ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

গ্যাস সংকতে, বাড়ছে লোডশেডিং

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৪৪:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 20

ছবি: সংগৃহীত

মহেশখালীর একটি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনাল বন্ধ থাকায় দেশে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর প্রভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে এবং জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসের ঘাটতির পাশাপাশি কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহ সমস্যা এবং কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

পেট্রোবাংলার একাধিক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত পেট্রোবাংলার মালিকানাধীন এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। টার্মিনালটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি এটি পুরোপুরি সচল করতে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছে। তবে টার্মিনালের অক্ষত অংশ চলতি সপ্তাহে চালু করা সম্ভব হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হতে পারে। যদিও এটি কবে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি।

মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি পেট্রোবাংলার এবং অন্যটি সামিটের মালিকানাধীন হলেও উভয়টি পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জি। অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটির পর একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।

আরও পড়ুন  আজ সকাল থেকে যেসব এলাকায় ২৪ ঘণ্টার গ্যাস বিপর্যয়

স্বাভাবিক সময়ে দেশে প্রতিদিন প্রায় ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ২১০ থেকে ২১৫ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। অথচ দৈনিক চাহিদা প্রায় ৪১০ কোটি ঘনফুট। দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে। ফলে আবাসিক, শিল্প, বিদ্যুৎ ও সিএনজিসহ প্রায় সব খাতেই সরবরাহ কমিয়ে দিতে হয়েছে।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের আওতাধীন সব ধরনের গ্রাহক তীব্র স্বল্পচাপের সমস্যার মুখে থাকবেন।

গ্যাসের ঘাটতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। সাধারণত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও শুক্রবার তা নেমে আসে প্রায় ৬৭ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুটে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) হিসাব অনুযায়ী, শুধু গ্যাসের অভাবেই বিদ্যুৎ উৎপাদন দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি কমেছে।

শনিবার রাত ১টার দিকে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন হয় ১৩ হাজার ২৩৮ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৯১৬ মেগাওয়াট। দিনের বিভিন্ন সময়েও বিদ্যুতের ঘাটতি আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি ছিল।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও জ্বালানির সংকট এবং বিভিন্ন কেন্দ্রের কারিগরি সমস্যার কারণে সেই সক্ষমতার বড় অংশ ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। একই সময়ে কয়লাভিত্তিক কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি কিছু ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্রেও জ্বালানির সংকট রয়েছে। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইউনিটটির ‘থ্রাস্ট বিয়ারিং’-এর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াকে এ সমস্যার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে লোডশেডিং করা হলেও রাজধানীর তুলনায় জেলা ও গ্রামাঞ্চলে এর প্রভাব বেশি পড়ছে। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে অনেক পরিবার রান্নার কাজে বৈদ্যুতিক চুলা, রাইস কুকারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করায় বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। তবে নিয়মিত বৃষ্টিপাত ও তুলনামূলক কম তাপমাত্রার কারণে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার কম থাকায় চাহিদা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রাজধানীর রামপুরা, মিরপুর, উত্তরা, মগবাজার, মোহাম্মদপুর ও আদাবরসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা কয়েক দিন ধরে রান্নার গ্যাসের স্বল্পচাপের অভিযোগ করছেন। অনেক এলাকায় গভীর রাতেও পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ মিলছে না।

সিএনজি স্টেশনগুলোতেও প্রয়োজনীয় গ্যাসচাপ না থাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। অনেক স্টেশন দিনের দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। এতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহারও কমিয়ে দিচ্ছেন অনেক চালক।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ভালুকাসহ দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কিছু কারখানা উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে, আবার অনেক প্রতিষ্ঠান সক্ষমতার ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ ব্যবহার করে উৎপাদন চালাচ্ছে। বিকল্প হিসেবে ডিজেল ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। একই সঙ্গে ঘনঘন লোডশেডিং শিল্প খাতের সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, টার্মিনাল মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে এনে পৌঁছানো হয়েছে এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি দেশীয় প্রকৌশলীরাও মেরামতকাজে অংশ নিচ্ছেন। অক্ষত অংশ চালু করা গেলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে। এতে বিদ্যুৎ, শিল্প ও আবাসিক খাতে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে এবং গ্যাসের স্বল্পচাপ ও লোডশেডিং পরিস্থিতিরও কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হতে আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গ্যাস সংকতে, বাড়ছে লোডশেডিং

আপডেট সময় ০৩:৪৪:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

মহেশখালীর একটি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনাল বন্ধ থাকায় দেশে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর প্রভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে এবং জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসের ঘাটতির পাশাপাশি কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহ সমস্যা এবং কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

পেট্রোবাংলার একাধিক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত পেট্রোবাংলার মালিকানাধীন এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। টার্মিনালটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি এটি পুরোপুরি সচল করতে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছে। তবে টার্মিনালের অক্ষত অংশ চলতি সপ্তাহে চালু করা সম্ভব হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হতে পারে। যদিও এটি কবে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি।

মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি পেট্রোবাংলার এবং অন্যটি সামিটের মালিকানাধীন হলেও উভয়টি পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জি। অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটির পর একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।

আরও পড়ুন  এলপি গ্যাস নিয়ে সুখবর

স্বাভাবিক সময়ে দেশে প্রতিদিন প্রায় ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ২১০ থেকে ২১৫ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। অথচ দৈনিক চাহিদা প্রায় ৪১০ কোটি ঘনফুট। দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে। ফলে আবাসিক, শিল্প, বিদ্যুৎ ও সিএনজিসহ প্রায় সব খাতেই সরবরাহ কমিয়ে দিতে হয়েছে।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের আওতাধীন সব ধরনের গ্রাহক তীব্র স্বল্পচাপের সমস্যার মুখে থাকবেন।

গ্যাসের ঘাটতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। সাধারণত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও শুক্রবার তা নেমে আসে প্রায় ৬৭ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুটে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) হিসাব অনুযায়ী, শুধু গ্যাসের অভাবেই বিদ্যুৎ উৎপাদন দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি কমেছে।

শনিবার রাত ১টার দিকে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন হয় ১৩ হাজার ২৩৮ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৯১৬ মেগাওয়াট। দিনের বিভিন্ন সময়েও বিদ্যুতের ঘাটতি আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি ছিল।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও জ্বালানির সংকট এবং বিভিন্ন কেন্দ্রের কারিগরি সমস্যার কারণে সেই সক্ষমতার বড় অংশ ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। একই সময়ে কয়লাভিত্তিক কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি কিছু ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্রেও জ্বালানির সংকট রয়েছে। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইউনিটটির ‘থ্রাস্ট বিয়ারিং’-এর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াকে এ সমস্যার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে লোডশেডিং করা হলেও রাজধানীর তুলনায় জেলা ও গ্রামাঞ্চলে এর প্রভাব বেশি পড়ছে। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে অনেক পরিবার রান্নার কাজে বৈদ্যুতিক চুলা, রাইস কুকারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করায় বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। তবে নিয়মিত বৃষ্টিপাত ও তুলনামূলক কম তাপমাত্রার কারণে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার কম থাকায় চাহিদা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রাজধানীর রামপুরা, মিরপুর, উত্তরা, মগবাজার, মোহাম্মদপুর ও আদাবরসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা কয়েক দিন ধরে রান্নার গ্যাসের স্বল্পচাপের অভিযোগ করছেন। অনেক এলাকায় গভীর রাতেও পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ মিলছে না।

সিএনজি স্টেশনগুলোতেও প্রয়োজনীয় গ্যাসচাপ না থাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। অনেক স্টেশন দিনের দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। এতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহারও কমিয়ে দিচ্ছেন অনেক চালক।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ভালুকাসহ দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কিছু কারখানা উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে, আবার অনেক প্রতিষ্ঠান সক্ষমতার ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ ব্যবহার করে উৎপাদন চালাচ্ছে। বিকল্প হিসেবে ডিজেল ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। একই সঙ্গে ঘনঘন লোডশেডিং শিল্প খাতের সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, টার্মিনাল মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে এনে পৌঁছানো হয়েছে এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি দেশীয় প্রকৌশলীরাও মেরামতকাজে অংশ নিচ্ছেন। অক্ষত অংশ চালু করা গেলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে। এতে বিদ্যুৎ, শিল্প ও আবাসিক খাতে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে এবং গ্যাসের স্বল্পচাপ ও লোডশেডিং পরিস্থিতিরও কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হতে আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।