ঢাকা ০১:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬

অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে সাগরে স্পেনের ব্যারিয়ার নির্মাণ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৪১:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 22

ছবি: সংগৃহীত

 

উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বশাসিত অঞ্চল সেউটায় ব্যাপক অভিবাসী অনুপ্রবেশের পর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে সমুদ্রে ৫০০ মিটার দীর্ঘ একটি প্রতিরোধক ব্যারিয়ার নির্মাণ করেছে স্পেন সরকার।
সোমবার (৩ আগস্ট) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ১০ হাজারের বেশি অভিবাসী সেউটায় প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

স্পেনীয় কর্তৃপক্ষ শনিবার (১ আগস্ট) জানায়, অনুপ্রবেশের সময় সাঁতরে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা এবং ব্রেকওয়াটার ব্যারিয়ার এলাকায় সৃষ্ট হুড়োহুড়িতে অন্তত ৬৭ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপ অভিযান শুরু স্পেনের, প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সেউটার সীমান্ত এলাকায় হঠাৎ ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার অভিবাসীর সমাগম একটি বড় মানবিক সংকট তৈরি করে। পরে তাদের একটি বড় অংশ মরক্কোয় ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

মেডিটেরেনিয়ান সাগরের প্রবেশমুখ ও জিব্রাল্টার প্রণালির কাছে অবস্থিত সেউটা ১৫৮০ সাল থেকে স্পেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সাম্প্রতিক এই অনুপ্রবেশের ঘটনায় দেশটির ডানপন্থী ও উগ্র-ডানপন্থী বিরোধী দলগুলো সমাজতান্ত্রিক সরকারের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা শুরু করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতির বিপরীতে স্পেনের বর্তমান সরকার ২০২৬ সালের আগে দেশটিতে আসা অবৈধ শ্রমিকদের আইনি বৈধতা দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছিল। সেই নীতিও নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

সেউটা পরিস্থিতির পর ইউরোজোনের কয়েকজন নেতা স্পেনকে সীমান্তমুক্ত শেনজেন এলাকা থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের দাবি তুললে এর বিরোধিতা করেন স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
তিনি বলেন, এ ধরনের দাবি ‘কুসংস্কার, ভুয়া খবর, অজ্ঞতা অথবা রাজনৈতিক স্বার্থ’ থেকে এসেছে।

সানচেজ আরও বলেন, চলমান সংকট সত্ত্বেও ইতালি ও গ্রিসের তুলনায় গত কয়েক বছরে স্পেনে অবৈধ অনুপ্রবেশের হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

শনিবার সকালে কয়েকজন অভিবাসী সেউটার তারাজাল সৈকতে সাঁতরে পৌঁছানোর পর স্প্যানিশ সামরিক বাহিনী তাদের আটক করে সীমান্তে ফিরিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা বলেন, আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ ধরনের অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

দুই দেশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে এত বড় অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটল – এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, স্পেন ও মরক্কোর যৌথ সমন্বয়ের কারণেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মরক্কো স্পেন বা সেউটার জন্য কোনো হুমকি নয়; বরং দেশটি স্পেনের বিশ্বস্ত সহযোগী।

নিউজটি শেয়ার করুন

অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে সাগরে স্পেনের ব্যারিয়ার নির্মাণ

আপডেট সময় ১০:৪১:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

 

উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বশাসিত অঞ্চল সেউটায় ব্যাপক অভিবাসী অনুপ্রবেশের পর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে সমুদ্রে ৫০০ মিটার দীর্ঘ একটি প্রতিরোধক ব্যারিয়ার নির্মাণ করেছে স্পেন সরকার।
সোমবার (৩ আগস্ট) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ১০ হাজারের বেশি অভিবাসী সেউটায় প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

স্পেনীয় কর্তৃপক্ষ শনিবার (১ আগস্ট) জানায়, অনুপ্রবেশের সময় সাঁতরে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা এবং ব্রেকওয়াটার ব্যারিয়ার এলাকায় সৃষ্ট হুড়োহুড়িতে অন্তত ৬৭ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন  মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসী দমন অভিযান: বাংলাদেশিসহ ৩৭ জন গ্রেপ্তার

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সেউটার সীমান্ত এলাকায় হঠাৎ ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার অভিবাসীর সমাগম একটি বড় মানবিক সংকট তৈরি করে। পরে তাদের একটি বড় অংশ মরক্কোয় ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

মেডিটেরেনিয়ান সাগরের প্রবেশমুখ ও জিব্রাল্টার প্রণালির কাছে অবস্থিত সেউটা ১৫৮০ সাল থেকে স্পেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সাম্প্রতিক এই অনুপ্রবেশের ঘটনায় দেশটির ডানপন্থী ও উগ্র-ডানপন্থী বিরোধী দলগুলো সমাজতান্ত্রিক সরকারের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা শুরু করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতির বিপরীতে স্পেনের বর্তমান সরকার ২০২৬ সালের আগে দেশটিতে আসা অবৈধ শ্রমিকদের আইনি বৈধতা দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছিল। সেই নীতিও নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

সেউটা পরিস্থিতির পর ইউরোজোনের কয়েকজন নেতা স্পেনকে সীমান্তমুক্ত শেনজেন এলাকা থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের দাবি তুললে এর বিরোধিতা করেন স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
তিনি বলেন, এ ধরনের দাবি ‘কুসংস্কার, ভুয়া খবর, অজ্ঞতা অথবা রাজনৈতিক স্বার্থ’ থেকে এসেছে।

সানচেজ আরও বলেন, চলমান সংকট সত্ত্বেও ইতালি ও গ্রিসের তুলনায় গত কয়েক বছরে স্পেনে অবৈধ অনুপ্রবেশের হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

শনিবার সকালে কয়েকজন অভিবাসী সেউটার তারাজাল সৈকতে সাঁতরে পৌঁছানোর পর স্প্যানিশ সামরিক বাহিনী তাদের আটক করে সীমান্তে ফিরিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা বলেন, আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ ধরনের অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

দুই দেশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে এত বড় অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটল – এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, স্পেন ও মরক্কোর যৌথ সমন্বয়ের কারণেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মরক্কো স্পেন বা সেউটার জন্য কোনো হুমকি নয়; বরং দেশটি স্পেনের বিশ্বস্ত সহযোগী।