প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩১৭ রান
- আপডেট সময় ০৯:২৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 27
আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের প্রথম দিনে দারুণ সূচনা করেও শেষ পর্যন্ত চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। দুই ওপেনারের অর্ধশতকে উদ্বোধনী জুটিতে ১২৪ রান তুলে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল স্বাগতিকরা। তবে দ্বিতীয় সেশনে মাত্র ৪ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে দলটি। পরে লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও দিন শেষে ৮ উইকেটে ৩১৭ রান করেছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার প্রথম দিনের খেলা শেষে নাঈম হাসান ১১ ও তাইজুল ইসলাম ৪ রানে অপরাজিত রয়েছেন। লিটন দাস করেছেন ৫৩ রান, আর মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাট থেকে এসেছে ২৪ রান। শনিবার দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন নাঈম ও তাইজুল।
দিনের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও তানজিদ হাসান শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাটিং করেন। সাদমান খেলেন সতর্কভাবে, আর তানজিদ ছিলেন আক্রমণাত্মক। মাত্র ৪১ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তানজিদ। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর দ্বিতীয় অর্ধশতক। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন এই ওপেনার।
অন্য প্রান্তে সাদমানও ধীরে ধীরে ইনিংস বড় করতে থাকেন। শুরুতেই পাঁচ রানে ক্যাচ দিয়ে জীবন পান তিনি। কাভারে তাঁর ক্যাচ নিতে পারেননি আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তানজিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বোধনী জুটি গড়ে তোলেন সাদমান।
মাত্র ১৮ ওভারেই উদ্বোধনী জুটিতে শতরান পূর্ণ করে বাংলাদেশ। গত বছরের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের পর আবারও শতরানের উদ্বোধনী জুটি পেল দলটি। তানজিদ ও সাদমানের জুটিতে আসে ১২৪ রান। মাত্র ৭১ বলে ৮৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তানজিদ। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগালেও ইসমত আলমের বলে উইকেটের পেছনে ইকরাম আলিখিলের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন তিনি।
তানজিদ ফেরার পরও বাংলাদেশের রান তোলার গতি কমেনি। প্রথম সেশন শেষে ১ উইকেটে ১৩৪ রান তুলে ভালো অবস্থানে ছিল স্বাগতিকরা। সাদমান তখন ৪১ রানে অপরাজিত ছিলেন। অন্য প্রান্তে মুমিনুল হক যোগ করেন পাঁচ রান।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেও সাবলীল ব্যাটিং করছিল বাংলাদেশ। তবে ৬৭ রান করে সাদমানের বিদায়ের পর পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। মোহাম্মদ সেলিম সাফির শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। স্কয়ার লেগে থাকা জিয়া-উর-রহমান ক্যাচটি নেন। তানজিদের মতো সাদমানকেও ফিরতে হয় অর্ধশতকের পর।
এরপর মুমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন দলকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ৩৯ রান করে মুমিনুলের বিদায়ের পর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বলে কাভারে রহমত শাহর হাতে ক্যাচ দেন মুমিনুল। কিছুক্ষণ পর একই বোলারের বলে শূন্য রানে বোল্ড হন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। এরপর কায়েস আহমেদের বলে ২৯ রান করে আউট হন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন।
একসময় ২ উইকেটে ২২১ রান করা বাংলাদেশ মাত্র ৪ রান যোগ করতেই আরও তিন উইকেট হারায়। ২২৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বড় চাপে পড়ে দলটি। পেসারদের নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ ও গতির পাশাপাশি স্পিনারদের কার্যকর বোলিংয়ে ম্যাচে ফিরে আসে আফগানিস্তান।
এ অবস্থায় দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজনের জুটিতে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৪২ রান। তবে ২৪ রান করে ফিরতে হয় মিরাজকে। ইসমত আলমের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাটের স্পর্শ লেগে স্টাম্পে আঘাত করলে তাঁর ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।
এরপর দলের ভরসা হয়ে ওঠেন লিটন। দীর্ঘদিন বড় ইনিংসের অপেক্ষায় থাকা এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান শুরুতে ধীরে খেললেও পরে ছন্দ ফিরে পান। মোহাম্মদ সেলিম সাফির বলে চার মেরে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। আগের তিন ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া লিটনের জন্য এই ফিফটি ছিল স্বস্তির। তবে অর্ধশতকের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। সেলিম সাফির বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ৫৩ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
লিটনের বিদায়ের পর আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ দিকে নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম উইকেটে থেকে দলকে ৩১৭ রানে পৌঁছে দেন। দুজনই অপরাজিত থাকায় দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
প্রথম সেশনে তানজিদ ও সাদমানের ব্যাটে বড় সংগ্রহের আশা জাগলেও পরের দুই সেশনে ঘুরে দাঁড়ায় আফগানিস্তান। বাংলাদেশের আট উইকেট তুলে নিয়ে দিন শেষ করেছে সফরকারীরা। দ্বিতীয় দিনে শেষ দুই উইকেট হাতে নিয়ে যতটা সম্ভব রান বাড়ানোই এখন স্বাগতিকদের লক্ষ্য, যাতে প্রথম ইনিংসে লড়াই করার মতো সংগ্রহ দাঁড় করানো যায়।

























