ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সুদানের বিচার চলাকালে ড্রোন হামলায় নিহত অন্তত ৩৫

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০৬:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 55

ছবি: সংগৃহীত

সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুরে বিচার কার্যক্রম চলাকালে একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম আদালতে ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। মানবাধিকার সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ এ তথ্য জানিয়েছে। তবে এ হামলার বিষয়ে সুদানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, রোববার (স্থানীয় সময়) দুপুরে উত্তর দারফুরের গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামে এ হামলা চালানো হয়। সে সময় স্থানীয় বিভিন্ন বিরোধ ও মামলার শুনানিতে অংশ নিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ আদালত এলাকায় উপস্থিত ছিলেন। গ্রামটি বর্তমানে আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, একটি গাছের নিচে আদালতের কার্যক্রম চলছিল। সেখানে স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। হামলায় চারজন উপজাতীয় নেতা এবং আরএসএফের দুই কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে একজন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

আরও পড়ুন  গাজায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় শিশুর মৃত্যু, স্থল অভিযান শুরু

ড্রোন হামলায় আদালতের স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় ও উপজাতীয় বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দীর্ঘদিন ধরে এই আদালত ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের বাহিনী এবং তার সাবেক মিত্র, আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর নেতৃত্বাধীন বাহিনীর মধ্যে সশস্ত্র সংঘাত চলছে। এই গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক দশক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামটি এল-ফাশের শহরের পশ্চিমে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গত বছরের অক্টোবরে রক্তক্ষয়ী অভিযানের মাধ্যমে এল-ফাশের নিয়ন্ত্রণ নেয় আরএসএফ। এর আগে শহরটি দারফুর অঞ্চলে সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ছিল।

জাতিসংঘের তদন্তকারীদের মতে, এল-ফাশের অবরোধ ও দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতায় গণহত্যার লক্ষণ দেখা গেছে।

এদিকে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই সুদানে ড্রোন হামলায় এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। চলমান সংঘাতের কারণে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘ এ পরিস্থিতিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সুদানের বিচার চলাকালে ড্রোন হামলায় নিহত অন্তত ৩৫

আপডেট সময় ১০:০৬:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুরে বিচার কার্যক্রম চলাকালে একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম আদালতে ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। মানবাধিকার সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ এ তথ্য জানিয়েছে। তবে এ হামলার বিষয়ে সুদানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, রোববার (স্থানীয় সময়) দুপুরে উত্তর দারফুরের গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামে এ হামলা চালানো হয়। সে সময় স্থানীয় বিভিন্ন বিরোধ ও মামলার শুনানিতে অংশ নিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ আদালত এলাকায় উপস্থিত ছিলেন। গ্রামটি বর্তমানে আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, একটি গাছের নিচে আদালতের কার্যক্রম চলছিল। সেখানে স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। হামলায় চারজন উপজাতীয় নেতা এবং আরএসএফের দুই কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে একজন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

আরও পড়ুন  এক মাসের মধ্যে রামিসার হত্যাকারীর বিচার: প্রধানমন্ত্রী

ড্রোন হামলায় আদালতের স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় ও উপজাতীয় বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দীর্ঘদিন ধরে এই আদালত ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের বাহিনী এবং তার সাবেক মিত্র, আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর নেতৃত্বাধীন বাহিনীর মধ্যে সশস্ত্র সংঘাত চলছে। এই গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক দশক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামটি এল-ফাশের শহরের পশ্চিমে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গত বছরের অক্টোবরে রক্তক্ষয়ী অভিযানের মাধ্যমে এল-ফাশের নিয়ন্ত্রণ নেয় আরএসএফ। এর আগে শহরটি দারফুর অঞ্চলে সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ছিল।

জাতিসংঘের তদন্তকারীদের মতে, এল-ফাশের অবরোধ ও দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতায় গণহত্যার লক্ষণ দেখা গেছে।

এদিকে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই সুদানে ড্রোন হামলায় এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। চলমান সংঘাতের কারণে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘ এ পরিস্থিতিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছে।