্র জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ

আপডেট সময় ০৬:৩৯:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিপাতে তীব্র জলাবদ্ধতায় জনজীবন বিপর্যস্ত। টানা বর্ষণে গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীতে ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের প্রভাবে নগরীর বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে নগরজুড়ে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাতের তথ্য জানিয়ে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, এ সময়ে ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

তিনি জানান, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে। একই সময়ে কর্ণফুলী নদীতে জোয়ার শুরু হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হয়নি। এতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি

সকালের ভারী বৃষ্টির পর আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, কাজীরহাট, হালিশহর, চান্দগাঁও, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, আকমল আলী রোড, পতেঙ্গা ও কুয়াইশসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। এতে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অনেক কর্মজীবী মানুষ জুতা হাতে নিয়ে ও প্যান্ট গুটিয়ে কর্মস্থলে যেতে বাধ্য হন। গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকট দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

অতিরিক্ত বৃষ্টিতে অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে আসবাবপত্র ও মালামালের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। চকবাজারের বিভিন্ন অলিগলিতে পানি জমে স্বাভাবিক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

আগ্রাবাদের বাসিন্দা জিয়া উদ্দিন বলেন, প্রতি বর্ষায় একই ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হলেও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মতিঝরনা, আকবরশাহ, ১ নম্বর ঝিল, ২ নম্বর ঝিল, বিজয়নগর, জিয়ানগর, বেলতলীঘোনা, খুলশী, বায়েজিদ ও সলিমপুরসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে এখনও অনেক পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে অবস্থান করছে।

পাহাড়ধসের আশঙ্কায় লালখান বাজার ও আকবরশাহ এলাকার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের একাধিক দল বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন, খাল ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ স্থান থেকে আবর্জনা অপসারণ এবং পানি নিষ্কাশনের কাজ করছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।