মোদির বাসভবনে পদযাত্রার ঘোষণা কেজরিওয়ালের
- আপডেট সময় ০৫:৩৯:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- / 18
ভারতে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে আন্দোলন আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি জানিয়েছেন, ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে গিয়ে দুই লাখের বেশি মানুষের স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদনপত্র জমা দেবেন। এ উপলক্ষে দিল্লিতে একটি পদযাত্রারও আয়োজন করা হবে।
শনিবার, ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত জাতীয় গণশুনানিতে কেজরিওয়াল বলেন, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। তিনি জানান, ৪ আগস্ট দুপুরে নিজেই প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনে আবেদনপত্র পৌঁছে দেবেন। তার সঙ্গে এমন একশ জন থাকবেন, যারা গ্রেপ্তার বা লাঠিচার্জের আশঙ্কা উপেক্ষা করে কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রস্তুত।
কেজরিওয়াল অভিযোগ করেন, সরকার যদি ইথানল মিশ্রিত জ্বালানিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে করে, তাহলে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনার আয়োজন করতে পারে। সেখানে সরকার ও বিরোধী পক্ষ নিজেদের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরতে পারবে। তবে সরকার সে পথে না গিয়ে সমালোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে কেজরিওয়ালের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দিল্লি বিজেপির সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা বলেন, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির কারণে গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হয়েছে বা বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে—এমন অন্তত ১০০টি ঘটনার প্রমাণ কেজরিওয়ালকে উপস্থাপন করতে হবে। শুধু অভিযোগ করলেই হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতে ধাপে ধাপে পেট্রোলে ইথানলের পরিমাণ বাড়ানোর সরকারি নীতি নিয়ে কয়েক মাস ধরে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এতে অনেক গাড়ির জ্বালানি খরচ বাড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে ইঞ্জিনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, এ নীতি পরিবেশবান্ধব এবং জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক।
কেজরিওয়াল আরও অভিযোগ করেন, এ নীতির পেছনে শুধু পরিবেশগত কারণ নয়, অন্য স্বার্থও কাজ করছে। তার দাবি, ইথানল ব্যবসার সঙ্গে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নীতিন গড়করির দুই ছেলের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সমঝোতার কারণেও সরকার দ্রুত এ নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে কেজরিওয়াল তিনটি দাবি উত্থাপন করেন। তার দাবিগুলো হলো—প্রতিটি পেট্রোলপাম্পে সাধারণ পেট্রোল ও ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি—দুই ধরনের জ্বালানিই সরবরাহ নিশ্চিত করা, পেট্রোলের দাম কমানো এবং ইথানলের মূল্য হ্রাস করা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইথানল ইস্যু এখন শুধু জ্বালানি নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়েও বড় রাজনৈতিক আলোচনায় পরিণত হয়েছে। বিরোধী দলগুলো এ ইস্যুকে সামনে রেখে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
এদিকে ৪ আগস্টের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অতীতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনমুখী কর্মসূচিতে পুলিশি বাধা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

























