ভারী বৃষ্টিতে রেল চলাচল বন্ধ, ৫ ফিট উঁচু করবে সরকার: রেল প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৮:০৭:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
- / 13
বুধবার, ৮ জুলাই সকালে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে গ্যাংকারে করে নগরের পানিতে তলিয়ে যাওয়া রেললাইন পরিদর্শন করেন রেল প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, প্রশাসন ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। গণমাধ্যমকর্মীরাও পরিদর্শন দলে উপস্থিত ছিলেন।
টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের সুন্নিয়া মাদরাসা থেকে শমসেরপাড়া পর্যন্ত রেলপথ পানির নিচে চলে যায়। এর ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। মঙ্গলবার, ৭ জুলাই সকাল পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও দুপুরের পর থেকে এ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এই পথে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে, যার মধ্যে দুই জোড়া চট্টগ্রাম থেকে এবং দুই জোড়া ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যাতায়াত করে।
রেলওয়ের ষোলোশহর-জানালিহাট সেকশনের প্রায় চার কিলোমিটার এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে রেললাইন থেকে পানি নামেনি।
পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, ষোলোশহর স্টেশন অতিক্রম করার পর থেকেই রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মুরাদপুর হয়ে সুন্নিয়া মাদরাসা এলাকায় পৌঁছালে আশপাশের খাল, সড়ক, রেলপথ ও বসতবাড়ির আঙিনা পানিতে একাকার হয়ে আছে। শমসেরপাড়া এলাকায় গিয়ে রেললাইন সম্পূর্ণ পানির নিচে থাকায় সেটি আলাদাভাবে শনাক্ত করাও সম্ভব হয়নি।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেললাইন প্রায় ৫ ফুট উঁচু করা হবে। তার ভাষ্য, রেললাইন উঁচু করা হলে ভবিষ্যতে তিন ফুট পর্যন্ত পানি বাড়লেও ট্রেন চলাচলে সমস্যা হবে না।
তিনি আরও বলেন, গত দুই দিনের বৃষ্টিপাত চট্টগ্রামের জন্য রেকর্ড পরিমাণ। অনেকের মতে, গত ৪৫ বছরের মধ্যে এত বৃষ্টিপাত হয়নি। তাই ভবিষ্যতে ভারী বর্ষণেও যাতে রেল চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রেলপথ নির্মাণে কোনো ত্রুটি নেই বলেও দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোথাও দুই ফুট, কোথাও তিন ফুট পর্যন্ত পানি জমেছে। এসব তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় উচ্চতা নির্ধারণ করে রেললাইন নির্মাণ করা যায়।
টানা বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রেন পরিচালনা করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। যেসব যাত্রী টিকিট কেটেও ভ্রমণ করতে পারেননি, তাদের টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
পরিদর্শনের সময় বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীনসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।























