ঢাকা ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
এক মায়ের চোখে নতুন আলো, পাশে এমপি সালাউদ্দিন বাবু; চীনে অধ্যয়নরত ছেলের কৃতজ্ঞতা ‘রক্তঝরা জুলাই’ অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ নিয়ে যা বলছে ভারত জুলাই সনদ সামনে রেখে পুরো সংবিধান পর্যালোচনা করবে বিশেষ কমিটি বাংলাদেশি ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্ক সুবিধা দেবে দক্ষিণ কোরিয়া মালয়েশিয়ায় ৩ বাংলাদেশি নিহত পরকীয়ার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া গ্রামবাসীর হাতে আটক ৬ আগস্ট থেকে জুলাই জাদুঘর উন্মুক্ত, থাকবে টিকিট ব্যবস্থা শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমকে ফের সতর্ক করলেন তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সিরাজগঞ্জে ট্রেন লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ

শিরশ্ছেদের আগে ইরানকে শেষ সুযোগ দিলেন ট্রাম্প

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৩২:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 25

ছবি: সংগৃহীত

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং একটি সম্ভাব্য সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তেহরানের সামনে এটি ‘শেষ সুযোগ’। তবে ইরান এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বর্তমানে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে দুই দেশের অবস্থান এখনও পরস্পরবিরোধী।

সোমবার (৩ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও কাতারসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তবে একই দিনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বর্তমানে চলছে না।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি, বিরল খনিজ রপ্তানি পুনরায় চালুর আশা: ট্রাম্প

তেহরানের এ অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। তার ভাষ্য, ইরানের সামনে একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছানোর এটিই শেষ সুযোগ।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা। তার মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খুব শিগগিরই খুলে যেতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ বা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের মতো বিষয় বাস্তবায়নে আরও সময় লাগতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত চলছে। এর আগে কয়েক মাস ধরে দুই পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ হলেও তা কখনও উত্তেজনা কমিয়েছে, আবার কখনও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

যুদ্ধ শুরুর পাঁচ মাসের বেশি সময় পার হলেও ইরান এখনো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির কাছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতও রয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থানেও পরিবর্তন দেখা গেছে। গত সপ্তাহে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেও শনিবার সম্ভাব্য একটি চুক্তির কাঠামো তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার (৩ আগস্ট) জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে তেহরান।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর সেখানে আবারও অবরোধ আরোপ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং হামলার ঘটনাও ঘটছে।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে ‘দ্বিমুখী নীতি’ অনুসরণের অভিযোগ করেন। তার দাবি, প্রকাশ্যে আলোচনা অস্বীকার করা হলেও পর্দার আড়ালে সমাধানের লক্ষ্যে যোগাযোগ চলছে।

এ সময় তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া ইরানে কোনো কিছু প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। কোনো চুক্তি বা তার ভাষায় ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থান বহাল থাকবে বলেও মন্তব্য করেন।

যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও বর্তমানে ইরান এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এবং চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের দাবি করছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানের অবস্থান অনুযায়ী, জাহাজগুলোকে দেশটির উপকূলঘেঁষা নির্দিষ্ট পথ ব্যবহার করতে হবে। অন্য কোনো রুট ব্যবহারে তারা সম্মত নয়।

রোববার (৩ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসমাইল বাঘাই জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, এমন একটি রুট নির্ধারণের চেষ্টা চলছে, যা উভয় দেশের সার্বভৌম অধিকার, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে সম্মান করবে। তবে সমঝোতা হলেও সঙ্গে সঙ্গে পুরো প্রণালি খুলে দেওয়া হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

এদিকে, রোববার (৩ আগস্ট) ওমান উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজের আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ও এর সব নাবিক নিরাপদ ছিলেন।

ট্রাম্প সোমবার আবারও বলেন, ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করতে হবে। পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যে কর্মসূচি পরিচালনা করছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

এর আগে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশ তাকে নতুন করে হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে। তবে ইরানের গণমাধ্যম এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তেহরানের পক্ষ থেকে এমন কোনো অনুরোধ জানানো হয়নি।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান এখনো বিপরীতমুখী। এর মধ্যেই আলোচনার বিষয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং ট্রাম্পের ‘শেষ সুযোগ’ মন্তব্য নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শিরশ্ছেদের আগে ইরানকে শেষ সুযোগ দিলেন ট্রাম্প

আপডেট সময় ১০:৩২:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং একটি সম্ভাব্য সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তেহরানের সামনে এটি ‘শেষ সুযোগ’। তবে ইরান এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বর্তমানে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে দুই দেশের অবস্থান এখনও পরস্পরবিরোধী।

সোমবার (৩ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও কাতারসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তবে একই দিনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বর্তমানে চলছে না।

আরও পড়ুন  ইরানে ইসরাইল ও মার্কিন হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন, ব্রিকসের ‘গভীর উদ্বেগ

তেহরানের এ অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। তার ভাষ্য, ইরানের সামনে একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছানোর এটিই শেষ সুযোগ।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা। তার মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খুব শিগগিরই খুলে যেতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ বা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের মতো বিষয় বাস্তবায়নে আরও সময় লাগতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত চলছে। এর আগে কয়েক মাস ধরে দুই পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ হলেও তা কখনও উত্তেজনা কমিয়েছে, আবার কখনও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

যুদ্ধ শুরুর পাঁচ মাসের বেশি সময় পার হলেও ইরান এখনো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির কাছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতও রয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থানেও পরিবর্তন দেখা গেছে। গত সপ্তাহে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেও শনিবার সম্ভাব্য একটি চুক্তির কাঠামো তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার (৩ আগস্ট) জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে তেহরান।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর সেখানে আবারও অবরোধ আরোপ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং হামলার ঘটনাও ঘটছে।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে ‘দ্বিমুখী নীতি’ অনুসরণের অভিযোগ করেন। তার দাবি, প্রকাশ্যে আলোচনা অস্বীকার করা হলেও পর্দার আড়ালে সমাধানের লক্ষ্যে যোগাযোগ চলছে।

এ সময় তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া ইরানে কোনো কিছু প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। কোনো চুক্তি বা তার ভাষায় ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থান বহাল থাকবে বলেও মন্তব্য করেন।

যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও বর্তমানে ইরান এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এবং চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের দাবি করছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানের অবস্থান অনুযায়ী, জাহাজগুলোকে দেশটির উপকূলঘেঁষা নির্দিষ্ট পথ ব্যবহার করতে হবে। অন্য কোনো রুট ব্যবহারে তারা সম্মত নয়।

রোববার (৩ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসমাইল বাঘাই জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, এমন একটি রুট নির্ধারণের চেষ্টা চলছে, যা উভয় দেশের সার্বভৌম অধিকার, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে সম্মান করবে। তবে সমঝোতা হলেও সঙ্গে সঙ্গে পুরো প্রণালি খুলে দেওয়া হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

এদিকে, রোববার (৩ আগস্ট) ওমান উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজের আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ও এর সব নাবিক নিরাপদ ছিলেন।

ট্রাম্প সোমবার আবারও বলেন, ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করতে হবে। পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যে কর্মসূচি পরিচালনা করছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

এর আগে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশ তাকে নতুন করে হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে। তবে ইরানের গণমাধ্যম এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তেহরানের পক্ষ থেকে এমন কোনো অনুরোধ জানানো হয়নি।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান এখনো বিপরীতমুখী। এর মধ্যেই আলোচনার বিষয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং ট্রাম্পের ‘শেষ সুযোগ’ মন্তব্য নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।