‘১৭ বছর মানুষকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
- আপডেট সময় ১২:৫৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
- / 19
গত ১৭ বছর দেশে মানুষকে স্বাধীনভাবে কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় এগোতে শুরু করেছে এবং এখন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভাবুকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জেলা পুলিশের আয়োজিত ‘শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও প্রগতি’ শীর্ষক সামাজিক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছর মানুষকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি এবং বিভিন্ন পর্যায়ে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। তার দাবি, বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলার কারণে আদালতে যেতে হয়েছে, কারাবরণ করতে হয়েছে এবং নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর দেশ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথে এগোতে শুরু করেছে এবং বর্তমানে আগের মতো পরিস্থিতি নেই।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। একই সঙ্গে তিনি তার বাবা কে এম ওবায়দুর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি দল-মত নির্বিশেষে মানুষের সেবা করেছেন। সেই আদর্শ অনুসরণ করেই তিনি নিজেও মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন।
মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ ও আত্মহত্যার মতো সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গড়ে তুলতে পারলে অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
স্থানীয় বিরোধ, জমিজমা-সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব এবং সামাজিক সংঘাত নিরসনে পারস্পরিক সহনশীলতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা বাড়লে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।
এর আগে দিনব্যাপী সফরের অংশ হিসেবে তিনি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবার পরিদর্শন করেন। এছাড়া সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।























