ব্যথায় বরফ নাকি গরম সেঁক— কোন পরিস্থিতিতে কোনটি কার্যকর?
- আপডেট সময় ১০:৩৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
- / 20
দৈনন্দিন জীবনে পা মচকে যাওয়া, পেশিতে টান, হঠাৎ আঘাত, অস্ত্রোপচারের পর অস্বস্তি কিংবা ঋতুস্রাবজনিত ব্যথার মতো নানা ধরনের শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ব্যথানাশক ওষুধের পাশাপাশি গরম বা ঠান্ডা সেঁকের আশ্রয় নেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, সব ধরনের ব্যথায় একই ধরনের সেঁক কার্যকর নয়। আঘাতের ধরন ও সময় অনুযায়ী সঠিক পদ্ধতি বেছে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, ভুল ধরনের সেঁক ব্যবহার করলে ব্যথা বা ফোলাভাব কমার পরিবর্তে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তাই কখন বরফ এবং কখন গরম সেঁক ব্যবহার করা উচিত, সে বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
আঘাত লাগার পর প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঠান্ডা সেঁক বা বরফ সবচেয়ে কার্যকর। হঠাৎ ধাক্কা লেগে কালশিটে পড়া, পা মচকে যাওয়া, কেটে বা ছড়ে যাওয়া কিংবা আঘাতের কারণে শরীরের কোনো অংশ ফুলে গেলে বরফ সেঁক দিলে উপকার পাওয়া যায়।
ঠান্ডা সেঁক আক্রান্ত স্থানের রক্তনালিকে সাময়িকভাবে সংকুচিত করে, ফলে ওই স্থানে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। এতে ফোলাভাব, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ এবং ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
তবে বরফ কখনোই সরাসরি ত্বকের ওপর ব্যবহার করা উচিত নয়। আইস প্যাক না থাকলে পরিষ্কার সুতির কাপড় বা রুমালে বরফ মুড়িয়ে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
অন্যদিকে দীর্ঘদিনের পেশির ব্যথা, বাতের সমস্যা, কোমরে টান, ঘাড় বা কাঁধের আড়ষ্টতা, অস্থিসন্ধির ব্যথা এবং ঋতুস্রাবজনিত পেট বা কোমরের ব্যথায় গরম সেঁক বেশি কার্যকর।
গরম সেঁক আক্রান্ত স্থানে রক্তসঞ্চালন বাড়ায় এবং শক্ত হয়ে যাওয়া পেশিকে শিথিল করতে সাহায্য করে। এর ফলে ব্যথা ও অস্বস্তি অনেকটাই কমে আসে।
গরম সেঁক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, হট ওয়াটার ব্যাগ ব্যবহারের আগে সেটি ভালোভাবে বন্ধ আছে কি না নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হিট প্যাডের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেশি হওয়া উচিত নয়, কারণ এতে ত্বক পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

























