ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রথমার্ধে গোলশূন্য; রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত আর্জেন্টিনা ‎বিতর্ক এড়াতে ফাইনালে সাত দেশের রেফারি জুলাই সনদ বিতর্কের ইতি টানার উচিত: মির্জা ফখরুলের ‎শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামাল বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১৪৪ রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল ‎সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের

ইসরায়েলের আগ্রাসনে দ্বিখণ্ডিত গাজা, ৪৮ ঘণ্টায় ঝরে গেল ১৮৩ শিশুসহ ৪৩৬ প্রাণ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৪২:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫
  • / 419

ছবি: সংগৃহীত

 

গাজার নেটজারিম করিডোর ফের দখলে নিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা, যার ফলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এতে অঞ্চলজুড়ে ফিলিস্তিনিদের চলাচল কঠিন হয়ে গেছে। গত মাসে যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে এই এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরে গেলেও, নতুন করে আগ্রাসন চালিয়ে তারা আবারও নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর থেকে ইসরায়েলি হামলা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। একের পর এক বোমা হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৩৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৮৩ শিশু রয়েছে।

আরও পড়ুন  সংকটে চরম শোকাবহ সকাল পার করছে দেশ: ইসরায়েল প্রেসিডেন্ট

হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা তাহের আল-নোনো জানিয়েছেন, ইসরায়েলের হামলা সত্ত্বেও আলোচনার পথ তারা বন্ধ করেননি। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, নতুন কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই, কারণ আগেই একটি চুক্তি সই হয়েছিল। কিন্তু ইসরায়েল একতরফাভাবে তা লঙ্ঘন করছে।

এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, এই হামলা ‘শুধু শুরু’ এবং এখন থেকে যুদ্ধবিরতির আলোচনা গোলাগুলির মধ্যেই চলবে। তার এই বক্তব্য নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত ৪৯ হাজার ৫৪৭ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ১২ হাজার ৭১৯ জন আহত হয়েছেন। গাজার গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বহু মানুষের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, নিহতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এর আগে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে চালানো ইসরায়েলে হামলায় ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হন এবং ২০০-র বেশি মানুষ অপহৃত হন। সেই ঘটনার জের ধরে দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই ভয়াবহ যুদ্ধ।

বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও রাষ্ট্রনেতারা যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানালেও, সংঘাতের তীব্রতা বাড়ছে। গাজাবাসী চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে, আর আন্তর্জাতিক মহল এখনও কার্যকর কোনো সমাধান দিতে ব্যর্থ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলের আগ্রাসনে দ্বিখণ্ডিত গাজা, ৪৮ ঘণ্টায় ঝরে গেল ১৮৩ শিশুসহ ৪৩৬ প্রাণ

আপডেট সময় ১০:৪২:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫

 

গাজার নেটজারিম করিডোর ফের দখলে নিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা, যার ফলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এতে অঞ্চলজুড়ে ফিলিস্তিনিদের চলাচল কঠিন হয়ে গেছে। গত মাসে যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে এই এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরে গেলেও, নতুন করে আগ্রাসন চালিয়ে তারা আবারও নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর থেকে ইসরায়েলি হামলা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। একের পর এক বোমা হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৩৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৮৩ শিশু রয়েছে।

আরও পড়ুন  ইসরায়েলকে নতুন করে ১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সরবরাহ করবে যুক্তরাষ্ট্র

হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা তাহের আল-নোনো জানিয়েছেন, ইসরায়েলের হামলা সত্ত্বেও আলোচনার পথ তারা বন্ধ করেননি। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, নতুন কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই, কারণ আগেই একটি চুক্তি সই হয়েছিল। কিন্তু ইসরায়েল একতরফাভাবে তা লঙ্ঘন করছে।

এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, এই হামলা ‘শুধু শুরু’ এবং এখন থেকে যুদ্ধবিরতির আলোচনা গোলাগুলির মধ্যেই চলবে। তার এই বক্তব্য নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত ৪৯ হাজার ৫৪৭ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ১২ হাজার ৭১৯ জন আহত হয়েছেন। গাজার গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বহু মানুষের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, নিহতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এর আগে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে চালানো ইসরায়েলে হামলায় ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হন এবং ২০০-র বেশি মানুষ অপহৃত হন। সেই ঘটনার জের ধরে দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই ভয়াবহ যুদ্ধ।

বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও রাষ্ট্রনেতারা যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানালেও, সংঘাতের তীব্রতা বাড়ছে। গাজাবাসী চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে, আর আন্তর্জাতিক মহল এখনও কার্যকর কোনো সমাধান দিতে ব্যর্থ।