ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘মালয়েশিয়ায় কোনো ইসরাইলির জায়গা নেই’

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০৮:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • / 50

মালয়েশিয়ায় কোনো ইসরাইলি নাগরিকের উপস্থিতি শনাক্ত হলে তাকে অবিলম্বে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। জোহর রাজ্যের একটি প্রযুক্তিভিত্তিক কমিউনিটিতে ইসরাইলিদের উপস্থিতির অভিযোগ ওঠার পর এ মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মালয়েশিয়া ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। তাই কোনো ইসরাইলি নাগরিকের উপস্থিতি পাওয়া গেলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।

আরও পড়ুন  মালয়েশিয়ার মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশির প্রাণহানি

তিনি জানান, জোহর রাজ্যের বহুল আলোচিত ‘ফরেস্ট সিটি’ আবাসন প্রকল্পে গড়ে ওঠা ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ নামের একটি কমিউনিটিতে ইসরাইলি নাগরিকরা যুক্ত রয়েছেন—এমন অভিযোগের পর প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ প্রকল্পটি মার্কিন বিনিয়োগকারী ও কয়েনবেসের সাবেক প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বালাজি শ্রীনিবাসনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ওঠে, কিছু ইসরাইলি নাগরিক দ্বৈত নাগরিকত্ব ব্যবহার করে অন্য দেশের পাসপোর্টে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করে এ প্রকল্পে অংশ নিয়েছেন।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন অনুযায়ী ইসরাইলি নাগরিকদের দেশটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ। এ কারণে বিষয়টি তদন্ত করছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

জোহর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওন হাফিজ গাজি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রকল্পটির কার্যক্রম গভীরভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিদের পরিচয়, জাতীয়তা, ভ্রমণ নথি এবং দ্বিতীয় পাসপোর্ট ব্যবহারের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।

তবে অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, ফরেস্ট সিটির ওই প্রকল্পে অবস্থানরত ৪০টি দেশের ২৬৬ জন বিদেশি নাগরিকের নথিপত্র পরীক্ষা করে এখন পর্যন্ত সবকিছু বৈধ পাওয়া গেছে।

মালয়েশিয়া ১৯৫৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান বজায় রেখেছে এবং ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধেও দেশটির সরকার ধারাবাহিকভাবে সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছে।

তবে চলমান তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো ইসরাইলি নাগরিককে শনাক্ত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

‘মালয়েশিয়ায় কোনো ইসরাইলির জায়গা নেই’

আপডেট সময় ১১:০৮:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

মালয়েশিয়ায় কোনো ইসরাইলি নাগরিকের উপস্থিতি শনাক্ত হলে তাকে অবিলম্বে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। জোহর রাজ্যের একটি প্রযুক্তিভিত্তিক কমিউনিটিতে ইসরাইলিদের উপস্থিতির অভিযোগ ওঠার পর এ মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মালয়েশিয়া ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। তাই কোনো ইসরাইলি নাগরিকের উপস্থিতি পাওয়া গেলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।

আরও পড়ুন  প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

তিনি জানান, জোহর রাজ্যের বহুল আলোচিত ‘ফরেস্ট সিটি’ আবাসন প্রকল্পে গড়ে ওঠা ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ নামের একটি কমিউনিটিতে ইসরাইলি নাগরিকরা যুক্ত রয়েছেন—এমন অভিযোগের পর প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ প্রকল্পটি মার্কিন বিনিয়োগকারী ও কয়েনবেসের সাবেক প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বালাজি শ্রীনিবাসনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ওঠে, কিছু ইসরাইলি নাগরিক দ্বৈত নাগরিকত্ব ব্যবহার করে অন্য দেশের পাসপোর্টে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করে এ প্রকল্পে অংশ নিয়েছেন।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন অনুযায়ী ইসরাইলি নাগরিকদের দেশটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ। এ কারণে বিষয়টি তদন্ত করছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

জোহর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওন হাফিজ গাজি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রকল্পটির কার্যক্রম গভীরভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিদের পরিচয়, জাতীয়তা, ভ্রমণ নথি এবং দ্বিতীয় পাসপোর্ট ব্যবহারের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।

তবে অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, ফরেস্ট সিটির ওই প্রকল্পে অবস্থানরত ৪০টি দেশের ২৬৬ জন বিদেশি নাগরিকের নথিপত্র পরীক্ষা করে এখন পর্যন্ত সবকিছু বৈধ পাওয়া গেছে।

মালয়েশিয়া ১৯৫৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান বজায় রেখেছে এবং ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধেও দেশটির সরকার ধারাবাহিকভাবে সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছে।

তবে চলমান তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো ইসরাইলি নাগরিককে শনাক্ত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।