স্পেনের পথে ২৭ দিনের সমুদ্রযাত্রা, ৮৩ জনের প্রাণহানি
- আপডেট সময় ০৯:৪৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 10
স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার পথে আটলান্টিক মহাসাগরে ২৭ দিন ভেসে থাকা একটি অভিবাসনপ্রত্যাশীবাহী নৌকা থেকে ৪৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নৌকাটি থেকে পাঁচটি মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ এই সমুদ্রযাত্রায় ৮০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্পেনের সংবাদ সংস্থা ইএফই জানিয়েছে, গত ৭ আগস্ট পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া থেকে ১২৭ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাটি ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। প্রায় চার সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) উদ্ধারকারীরা নৌকাটির সন্ধান পান।
নৌকাটিতে থাকা পাঁচটি মরদেহের মধ্যে দুই নারী ও একটি শিশুর মরদেহ ছিল বলে জানিয়েছে গ্রান কানারিয়ার আরগুইনেগুইন শহরের জরুরি পরিষেবা। উত্তাল সমুদ্রের কারণে মরদেহগুলো নৌকা থেকে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার হওয়া ৪৪ জনের সবাই গাম্বিয়া ও মালির নাগরিক এবং পুরুষ। দীর্ঘদিন সমুদ্রে থাকার কারণে তাদের অনেকেই গুরুতর পানিশূন্যতায় ভুগছিলেন। কেউ কেউ সমুদ্রের পানি পান করেও অসুস্থ হয়ে পড়েন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্পেনের কোস্টগার্ড গার্দিয়া সিভিল জানিয়েছে, নৌকাটির গায়ে থাকা চিহ্ন পরীক্ষা করে বেসরকারি সংস্থা কামিনান্দো ফ্রন্তেরাসের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। সংস্থাটি জানিয়েছিল, ৭ আগস্ট গাম্বিয়া থেকে ১২৭ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। ওই যাত্রীদের মধ্যে চার নারী ও একটি শিশু ছিল।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্যেও নৌকাটির যাত্রীসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। আরগুইনেগুইন বন্দরে রেড ক্রসের কর্মকর্তাদের কাছে তারা জানান, শতাধিক যাত্রী নিয়ে তারা ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাত্রা করেছিলেন। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় একের পর এক যাত্রী মারা যান।
স্থলে পৌঁছানোর পর উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় নথিভুক্ত করার সময় তাদের চরম দুর্বলতার চিত্রও উঠে আসে। ইএফই জানিয়েছে, অনেকে এতটাই ক্লান্ত ছিলেন যে পরিচয় নথিভুক্ত করার সময় টেবিলের ওপর মাথা রেখে বিশ্রাম নিতে বাধ্য হন।
স্পেনের সমুদ্র উদ্ধার সংস্থা সালভামেন্তো মারিতিমো জানায়, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গ্রান কানারিয়া থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে একটি বিমান নৌকাটিকে শনাক্ত করে। পরে মধ্যরাতে উদ্ধারকারী জাহাজ গুয়ারদামার উরানিয়া সেখানে পৌঁছে নৌকাটিকে সহায়তা করে।
আফ্রিকা থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার সমুদ্রপথে এমন প্রাণহানির ঘটনা নতুন নয়। পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর পথটি গত এক দশকে সাব-সাহারান আফ্রিকার অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অন্যতম প্রধান রুটে পরিণত হয়েছে।
মরক্কো, মৌরিতানিয়া ও সেনেগালের উত্তরাঞ্চলে নজরদারি জোরদার হওয়ায় গাম্বিয়াসহ পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে অনেকেই এখন ছোট নৌকায় সরাসরি ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাত্রা করছেন।
গাম্বিয়া থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। অনিরাপদ ছোট নৌকায় এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে যাত্রীরা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েন। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকায় নৌকার ইঞ্জিন বিকল হওয়া, পথ হারানো কিংবা নৌকা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর সঙ্গে রয়েছে প্রবল বাতাস ও সাগরের স্রোত।
সাম্প্রতিক সময়েও এই রুটে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। আগস্টের শুরুতে ১৩৩ জনকে বহনকারী একটি নৌকা ১১ দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর স্পেনের উদ্ধারকারীদের হাতে পড়ে। ওই নৌকায় গাম্বিয়া, সেনেগাল, মালি, বুরকিনা ফাসো, নাইজেরিয়া ও কোত দিভোয়ারের নাগরিক ছিলেন।
গত ২২ জুলাই ১৬৫ জন যাত্রী নিয়ে আরেকটি নৌকা ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপে পৌঁছায়। ওই যাত্রায় এক নারী মারা যান এবং ছয় মাস বয়সী একটি শিশুসহ ১৫ জন আহত হন।
এর আগে জানুয়ারির শুরুতে গাম্বিয়ার উপকূলে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর ৯৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছিলেন, নৌকাটিতে প্রায় ২০০ জন যাত্রী ছিলেন। সে হিসাবে ওই ঘটনায় প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
সূত্র: এএফপি
























