জুলাই সনদ সামনে রেখে পুরো সংবিধান পর্যালোচনা করবে বিশেষ কমিটি
- আপডেট সময় ০৬:২৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 25
জুলাই জাতীয় সনদকে ভিত্তি ধরে দেশের পুরো সংবিধান পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধনী সুপারিশ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, ২০২৫ সালের জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কমিটির কার্যক্রম শুধু সংসদীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করা হবে।
আইনমন্ত্রী জানান, সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করার আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত ও আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী ও অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গেও আইনি দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে, যাতে সনদের ধারাগুলোকে সাংবিধানিক আইনের যথাযথ ভাষায় রূপ দেওয়া যায়।
কমিটির গঠন প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, ১৭ সদস্যের এই কমিটিতে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের রাখা হয়েছে। বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি সদস্যপদের বিষয়ে তাদের নাম পাওয়ার পর কমিটি পুনর্গঠন করা হবে।
তিনি বলেন, বিরোধী দল সরাসরি কমিটির বৈঠকে অংশ না নিলেও জুলাই সনদের মধ্যে তাদের অধিকাংশ মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন রয়েছে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে মূল কাঠামোর নীতি অক্ষুণ্ন রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
ভারতের কেশবানন্দ ভারতী মামলার উদাহরণ দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, সাংবিধানিক মূল কাঠামোর নীতি বজায় রেখেই সংশোধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। কোনো রাজনৈতিক আদর্শ চাপিয়ে দেওয়া বা আবেগের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কমিটি শুধু নিজেদের আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করবে না। সমাজের বিভিন্ন অংশ থেকে পাওয়া সংশোধনী প্রস্তাবও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, কমিটি সবার মতামত গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনীগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করবে। পরে ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তিতে এমন সংশোধনী গ্রহণ করা হবে, যা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে। রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের বিষয়গুলোও সংশোধনী প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকেও সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, আন্দালিব রহমান, নুরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমিন, শাকিলা ফারজানা, মাহমুদুল হক রুবেল এবং মো. অলি উল্লাহ।
প্রথম বৈঠকে মো. অলি উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন না। বর্তমানে কমিটিতে ১২ জন সদস্য রয়েছেন। বিরোধী দল সদস্যদের নাম দিলে আরও পাঁচজনকে যুক্ত করে কমিটি পুনর্গঠন করা যাবে।
গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে ১২ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৬ বিধি অনুযায়ী কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।























