ঢাকা ১২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৃষ্টির ফোঁটা থেকেই বিদ্যুৎ! নতুন সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকরা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:০৯:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 22

ছবি সংগৃহীত

 

সূর্যের আলো কিংবা বাতাস নয়, এবার বৃষ্টির ফোঁটা থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। স্পেনের গবেষকরা এমন একটি অতি পাতলা স্বচ্ছ আবরণ তৈরি করেছেন, যা সোলার প্যানেলের ওপর ব্যবহার করা যায়। এই আবরণের ওপর দিয়ে পানির ফোঁটা গড়িয়ে যাওয়ার সময় বৈদ্যুতিক চার্জ তৈরি হয়।

সেভিলের একটি গবেষণাগারে তৈরি করা বিশেষ আবরণটির পুরুত্ব মাত্র প্রায় ১০০ ন্যানোমিটার। এটি সোলার প্যানেলের পৃষ্ঠে বসানো যায় এবং বৃষ্টির পানি প্যানেলের ওপর দিয়ে গড়িয়ে পড়ার সময় উৎপন্ন বৈদ্যুতিক চার্জ সংগ্রহে সহায়তা করে।

আরও পড়ুন  গাজায় নতুন সংকটের আশঙ্কা: পানি-বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের পরিকল্পনায় ইসরায়েল

গবেষণায় একটি পানির ফোঁটা থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ১১০ ভোল্ট পিক ভোল্টেজ পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

এই পদ্ধতির পেছনে কাজ করছে ‘ট্রাইবোইলেকট্রিক ইফেক্ট’। ভিন্ন ধরনের দুটি পদার্থ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে আবার আলাদা হলে তাদের মধ্যে বৈদ্যুতিক চার্জের আদান-প্রদান ঘটে। পানির ফোঁটা যখন ফ্লোরিনযুক্ত বিশেষ পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে চলাচল করে, তখনও একই ধরনের চার্জের পার্থক্য সৃষ্টি হয়। উপযুক্ত বৈদ্যুতিক সার্কিটের মাধ্যমে সেই বিভব কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি করা সম্ভব।

তবে শুধু প্যানেলের ওপর বৃষ্টির পানি জমে থাকলেই বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে না। পানির ফোঁটাকে পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে গড়িয়ে যেতে হবে। ফোঁটার এই চলাচলের সময়ই মূলত চার্জের স্থানান্তর ঘটে।

গবেষকদের তৈরি আবরণটির আরেকটি সুবিধা হলো এর স্বচ্ছতা। এটি ৯০ শতাংশের বেশি আলো পার হতে দেয়। ফলে বৃষ্টির সময় পানির ফোঁটা থেকে চার্জ সংগ্রহের পাশাপাশি বৃষ্টি না থাকলে একই প্যানেল স্বাভাবিক নিয়মে সূর্যের আলো ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে।

এই প্রযুক্তি পেরোভস্কাইট সোলার সেলের ক্ষেত্রেও বিশেষ সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। কম খরচে উৎপাদন এবং উচ্চ শক্তি-রূপান্তর দক্ষতার সম্ভাবনার কারণে পেরোভস্কাইট সেল নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হচ্ছে। তবে আর্দ্রতা এর অন্যতম বড় সমস্যা। নতুন আবরণটি একদিকে সেলকে পানি ও আর্দ্রতা থেকে সুরক্ষা দিতে পারে, অন্যদিকে বৃষ্টির ফোঁটার চলাচল থেকে বৈদ্যুতিক চার্জ সংগ্রহেও সহায়তা করতে পারে।

তবে প্রযুক্তিটি এখনো গবেষণাগার পর্যায়েই রয়েছে। বাস্তব পরিবেশে দীর্ঘদিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আবরণটির স্থায়িত্ব, কার্যকারিতা এবং বিভিন্ন আবহাওয়ায় এর কর্মক্ষমতা কেমন থাকে, তা আরও পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো, বৃষ্টির ফোঁটা থেকে উৎপন্ন বিদ্যুতের পরিমাণ বর্তমানে এত বেশি নয় যে তা দিয়ে একটি বাড়ির সব বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো সম্ভব। তবে কম শক্তি প্রয়োজন এমন ডিভাইস, ওয়্যারলেস সেন্সর, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, মহাসড়কের সাইনেজ কিংবা ছোট আকারের আলোকব্যবস্থায় ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে।

গবেষকদের এই উদ্যোগকে প্রচলিত সৌরবিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে দেখার চেয়ে একই সোলার প্যানেলকে রোদ ও বৃষ্টি—দুই প্রাকৃতিক উৎস থেকেই শক্তি সংগ্রহের উপযোগী করে তোলার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাস্তব পরিবেশে আরও পরীক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল পাওয়া গেলে প্রযুক্তিটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বৃষ্টির ফোঁটা থেকেই বিদ্যুৎ! নতুন সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকরা

আপডেট সময় ১২:০৯:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

সূর্যের আলো কিংবা বাতাস নয়, এবার বৃষ্টির ফোঁটা থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। স্পেনের গবেষকরা এমন একটি অতি পাতলা স্বচ্ছ আবরণ তৈরি করেছেন, যা সোলার প্যানেলের ওপর ব্যবহার করা যায়। এই আবরণের ওপর দিয়ে পানির ফোঁটা গড়িয়ে যাওয়ার সময় বৈদ্যুতিক চার্জ তৈরি হয়।

সেভিলের একটি গবেষণাগারে তৈরি করা বিশেষ আবরণটির পুরুত্ব মাত্র প্রায় ১০০ ন্যানোমিটার। এটি সোলার প্যানেলের পৃষ্ঠে বসানো যায় এবং বৃষ্টির পানি প্যানেলের ওপর দিয়ে গড়িয়ে পড়ার সময় উৎপন্ন বৈদ্যুতিক চার্জ সংগ্রহে সহায়তা করে।

আরও পড়ুন  বিদ্যুৎ-গ্যাসে ৭ মাসের ভর্তুকি এক মাসে দিতে হয়েছে: গণপূর্তমন্ত্রী

গবেষণায় একটি পানির ফোঁটা থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ১১০ ভোল্ট পিক ভোল্টেজ পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

এই পদ্ধতির পেছনে কাজ করছে ‘ট্রাইবোইলেকট্রিক ইফেক্ট’। ভিন্ন ধরনের দুটি পদার্থ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে আবার আলাদা হলে তাদের মধ্যে বৈদ্যুতিক চার্জের আদান-প্রদান ঘটে। পানির ফোঁটা যখন ফ্লোরিনযুক্ত বিশেষ পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে চলাচল করে, তখনও একই ধরনের চার্জের পার্থক্য সৃষ্টি হয়। উপযুক্ত বৈদ্যুতিক সার্কিটের মাধ্যমে সেই বিভব কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি করা সম্ভব।

তবে শুধু প্যানেলের ওপর বৃষ্টির পানি জমে থাকলেই বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে না। পানির ফোঁটাকে পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে গড়িয়ে যেতে হবে। ফোঁটার এই চলাচলের সময়ই মূলত চার্জের স্থানান্তর ঘটে।

গবেষকদের তৈরি আবরণটির আরেকটি সুবিধা হলো এর স্বচ্ছতা। এটি ৯০ শতাংশের বেশি আলো পার হতে দেয়। ফলে বৃষ্টির সময় পানির ফোঁটা থেকে চার্জ সংগ্রহের পাশাপাশি বৃষ্টি না থাকলে একই প্যানেল স্বাভাবিক নিয়মে সূর্যের আলো ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে।

এই প্রযুক্তি পেরোভস্কাইট সোলার সেলের ক্ষেত্রেও বিশেষ সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। কম খরচে উৎপাদন এবং উচ্চ শক্তি-রূপান্তর দক্ষতার সম্ভাবনার কারণে পেরোভস্কাইট সেল নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হচ্ছে। তবে আর্দ্রতা এর অন্যতম বড় সমস্যা। নতুন আবরণটি একদিকে সেলকে পানি ও আর্দ্রতা থেকে সুরক্ষা দিতে পারে, অন্যদিকে বৃষ্টির ফোঁটার চলাচল থেকে বৈদ্যুতিক চার্জ সংগ্রহেও সহায়তা করতে পারে।

তবে প্রযুক্তিটি এখনো গবেষণাগার পর্যায়েই রয়েছে। বাস্তব পরিবেশে দীর্ঘদিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আবরণটির স্থায়িত্ব, কার্যকারিতা এবং বিভিন্ন আবহাওয়ায় এর কর্মক্ষমতা কেমন থাকে, তা আরও পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো, বৃষ্টির ফোঁটা থেকে উৎপন্ন বিদ্যুতের পরিমাণ বর্তমানে এত বেশি নয় যে তা দিয়ে একটি বাড়ির সব বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো সম্ভব। তবে কম শক্তি প্রয়োজন এমন ডিভাইস, ওয়্যারলেস সেন্সর, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, মহাসড়কের সাইনেজ কিংবা ছোট আকারের আলোকব্যবস্থায় ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে।

গবেষকদের এই উদ্যোগকে প্রচলিত সৌরবিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে দেখার চেয়ে একই সোলার প্যানেলকে রোদ ও বৃষ্টি—দুই প্রাকৃতিক উৎস থেকেই শক্তি সংগ্রহের উপযোগী করে তোলার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাস্তব পরিবেশে আরও পরীক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল পাওয়া গেলে প্রযুক্তিটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।