ঢাকা ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

দিল্লিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা সিজেপির

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 15

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়ের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও কয়েকটি ছাত্রসংগঠন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ বা অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন দিল্লির যন্তর মন্তরে মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে তারা। ভোট চুরি ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ তুলে এ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনগুলো।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের অভিযানে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ দলটির শীর্ষ নেতারা এবং শত শত মানুষ আটক হন। পুলিশের এ অভিযানের পরও আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন সংগঠনগুলোর নেতারা।

জাতীয় রাজধানীর কেন্দ্রস্থল যন্তর মন্তরে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল সিজেপি। তবে পুলিশ সেখানে বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ায় ধরপাকড় শুরু হয়। আটক বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সিজেপি।

আরও পড়ুন  ভারতে ‘ককরোচ’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা আটক

দলটির নেতাদের ভাষ্য, শনিবার সকাল ১১টার দিকে দিল্লিতে তাঁদের উড়োজাহাজ অবতরণের পরপরই পুলিশ অভিজিৎ দীপকেকে আটক করে। এরপর তাঁকে ও অন্য নেতাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা তাঁরা জানতে পারেননি। অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, মহারাষ্ট্রে তাঁর নিজ শহরে দাদি মারা গেলেও তাঁকে শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

দীপকের অনুপস্থিতিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পাওয়া সিজেপি নেতা অজিঙ্কা শিন্ডে বলেন, ‘এখন থেকে প্রতিদিন যন্তর মন্তরের উদ্দেশে মিছিল হবে, যতক্ষণ না প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে সরানো হয়।’

ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের (এসএফআই) সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রোববার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়বে। তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করবেন। পুলিশ যেখানে বাধা দেবে, সেই জায়গাকেই যন্তর মন্তরে পরিণত করা হবে।

এদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ সোমবার বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, ওই দিন জোটের নেতারা সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে একটি স্মারকলিপি দেবেন।

এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে চার দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেয় বিরোধী জোটটি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের দায়মুক্তি দেওয়া ২০২৩ সালের আইন বাতিল, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম স্থগিত এবং বাদ পড়া ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম পুনর্বহাল।

এ ছাড়া সব নির্বাচনে কাগজের ব্যালট ফিরিয়ে আনা এবং গত দুই বছরে যেসব বিধানসভা নির্বাচনে ভোট চুরির অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে, সেগুলো বাতিলের দাবিও জানিয়েছে জোটটি।

শনিবার দিল্লিজুড়ে এক হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করে পুলিশ। বিক্ষোভের অনুমতি না থাকার কথা জানিয়ে যন্তর মন্তরে সমাবেশ ঠেকাতে এ অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও রয়েছেন। তাঁরা হলেন আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বামপন্থী নেতা পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকার।

অভিজিৎ দীপকের পাশাপাশি সিজেপির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকেও আটক করা হয়। দীপক পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় মহারাষ্ট্রে তাঁর পিতামহী মারা যান। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁকে শেষকৃত্যে যোগ দিতে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। তবে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর অন্তত ২৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়। দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয় এবং ২৫০টির বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়। যন্তর মন্তরের চার কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ রাখা হয়।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, আটক নারী ও প্রবীণদের আগে মুক্তি দেওয়া হচ্ছিল। রোববারও নিরাপত্তা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

চেন্নাইয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে থাকা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, ‘সব নেতাকে আটক করুন। সব তরুণকে আটক করুন। আমাদের সবাইকে আটক করুন। আমরা আপনাদের ঘিরে ধরছি, পিছু হটব না… ভারতের তরুণেরা, তোমাদের নিয়ে আমি গর্বিত। প্রতিবাদ চালিয়ে যাও।’

আটক হওয়ার আগে কেজরিওয়াল বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘মোদিজি যেখানে বাধা দেবেন, সেখানেই বসে পড়ুন। সেই জায়গাকেই যন্তর মন্তরে পরিণত করুন।’

অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পরিস্থিতি জরুরি অবস্থাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এটি এখন ‘সুপার ইমার্জেন্সি’ বা চরম জরুরি অবস্থায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে বিজেপির মুখপাত্র রবিশঙ্কর প্রসাদ জ্ঞানেশ কুমার ও ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভারতের গণতন্ত্র অরাজকতা তৈরির চেষ্টা ঠেকিয়েছে। দেশ পরিচালিত হবে সংসদের মাধ্যমে, রাস্তায় আন্দোলনের মাধ্যমে নয়।

এদিকে মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে সিজেপির আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ করায় প্রায় ২০০ জনকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী ও অভিনেতা ইমরান খানও ছিলেন। আহমেদাবাদ ও চেন্নাইসহ ভারতের আরও কয়েকটি শহরেও বিক্ষোভ ও আটকের ঘটনা ঘটেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

দিল্লিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা সিজেপির

আপডেট সময় ০৯:০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়ের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও কয়েকটি ছাত্রসংগঠন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ বা অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন দিল্লির যন্তর মন্তরে মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে তারা। ভোট চুরি ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ তুলে এ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনগুলো।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের অভিযানে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ দলটির শীর্ষ নেতারা এবং শত শত মানুষ আটক হন। পুলিশের এ অভিযানের পরও আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন সংগঠনগুলোর নেতারা।

জাতীয় রাজধানীর কেন্দ্রস্থল যন্তর মন্তরে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল সিজেপি। তবে পুলিশ সেখানে বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ায় ধরপাকড় শুরু হয়। আটক বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সিজেপি।

আরও পড়ুন  আন্দোলন করলেই অবসরে যাবেন সরকারী চাকুরীজীবীরা

দলটির নেতাদের ভাষ্য, শনিবার সকাল ১১টার দিকে দিল্লিতে তাঁদের উড়োজাহাজ অবতরণের পরপরই পুলিশ অভিজিৎ দীপকেকে আটক করে। এরপর তাঁকে ও অন্য নেতাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা তাঁরা জানতে পারেননি। অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, মহারাষ্ট্রে তাঁর নিজ শহরে দাদি মারা গেলেও তাঁকে শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

দীপকের অনুপস্থিতিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পাওয়া সিজেপি নেতা অজিঙ্কা শিন্ডে বলেন, ‘এখন থেকে প্রতিদিন যন্তর মন্তরের উদ্দেশে মিছিল হবে, যতক্ষণ না প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে সরানো হয়।’

ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের (এসএফআই) সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রোববার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়বে। তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করবেন। পুলিশ যেখানে বাধা দেবে, সেই জায়গাকেই যন্তর মন্তরে পরিণত করা হবে।

এদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ সোমবার বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, ওই দিন জোটের নেতারা সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে একটি স্মারকলিপি দেবেন।

এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে চার দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেয় বিরোধী জোটটি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের দায়মুক্তি দেওয়া ২০২৩ সালের আইন বাতিল, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম স্থগিত এবং বাদ পড়া ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম পুনর্বহাল।

এ ছাড়া সব নির্বাচনে কাগজের ব্যালট ফিরিয়ে আনা এবং গত দুই বছরে যেসব বিধানসভা নির্বাচনে ভোট চুরির অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে, সেগুলো বাতিলের দাবিও জানিয়েছে জোটটি।

শনিবার দিল্লিজুড়ে এক হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করে পুলিশ। বিক্ষোভের অনুমতি না থাকার কথা জানিয়ে যন্তর মন্তরে সমাবেশ ঠেকাতে এ অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও রয়েছেন। তাঁরা হলেন আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বামপন্থী নেতা পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকার।

অভিজিৎ দীপকের পাশাপাশি সিজেপির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকেও আটক করা হয়। দীপক পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় মহারাষ্ট্রে তাঁর পিতামহী মারা যান। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁকে শেষকৃত্যে যোগ দিতে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। তবে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর অন্তত ২৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়। দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয় এবং ২৫০টির বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়। যন্তর মন্তরের চার কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ রাখা হয়।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, আটক নারী ও প্রবীণদের আগে মুক্তি দেওয়া হচ্ছিল। রোববারও নিরাপত্তা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

চেন্নাইয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে থাকা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, ‘সব নেতাকে আটক করুন। সব তরুণকে আটক করুন। আমাদের সবাইকে আটক করুন। আমরা আপনাদের ঘিরে ধরছি, পিছু হটব না… ভারতের তরুণেরা, তোমাদের নিয়ে আমি গর্বিত। প্রতিবাদ চালিয়ে যাও।’

আটক হওয়ার আগে কেজরিওয়াল বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘মোদিজি যেখানে বাধা দেবেন, সেখানেই বসে পড়ুন। সেই জায়গাকেই যন্তর মন্তরে পরিণত করুন।’

অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পরিস্থিতি জরুরি অবস্থাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এটি এখন ‘সুপার ইমার্জেন্সি’ বা চরম জরুরি অবস্থায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে বিজেপির মুখপাত্র রবিশঙ্কর প্রসাদ জ্ঞানেশ কুমার ও ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভারতের গণতন্ত্র অরাজকতা তৈরির চেষ্টা ঠেকিয়েছে। দেশ পরিচালিত হবে সংসদের মাধ্যমে, রাস্তায় আন্দোলনের মাধ্যমে নয়।

এদিকে মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে সিজেপির আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ করায় প্রায় ২০০ জনকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী ও অভিনেতা ইমরান খানও ছিলেন। আহমেদাবাদ ও চেন্নাইসহ ভারতের আরও কয়েকটি শহরেও বিক্ষোভ ও আটকের ঘটনা ঘটেছে।