স্পেনের কাছে ইংল্যান্ডের হারের পেছনে কি ম্যানচেস্টার সিটির প্রভাব?
- আপডেট সময় ১১:৪৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 22
তারকাসমৃদ্ধ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েম্বলিতে ৩-২ গোলে জয় পেয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচটিতে লড়াই হলেও ইংল্যান্ডের কয়েকটি অস্বাভাবিক ভুল শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয়। আর সেই ভুলগুলোর পরিপ্রেক্ষিতেই আলোচনায় এসেছে ম্যানচেস্টার সিটির নাম।
ইংল্যান্ডের হারের আগের দিনই প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ম্যানচেস্টার সিটিকে দায়ী করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। তবে ক্লাবটির বিরুদ্ধে কী শাস্তি দেওয়া হবে, তা এখনো জানানো হয়নি। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, সিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ওপর ওই খবরের কোনো মানসিক প্রভাব পড়েছিল কি না।
ইংল্যান্ডের শুরুর একাদশে ছিলেন সিটির তিন খেলোয়াড়—এলিয়ট অ্যান্ডারসন, মার্ক গুয়েহি ও নিকো ও’রাইলি। অন্যদিকে স্পেনের হয়ে মাঠে নামেন সিটির সাবেক মিডফিল্ডার রদ্রি। সাত বছর সিটিতে কাটানোর পর চলতি মৌসুমে তিনি বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছেন।
ম্যাচে এই চার খেলোয়াড়ের মধ্যে তিনজনের কিছু ভুল সরাসরি গোলের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গুয়েহির কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে গোল করেন লামিনে ইয়ামাল। দ্বিতীয়ার্ধে জুড বেলিংহামকে রদ্রির করা চ্যালেঞ্জের পর পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
এরপর নিকো ও’রাইলির নিজেদের অর্ধে দেওয়া একটি পাস প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের কাছে চলে যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অ্যালেক্স বায়েনা স্পেনকে আবার সমতায় ফেরান। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে ম্যাচ জিতে নেয় স্পেন।
এই ভুলগুলোর পরই প্রশ্ন উঠেছে, সিটির আর্থিক মামলার রায়ের খবর ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মনোযোগে কোনো প্রভাব ফেলেছিল কি না।
সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধিনায়ক রয় কিনের মতে, এমন প্রভাব থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আইটিভি স্পোর্টসকে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে খেলোয়াড়দের সম্পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, সিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের ওপর ওই খবরের প্রভাব পড়ে থাকতে পারে।
তবে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল সরাসরি এমন কোনো প্রভাবের কথা বলেননি। তাঁর ভাষ্য, বিষয়টি তাঁর নিজের ক্ষেত্রে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি করেনি। তবে খেলোয়াড়দের হাতে তাঁর চেয়ে বেশি সময় থাকায় তাঁরা নিজেদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে থাকতে পারেন।
অধিনায়ক হ্যারি কেইনও ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, সিটির বিষয়টি নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে আলোচনা হলেও ইংল্যান্ডের হয়ে মাঠে নামার সময় তাঁরা ক্লাব ফুটবলকে এক পাশে সরিয়ে রাখেন। তাঁর দাবি, এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি।
সিটির মামলায় কী হয়েছে
শুক্রবার দ্য অ্যাথলেটিক ও বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়মসংক্রান্ত ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতে ম্যানচেস্টার সিটিকে দায়ী করা হয়েছে। তবে এখনো ক্লাবটির শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি।
সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে প্রিমিয়ার লিগে পয়েন্ট কাটা, প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কার কিংবা বড় অঙ্কের জরিমানার মতো পদক্ষেপের কথা আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের কয়েকটি ক্লাব আইনি পরামর্শ নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।
অভিযোগগুলোর সময়কাল ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত। এই সময়ে ম্যানচেস্টার সিটি তিনবার প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছিল।
তবে সিটির মামলার খবর এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্পেনের জয়ের মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি। খেলোয়াড়দের মনোযোগে এর প্রভাব পড়েছিল কি না, সেটিও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

























