রাম মন্দিরে ৪ কোটি রুপির চেক, অ্যাকাউন্টে মিললো যত টাকা!
- আপডেট সময় ০৬:১১:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / 12
ভারতের অযোধ্যার রাম মন্দিরে কর্মীদের সুযোগ-সুবিধার জন্য ৪ কোটি রুপি অনুদান দিতে চেক দিয়েছিলেন চেন্নাইয়ের এক নারী। কিন্তু চেকটি ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর দেখা যায়, তার ব্যাংক হিসাবে রয়েছে মাত্র ৩ রুপি। ফলে ৪ কোটি রুপির চেকটি বাউন্স করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টকে ৪ কোটি রুপির চেক দেন। চেকটি ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক জানায়, হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকের টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।
এত বড় অঙ্কের চেক দেওয়ার পরও হিসাবে মাত্র ৩ রুপি থাকার বিষয়টি নিয়ে ওই নারীর কাছে ব্যাখ্যা চাইতে পারে ব্যাংক। এ জন্য তাকে নোটিশ দেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
ওই নারী মন্দিরে আলাদাভাবে ১০ হাজার রুপি অনুদানও দিয়েছেন। তবে ৪ কোটি রুপি শুধু মন্দিরের কর্মীদের সুযোগ-সুবিধার জন্য ব্যয় করা হবে—এমন লিখিত নিশ্চয়তা ট্রাস্টের কাছে চেয়েছিলেন তিনি। ট্রাস্ট এ ধরনের নিশ্চয়তা না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
এখন ওই নারীর সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে ট্রাস্ট।
এর আগে ২০২০ সালে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য দেশজুড়ে ‘নিধি সমর্পণ অভিযান’ নামে অর্থ সংগ্রহ কর্মসূচি চালানো হয়। মাত্র ৪৫ দিনে ওই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি রুপি সংগ্রহ করা হয়েছিল।
সে সময় বিপুলসংখ্যক চেক অনুদান হিসেবে জমা পড়ে। এর মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি রুপির চেক প্রথমে কারিগরি সমস্যার কারণে বাউন্স করেছিল। পরে পুনরায় চেক জমা দিয়ে বেশিরভাগ অর্থ আদায় করা সম্ভব হয়। তবে প্রায় ২২ কোটি রুপি এখনও উদ্ধার করা যায়নি বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বর্তমানে রাম মন্দিরে প্রতি মাসে নগদ অর্থ, অনলাইন লেনদেন ও চেকের মাধ্যমে প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি রুপি অনুদান আসে। এর মধ্যে চেকের মাধ্যমে মাসে আনুমানিক ১ থেকে দেড় কোটি রুপি পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ট্রাস্টের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। এর আগে গত জুনে মন্দিরে দেওয়া অনুদানের অর্থ চুরি ও আত্মসাতের অভিযোগও সামনে এসেছিল। সেই ঘটনার দুই মাসের বেশি সময় পর এবার আলোচনায় এলো ৪ কোটি রুপির চেক বাউন্সের ঘটনা।























