ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

১৬ বছরের সমস্যা ৫-৬ মাসে সমাধান সম্ভব নয়: মাহদী আমিন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:১৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 1

ছবি: সংগৃহীত

 

বিগত ১৬ বছরে পুঞ্জীভূত প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে জ্বালানি খাত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের এই সমস্যা মাত্র পাঁচ বা ছয় মাসে শতভাগ সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে মধ্যমেয়াদে জ্বালানি সংকটের টেকসই ও বাস্তবসম্মত সমাধান নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়ন: নীতি, অংশীদারিত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  বিএনপি ক্ষমতা পেলে সবাই বিনা মূল্যে ইন্টারনেট পাবে: মাহদী আমিন

মাহদী আমিন বলেন, জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অংশীজনেরা প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় যৌথভাবে কাজ করছেন। এ খাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্যমেয়াদে জ্বালানি সংকটের একটি টেকসই ও বাস্তবসম্মত সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সরাসরি জেলা পর্যায়ে গিয়ে স্থানীয় নিয়োগকর্তা ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে আগ্রহী ব্যক্তি ও কাজপ্রত্যাশীদের একটি কার্যকর ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

এ জন্য অফলাইন ও অনলাইন—দুই ধরনের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা সৃষ্টি, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একটি কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়াতে বেসরকারি খাতকে সরাসরি যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

মাহদী আমিন জানান, কর্মসংস্থানের এই উদ্যোগ প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে শুরু করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় তা সম্প্রসারণ করা হবে।

পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তিনি বলেন, সমাজের কোনো নাগরিক যেন জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের ধারা থেকে বাদ না পড়েন, সেটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের রাজনৈতিক মতামত ও ভোটাধিকারের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। নির্বাচনে সর্বস্তরের মানুষের অবদান রয়েছে। তাই প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

মাহদী আমিন বলেন, শুধু সাময়িক উন্নয়নের পরিবর্তে এমন একটি প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে, যেখানে নাগরিকদের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি তাদের নিজস্ব ভাগ্যোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনে সরকার কাজ করে যাবে।

বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, তৃণমূলের মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চাল, ডাল, তেল, চিনি ও আটাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর ও ভ্যাট কমানো হয়েছে। তার দাবি, এর ফলে বাজারে কোনো অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারেনি।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও কঠোর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর উদ্দেশ্য নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর চাপ কমানো বলে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন।

তিনি জানান, শিগগিরই স্বাস্থ্য খাতে ১ লাখ নতুন পদ সৃষ্টি করে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৮০ হাজার পদে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, পাহাড় কিংবা সমতল, ধর্ম-বর্ণ, রাজনৈতিক আদর্শ কিংবা শারীরিক ও সামাজিক সক্ষমতা-অক্ষমতা—কোনো পার্থক্যই নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রে বিবেচ্য হওয়া উচিত নয়। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষই দেশের নাগরিক এবং ভিন্নমত ও বৈচিত্র্যকে সম্মান করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যেই বাংলাদেশের প্রকৃত রূপ রয়েছে। রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ও সরকারি নীতিমালায় দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে সমান অধিকার, স্বাধীনতা ও উন্নয়নের সমান অংশীদারিত্ব পান, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার জন্য নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সংসদ সদস্য মাধবী মারমাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

১৬ বছরের সমস্যা ৫-৬ মাসে সমাধান সম্ভব নয়: মাহদী আমিন

আপডেট সময় ০৯:১৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

 

বিগত ১৬ বছরে পুঞ্জীভূত প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে জ্বালানি খাত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের এই সমস্যা মাত্র পাঁচ বা ছয় মাসে শতভাগ সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে মধ্যমেয়াদে জ্বালানি সংকটের টেকসই ও বাস্তবসম্মত সমাধান নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়ন: নীতি, অংশীদারিত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  বিএনপি ক্ষমতা পেলে সবাই বিনা মূল্যে ইন্টারনেট পাবে: মাহদী আমিন

মাহদী আমিন বলেন, জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অংশীজনেরা প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় যৌথভাবে কাজ করছেন। এ খাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্যমেয়াদে জ্বালানি সংকটের একটি টেকসই ও বাস্তবসম্মত সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সরাসরি জেলা পর্যায়ে গিয়ে স্থানীয় নিয়োগকর্তা ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে আগ্রহী ব্যক্তি ও কাজপ্রত্যাশীদের একটি কার্যকর ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

এ জন্য অফলাইন ও অনলাইন—দুই ধরনের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা সৃষ্টি, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একটি কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়াতে বেসরকারি খাতকে সরাসরি যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

মাহদী আমিন জানান, কর্মসংস্থানের এই উদ্যোগ প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে শুরু করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় তা সম্প্রসারণ করা হবে।

পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তিনি বলেন, সমাজের কোনো নাগরিক যেন জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের ধারা থেকে বাদ না পড়েন, সেটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের রাজনৈতিক মতামত ও ভোটাধিকারের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। নির্বাচনে সর্বস্তরের মানুষের অবদান রয়েছে। তাই প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

মাহদী আমিন বলেন, শুধু সাময়িক উন্নয়নের পরিবর্তে এমন একটি প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে, যেখানে নাগরিকদের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি তাদের নিজস্ব ভাগ্যোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনে সরকার কাজ করে যাবে।

বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, তৃণমূলের মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চাল, ডাল, তেল, চিনি ও আটাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর ও ভ্যাট কমানো হয়েছে। তার দাবি, এর ফলে বাজারে কোনো অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারেনি।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও কঠোর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর উদ্দেশ্য নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর চাপ কমানো বলে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন।

তিনি জানান, শিগগিরই স্বাস্থ্য খাতে ১ লাখ নতুন পদ সৃষ্টি করে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৮০ হাজার পদে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, পাহাড় কিংবা সমতল, ধর্ম-বর্ণ, রাজনৈতিক আদর্শ কিংবা শারীরিক ও সামাজিক সক্ষমতা-অক্ষমতা—কোনো পার্থক্যই নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রে বিবেচ্য হওয়া উচিত নয়। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষই দেশের নাগরিক এবং ভিন্নমত ও বৈচিত্র্যকে সম্মান করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যেই বাংলাদেশের প্রকৃত রূপ রয়েছে। রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ও সরকারি নীতিমালায় দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে সমান অধিকার, স্বাধীনতা ও উন্নয়নের সমান অংশীদারিত্ব পান, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার জন্য নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সংসদ সদস্য মাধবী মারমাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।