প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ছবি দেখে বাঁশবাড়ি কলোনি পরিদর্শনে পরিবেশমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৯:৫১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 35
ময়মনসিংহ নগরের বাঁশবাড়ি কলোনির দেয়ালে দেয়ালে এখন শোভা পাচ্ছে নানা প্রজাতির ফুল ও পাতাবাহারের গাছ। অব্যবহৃত ঝুড়ি, বালতি ও মগে গাছ লাগিয়ে এলাকার পরিবেশ বদলে দিয়েছেন চার তরুণ। একসময় যে সড়কে আবর্জনার দুর্গন্ধ ছড়াত, সেখানে এখন ফুলের সুবাস। চার তরুণের এই উদ্যোগ দেখতে কলোনিটি পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশবাড়ি কলোনি ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি পরিবেশ উন্নয়নে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বাঁশবাড়ি কলোনির একটি ছবি পাঠিয়েছিলেন। ছোট একটি সড়ককে স্থানীয় মানুষ যেভাবে সুন্দর করে তুলেছেন, তা দেখে তিনি অভিভূত হয়েছেন। মানুষের বসবাসের স্থান পরিষ্কার রাখা এবং সেখানে গাছ লাগানোর মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানো প্রয়োজন।
মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় মানুষের মধ্যে এ ধরনের উদ্যোগের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে হবে। দেশের অন্যান্য শহরেও বাঁশবাড়ি কলোনির মতো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা যায় কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে এমন উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, সরকার পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর কথা বললেও লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ বছর সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় কোটি গাছ লাগানোর আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধক গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চার তরুণের উদ্যোগে বদলে গেছে কলোনির পরিবেশ
২০২৩ সালে বাঁশবাড়ি কলোনির ভাঙাচোরা সড়ক ও নালা সংস্কার করে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। সংস্কার করা সড়ক ও উন্নত পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে এলাকার পরিবেশ বদলে দেওয়ার উদ্যোগ নেন চার তরুণ—মুরাদ হাসান কানন, মেহেদী হাসান মুহিত, সাইফুল ইসলাম ও উত্তম সরকার।
এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁরা দেয়ালে বাগান করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বাসিন্দারাও তাঁদের উদ্যোগে সমর্থন দেন। এরপর মাত্র তিন মাসে কলোনির প্রায় ৮০০ ফুট সড়কের দুই পাশের দেয়ালে গড়ে তোলা হয় বাগান।
অব্যবহৃত ঝুড়ি, বালতি ও মগকে টব হিসেবে ব্যবহার করে সেখানে লাগানো হয় নানা প্রজাতির ফুল ও পাতাবাহার। কোথাও অর্কিড, কোথাও সুগন্ধি ফুলের গাছ। রাতে হাসনাহেনার সুবাস ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। গাছের ফাঁকে লাগানো কাগজে লেখা রয়েছে—‘এ গাছগুলো বিক্রির জন্য নহে’।
উদ্যোক্তা মুরাদ হাসান বলেন, ‘আমাদের ছোট একটি উদ্যোগ এলাকার পরিবেশ বদলে দিয়েছে। আজ মন্ত্রী এসে ঘুরে দেখলেন। এটি আমাদের জন্য আরও অনেক বেশি প্রেরণার।’
পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ও মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন এবং বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিমসহ অন্যরা।






















