এআই-এর ঝুঁকি মোকাবিলায় বিচারকদের সতর্ক থাকার আহ্বান
- আপডেট সময় ০৪:২০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 16
বিচার বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহারের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিচারকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রাঙ্গণে ‘বাংলাদেশ এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির যৌথ আয়োজন করে ‘সোসাইটি ফর জাস্টিস অ্যান্ড এআই’ (এসজেএআই) ও ‘লিগ্যালাইজড এডুকেশন বাংলাদেশ লিমিটেড’ (এলইবিএল)। এতে সার্বিক সহযোগিতা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)।
বিচারকদের সতর্ক করে আইনমন্ত্রী বলেন, সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো না থাকায় এআই ব্যবহার করে ভুয়া প্রমাণ তৈরি কিংবা বিচারকদের প্রভাবিত করার মতো নতুন আইনি সংকট তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যা জবানবন্দি তৈরি বা ছবি বিকৃত করে ভুয়া প্রমাণ বানিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত বিচারপ্রার্থীরা। পাশাপাশি প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও নতুন সামাজিক ও আইনি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।
বিচারিক প্রক্রিয়ায় এআইভিত্তিক অপপ্রচারের আশঙ্কা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কোনো রায় কারও বিপক্ষে গেলে বিচারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এআই ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হতে পারে। সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের চূড়ান্ত দায়িত্ব বিচারকের। তাই এ বিষয়ে তাদেরই সবার আগে সচেতন হতে হবে।
আইনি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান অতীতে সুপ্রিম কোর্টের কয়েকটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিচার বিভাগ আইনের ব্যাখ্যায় পরিবর্তন এনেছে। এআইয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আনুষ্ঠানিক আইন প্রণয়নের আগ পর্যন্ত বিচার বিভাগকে একই ধরনের প্রজ্ঞা ও অভিযোজন ক্ষমতা প্রদর্শন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী জ্যেষ্ঠ আইন বিশেষজ্ঞদের এআই নিয়ন্ত্রণে একটি খসড়া বিল তৈরির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিলটি সংসদে উপস্থাপন ও বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ একরামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাসনুভা শেলী।
সমাপনী অধিবেশনে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, শিক্ষক, প্রযুক্তিবিদ এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, পাঁচ দিনব্যাপী এ সামার স্কুলে বিচার বিভাগ, মানবাধিকার, অর্থসেবা, স্বাস্থ্য ও জনপ্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এআই গভর্নেন্স নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

























