জরিপে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্টি ৭৫.৩ শতাংশ, দাবি ডেল্টাগ্রামের
- আপডেট সময় ০৩:৪১:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
- / 16
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডেল্টাগ্রামের জাতীয় জনমত জরিপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব পালনের প্রতি দেশের ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষের সন্তুষ্টির তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের মধ্যে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, আর ৭ দশমিক ২ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মতামত দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠনের চার মাস পর পরিচালিত এ জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে ডেল্টাগ্রাম। গত ১২ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত দেশের তিন হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর জরিপটি পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাক্ষাৎকারগ্রহণকারীরা মাঠপর্যায়ে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করেন।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, রংপুর বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্টির হার সবচেয়ে বেশি, যা ৮৩ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে ঢাকা বিভাগে এ হার সবচেয়ে কম, ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ।
শহর ও গ্রামের উত্তরদাতাদের মতামতেও পার্থক্য পাওয়া গেছে। গ্রামীণ এলাকার ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। শহরাঞ্চলে এ হার ৭০ দশমিক ১ শতাংশ।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে প্রায় সব বয়সী মানুষের মধ্যে সমর্থনের হার কাছাকাছি থাকলেও ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে সন্তুষ্টির হার তুলনামূলক কম, যা ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ।
জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিজয়ের মাধ্যমে ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সরকার গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ও রয়েছে।
ডেল্টাগ্রাম জানিয়েছে, জরিপটির পরিকল্পনা, অর্থায়ন, পরিচালনা ও তথ্য সংগ্রহ সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন হয়েছে। এ কাজে কোনো বাণিজ্যিক জরিপ প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়নি। জরিপের আগে সাক্ষাৎকারগ্রহণকারীদের প্রশ্নপত্র ব্যবহার ও নমুনা নির্বাচন পদ্ধতি বিষয়ে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হওয়া, সাক্ষাৎকারে অস্বীকৃতি এবং যোগাযোগ ব্যর্থ হওয়ার তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে রংপুর ও ঢাকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেলেও গবেষকরা এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, বিভাগভিত্তিক নমুনার আকার জাতীয় নমুনার তুলনায় ছোট হওয়ায় এই পার্থক্যের একটি অংশ নমুনা নির্বাচনের স্বাভাবিক তারতম্যের ফল হতে পারে। তাই বিভাগগুলোর অবস্থান নির্ধারণে এসব ফলাফলকে চূড়ান্ত নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ সাক্ষাৎকার সরাসরি এবং ৩০ শতাংশ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে। সরাসরি সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ, আর মোবাইল ফোনে নেওয়া সাক্ষাৎকারে ছিল ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ।
ডেল্টাগ্রামের ভাষ্য অনুযায়ী, তথ্য সংগ্রহের দুই পদ্ধতির ফলাফলের মধ্যে পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি। তবে সরকার পরিবর্তনের অল্প সময়ের মধ্যে সামনাসামনি সাক্ষাৎকারে উত্তরদাতারা তুলনামূলক নিরাপদ বোধ করে মতামত দিয়ে থাকতে পারেন—এ সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে আরও জরিপ প্রয়োজন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জরিপে দুই ধাপের স্তরভিত্তিক সম্ভাব্যতা নমুনা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। দেশের আটটি বিভাগের ১৫০টি প্রাথমিক নমুনা এলাকা থেকে জনসংখ্যার অনুপাতে নমুনা নির্বাচন করা হয়। প্রতিটি এলাকা থেকে ২০টি করে সাক্ষাৎকার নিয়ে মোট তিন হাজার মানুষের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
জরিপের সাড়া দেওয়ার হার ছিল ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বিভাগ, শহর-গ্রাম, লিঙ্গ, বয়স ও শিক্ষাগত তথ্যের ভিত্তিতে ফলাফল সমন্বয় করা হয়েছে। সমন্বয়ের আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ, যা সমন্বয়ের পর ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নমুনা নকশার প্রভাব বিবেচনায় জাতীয় পর্যায়ে ৯৫ শতাংশ নির্ভরযোগ্যতার ভিত্তিতে সম্ভাব্য নমুনাগত ত্রুটির সীমা প্রায় ২ দশমিক ১ থেকে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। বিভাগভেদে এ ত্রুটির সীমা আরও বেশি হতে পারে। ঢাকা বিভাগে তা প্রায় ৪ শতাংশ এবং তুলনামূলক ছোট বিভাগগুলোতে প্রায় ৯ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।






















