ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণ মামলার নিষ্পত্তির দাবি, ন্যায়বিচারের দাবিতে তীব্র প্রতিবাদ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৩৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫
  • / 540

ছবি: সংগৃহীত

 

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে ধর্ষণ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে আওয়াজ তুলেছে সামাজিক সংগঠন ‘সম্মিলিত নারী প্রয়াস’। সোমবার (৯ মার্চ) আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, ধর্ষণের মতো বর্বর অপরাধের বিচার দীর্ঘসূত্রিতার শিকার হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মানববন্ধনে বক্তারা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শান্তিতে নোবেল জয় আমাদের গর্ব, এবার জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিন। শিশু, কিশোরী ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুন, যাতে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।”

আরও পড়ুন  আজ সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানববন্ধন করবে ছাত্রদল: নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বিচারহীনতার প্রতিবাদ

বক্তারা স্পষ্ট বার্তা দেন, “ধর্ষণের বিচার না হলে নারীরা আবারও রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। জুলাই-আগস্টের মতো আন্দোলন গড়ে তুলতে আমরা প্রস্তুত। ধর্ষককে রেহাই দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ না হলে দেশের নারীরা চুপ করে থাকবে না।” তারা আরও বলেন, “ধর্ষক কোনো পুরুষ নয়, তারা নরপশু। তাই তাদের পরিচয়ে কোনো বিভ্রান্তি নেই। সারা বাংলায় বার্তা পৌঁছে দিতে হবে ধর্ষকের কবর রচিত হবেই। আমরা আর বিচারহীনতার প্রহসন সহ্য করবো না। উই ওয়ান্ট জাস্টিস!”

সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনীম বলেন, “ধর্ষণের ঘটনাগুলো বছরের পর বছর প্রভাবশালী মহলের চাপে ধামাচাপা পড়ে যায়। প্রমাণ নষ্ট করা হয়, পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানায়, আর ধর্ষকরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে পার পেয়ে যায়। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি চলতে পারে না।” তিনি আরও বলেন, “ড. ইউনূস শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন, এবার শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। আমরা রক্ত দিয়ে অর্জিত এই বাংলাদেশকে কলঙ্কিত হতে দেব না।”

সংগঠনের সেক্রেটারি ড. ফেরদৌস আরা বকুল বলেন, “আজকের সমাজে একটি শিশুও নিরাপদ নয়। ঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সব জায়গাতেই আতঙ্ক। এই সমাজ ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে হবে। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গড়ে তুলতে হবে।” তিনি অভিযোগ করে বলেন, “নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাবে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। এ থেকে মুক্তি পেতে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং ইসলামী মূল্যবোধের চর্চা জরুরি।”

প্রসঙ্গত, মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে আট বছরের শিশু আসিয়াকে নির্মমভাবে ধর্ষণের ঘটনায় সারা দেশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এর প্রতিবাদে ‘সম্মিলিত নারী প্রয়াস’ এই মানববন্ধন আয়োজন করে। সংগঠনটির সহ-সভাপতি ডা. শাহীন আরা আনওয়ারী, সহকারী সেক্রেটারি সাহেল মুস্তারি ও ইঞ্জিনিয়ার নিয়ামা ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যরা মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।

নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবিতে সারা দেশে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণ মামলার নিষ্পত্তির দাবি, ন্যায়বিচারের দাবিতে তীব্র প্রতিবাদ

আপডেট সময় ০৫:৩৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫

 

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে ধর্ষণ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে আওয়াজ তুলেছে সামাজিক সংগঠন ‘সম্মিলিত নারী প্রয়াস’। সোমবার (৯ মার্চ) আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, ধর্ষণের মতো বর্বর অপরাধের বিচার দীর্ঘসূত্রিতার শিকার হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মানববন্ধনে বক্তারা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শান্তিতে নোবেল জয় আমাদের গর্ব, এবার জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিন। শিশু, কিশোরী ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুন, যাতে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।”

আরও পড়ুন  ম্যারাডোনার মৃত্যুর পেছনে অবহেলা?: সাত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা ও বিচার শুরু

বক্তারা স্পষ্ট বার্তা দেন, “ধর্ষণের বিচার না হলে নারীরা আবারও রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। জুলাই-আগস্টের মতো আন্দোলন গড়ে তুলতে আমরা প্রস্তুত। ধর্ষককে রেহাই দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ না হলে দেশের নারীরা চুপ করে থাকবে না।” তারা আরও বলেন, “ধর্ষক কোনো পুরুষ নয়, তারা নরপশু। তাই তাদের পরিচয়ে কোনো বিভ্রান্তি নেই। সারা বাংলায় বার্তা পৌঁছে দিতে হবে ধর্ষকের কবর রচিত হবেই। আমরা আর বিচারহীনতার প্রহসন সহ্য করবো না। উই ওয়ান্ট জাস্টিস!”

সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনীম বলেন, “ধর্ষণের ঘটনাগুলো বছরের পর বছর প্রভাবশালী মহলের চাপে ধামাচাপা পড়ে যায়। প্রমাণ নষ্ট করা হয়, পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানায়, আর ধর্ষকরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে পার পেয়ে যায়। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি চলতে পারে না।” তিনি আরও বলেন, “ড. ইউনূস শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন, এবার শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। আমরা রক্ত দিয়ে অর্জিত এই বাংলাদেশকে কলঙ্কিত হতে দেব না।”

সংগঠনের সেক্রেটারি ড. ফেরদৌস আরা বকুল বলেন, “আজকের সমাজে একটি শিশুও নিরাপদ নয়। ঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সব জায়গাতেই আতঙ্ক। এই সমাজ ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে হবে। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গড়ে তুলতে হবে।” তিনি অভিযোগ করে বলেন, “নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাবে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। এ থেকে মুক্তি পেতে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং ইসলামী মূল্যবোধের চর্চা জরুরি।”

প্রসঙ্গত, মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে আট বছরের শিশু আসিয়াকে নির্মমভাবে ধর্ষণের ঘটনায় সারা দেশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এর প্রতিবাদে ‘সম্মিলিত নারী প্রয়াস’ এই মানববন্ধন আয়োজন করে। সংগঠনটির সহ-সভাপতি ডা. শাহীন আরা আনওয়ারী, সহকারী সেক্রেটারি সাহেল মুস্তারি ও ইঞ্জিনিয়ার নিয়ামা ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যরা মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।

নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবিতে সারা দেশে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানানো হয়।