ঢাকা ০৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
সালমান শাহ হ/ত্যা মা/ম/লায় গ্রে/প্তার ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ কলকাতায় মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল, অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়ার দাবি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চু*রির মা*ম*লায় তদন্ত প্রতিবেদন ৯৭ বার পেছাল হেফাজত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বাবুনগর মাদ্রাসায় প্রধানমন্ত্রী সালমান শাহ হ/ত্যা মা*ম*লা, ডন আ*টক সাতক্ষীরায় ছাত্রদলের ১০ নেতাকর্মীকে পি*টি*য়ে হাসপাতালে পাঠাল নি/ষি/দ্ধ ছাত্রলীগ ‘বিভ্রান্ত করে জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না’: প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সিভিল সার্জনকে বদলির নির্দেশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে কি বাড়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি? যা বলছে গবেষণা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪৭:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • / 56

ছবি সংগৃহীত

 

দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা বা নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনের সঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক থাকতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পরিবর্তে হালকা শারীরিক কার্যক্রমও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি একটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা হওয়ায় দীর্ঘ সময় বসে থাকাই সরাসরি ক্যান্সারের কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

‘প্লস মেডিসিন’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, ধীরগতিতে হাঁটা, ঘরের কাজ করা কিংবা দৈনন্দিন ছোটখাটো শারীরিক নড়াচড়াও দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার তুলনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন  বিজ্ঞানীদের চমকপ্রদ আবিষ্কার: খুঁজে পাওয়া গেল লুকানো প্লাজমা কাঠামো

গবেষণার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের ইউকে বায়োব্যাংকের ৯১ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীর পরিধানযোগ্য ডিভাইস থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। তাদের গড়ে ১২ বছর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, যারা দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকেন, তাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে, প্রতিদিন অতিরিক্ত এক ঘণ্টা বসে থাকার সঙ্গে ক্যান্সারজনিত মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ১০ শতাংশ বেশি থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

গবেষণায় দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনের সঙ্গে কোলোরেক্টাল, স্তন, লিভার, কিডনি, অগ্ন্যাশয়, ডিম্বাশয়, খাদ্যনালী এবং থাইরয়েড ক্যান্সারের সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিদিন এক ঘণ্টা বসে থাকার পরিবর্তে ইস্ত্রি করা বা থালা-বাসন ধোয়ার মতো হালকা কাজ করলে ক্যান্সারে মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ১২ শতাংশ কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। একইভাবে, প্রতিদিন ৩০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম, যেমন স্বাভাবিক গতিতে হাঁটা, ক্যান্সারে মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ৮ শতাংশ কম থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিট উচ্চমাত্রার শারীরিক কার্যক্রম করলে ক্যান্সারজনিত মৃত্যুঝুঁকি ২২ শতাংশ পর্যন্ত কম থাকার সম্পর্ক দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মেমোরিয়ালকেয়ার টড ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের হেমাটোলজিস্ট ও অনকোলজিস্ট ড. ডেভিড ইয়াশার বলেন, নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার কারণ হতে পারে, যা বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। তার মতে, শরীরে অতিরিক্ত চর্বি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা ক্যান্সার কোষের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া স্থূলতা কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘদিন ব্যায়ামের অভাব হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে স্তন ক্যান্সারের মতো কিছু হরমোন-সংবেদনশীল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা। তাই দীর্ঘ সময় বসে থাকাই সরাসরি ক্যান্সারে মৃত্যুর কারণ—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত না থাকা ওপেন ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লাইড স্ট্যাটিস্টিকসের এমেরিটাস অধ্যাপক প্রফেসর কেভিন ম্যাককনওয়ে বলেন, গবেষণার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিষয়টি নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে কি বাড়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি? যা বলছে গবেষণা

আপডেট সময় ০৭:৪৭:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

 

দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা বা নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনের সঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক থাকতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পরিবর্তে হালকা শারীরিক কার্যক্রমও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি একটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা হওয়ায় দীর্ঘ সময় বসে থাকাই সরাসরি ক্যান্সারের কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

‘প্লস মেডিসিন’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, ধীরগতিতে হাঁটা, ঘরের কাজ করা কিংবা দৈনন্দিন ছোটখাটো শারীরিক নড়াচড়াও দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার তুলনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন  বিজ্ঞানীদের চমকপ্রদ আবিষ্কার: খুঁজে পাওয়া গেল লুকানো প্লাজমা কাঠামো

গবেষণার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের ইউকে বায়োব্যাংকের ৯১ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীর পরিধানযোগ্য ডিভাইস থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। তাদের গড়ে ১২ বছর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, যারা দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকেন, তাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে, প্রতিদিন অতিরিক্ত এক ঘণ্টা বসে থাকার সঙ্গে ক্যান্সারজনিত মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ১০ শতাংশ বেশি থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

গবেষণায় দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনের সঙ্গে কোলোরেক্টাল, স্তন, লিভার, কিডনি, অগ্ন্যাশয়, ডিম্বাশয়, খাদ্যনালী এবং থাইরয়েড ক্যান্সারের সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিদিন এক ঘণ্টা বসে থাকার পরিবর্তে ইস্ত্রি করা বা থালা-বাসন ধোয়ার মতো হালকা কাজ করলে ক্যান্সারে মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ১২ শতাংশ কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। একইভাবে, প্রতিদিন ৩০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম, যেমন স্বাভাবিক গতিতে হাঁটা, ক্যান্সারে মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ৮ শতাংশ কম থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিট উচ্চমাত্রার শারীরিক কার্যক্রম করলে ক্যান্সারজনিত মৃত্যুঝুঁকি ২২ শতাংশ পর্যন্ত কম থাকার সম্পর্ক দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মেমোরিয়ালকেয়ার টড ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের হেমাটোলজিস্ট ও অনকোলজিস্ট ড. ডেভিড ইয়াশার বলেন, নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার কারণ হতে পারে, যা বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। তার মতে, শরীরে অতিরিক্ত চর্বি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা ক্যান্সার কোষের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া স্থূলতা কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘদিন ব্যায়ামের অভাব হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে স্তন ক্যান্সারের মতো কিছু হরমোন-সংবেদনশীল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা। তাই দীর্ঘ সময় বসে থাকাই সরাসরি ক্যান্সারে মৃত্যুর কারণ—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত না থাকা ওপেন ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লাইড স্ট্যাটিস্টিকসের এমেরিটাস অধ্যাপক প্রফেসর কেভিন ম্যাককনওয়ে বলেন, গবেষণার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিষয়টি নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।