গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল
- আপডেট সময় ০৫:১২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
- / 18
গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা হলেও অতীতে সেই ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তোষামোদী সংস্কৃতি দেখতে না চাইলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখনো তা দেখা যাচ্ছে।
রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) সম্মেলনকক্ষে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত পাঁচ সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা এবং এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় আনা। তবে অতীতে গণমাধ্যমের একটি অংশ সেই দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে তোষামোদে ব্যস্ত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, এই প্রবণতা শুধু গণমাধ্যমেই নয়, রাজনীতি ও আমলাতন্ত্রেও বিদ্যমান।
তিনি বলেন, ‘তোষামোদী, মোসাহেবি—এই সংস্কৃতি আর দেখতে চাই না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখনো তা দেখতে হচ্ছে। রাজনীতিতে একই ঘটনা ঘটে, আমলাতন্ত্রেও একই চিত্র। কোথাও না কোথাও সমস্যা রয়েছে।’
বিএনপির মহাসচিবের মতে, এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে জাতিগতভাবে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, এমন একটি পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজে মৌলিক সংস্কার সম্ভব হতে পারে।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি ওই সনদে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে কাজ করছে। তবে কিছু বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, জুলাই সনদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হবে না, সেসব বিষয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে সংশ্লিষ্ট দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু বর্তমানে বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য নেই, সেগুলো সংসদে আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সঙ্গে আলোচনা ও সহযোগিতার জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিগত ১৫ বছরে দেশজুড়ে সংঘটিত লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রসঙ্গ তুলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এত দীর্ঘ সময়ের ক্ষতি একদিনে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে তিনি দাবি করেন, পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে, যদিও এখনও কিছু অপূর্ণতা ও অসংগতি রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি এবং আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দেশে যেন কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে, সে লক্ষ্যেই সংগঠনটি কাজ করবে। পাশাপাশি ঢাকা ও জেলা পর্যায়ের সম্পাদকদের সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এ সময় ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি ওয়াদার-এর সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা দীর্ঘদিন ধরে বহমান থাকবে। তিনি নিহত পাঁচ সাংবাদিকের সন্তানদের শিক্ষার ব্যয় বহনে এনইসির পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যুগান্তর-এর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার। এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসি আরা জামান, সাংবাদিক হাসান মেহেদীর স্ত্রী ফারহানা ইসলাম পপিসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।






















