ঢাকা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :

হরমুজের নতুন অস্ত্রের দিকে নজর ইরানের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • / 97

ছবি সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধকালীন কৌশলগত অবরোধকে সফল দাবি করার পর, এবার সমুদ্রতলের (সাবমেরিন) ইন্টারনেট ক্যাবলকে নতুন ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে ইরান। ইউরোপ, এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিপুল ইন্টারনেট ডেটা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক তথ্য আদান-প্রদানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সাবমেরিন কেবলগুলোর ওপর তেহরান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর আজ রোববার (১৭ মে)-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান এখন হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল ব্যবহারের জন্য বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে নিয়মিত ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো পরোক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এই নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ করা না হলে সমুদ্রতলের ক্যাবলগুলোর কার্যকারিতা বিঘ্নিত হতে পারে। ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) সরাসরি ঘোষণা দিয়ে বলেন, “আমরা আমাদের জলসীমার ওপর দিয়ে যাওয়া ইন্টারনেট ক্যাবলের ওপর নতুন ফি আরোপ করব।”

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী—গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা এবং অ্যামাজনের মতো বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকে ইরানের অভ্যন্তরীণ আইন মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি, সাবমেরিন ক্যাবল পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোকে লাইসেন্স ফি দিতে হবে এবং ওই অঞ্চলের ক্যাবল মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের যাবতীয় একচ্ছত্র অধিকার শুধু ইরানি কোম্পানিগুলোকেই দিতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্র আইনবিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশন (UNCLOS)-এর দোহাই দিয়ে ইরান মূলত এই নতুন শর্তগুলো আরোপের চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন  হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন প্রস্তাব ইরানের

টেলিকম গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘টেলিজিওগ্রাফি’-র তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যাওয়া ‘ফ্যালকন’ এবং ‘গালফ ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল’ নামের দুটি প্রধান সাবমেরিন কেবল সরাসরি ইরানের জলসীমা অতিক্রম করেছে। এই ক্যাবলগুলো বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থার মূল ভিত্তি, যার মাধ্যমে বিশ্বের অধিকাংশ ডেটা, ব্যাংকিং লেনদেন, সামরিক যোগাযোগ এবং ক্লাউড সেবা পরিচালিত হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক হাবতুর রিসার্চ সেন্টারের গবেষক মোস্তফা আহমেদ এই বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, “আইআরজিসি-র কাছে দক্ষ ডুবুরি, ছোট সাবমেরিন এবং পানির নিচে নিখুঁতভাবে পরিচালিত ড্রোন রয়েছে, যা সাবমেরিন ক্যাবলের জন্য সরাসরি বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।” বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, কোনো কারণে এই ক্যাবলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত বা বিচ্ছিন্ন হলে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বহু অঞ্চলে ভয়াবহ ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট দেখা দেবে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে, ভারতের বিপুল আউটসোর্সিং শিল্প বড় ধাক্কা খাবে এবং ইউরোপ-এশিয়ার আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি পূর্ব আফ্রিকার ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক শক্তির বাইরে হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা নিতেই তেহরান এই নতুন চাল চালছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

হরমুজের নতুন অস্ত্রের দিকে নজর ইরানের

আপডেট সময় ০৬:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধকালীন কৌশলগত অবরোধকে সফল দাবি করার পর, এবার সমুদ্রতলের (সাবমেরিন) ইন্টারনেট ক্যাবলকে নতুন ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে ইরান। ইউরোপ, এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিপুল ইন্টারনেট ডেটা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক তথ্য আদান-প্রদানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সাবমেরিন কেবলগুলোর ওপর তেহরান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর আজ রোববার (১৭ মে)-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান এখন হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল ব্যবহারের জন্য বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে নিয়মিত ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো পরোক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এই নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ করা না হলে সমুদ্রতলের ক্যাবলগুলোর কার্যকারিতা বিঘ্নিত হতে পারে। ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) সরাসরি ঘোষণা দিয়ে বলেন, “আমরা আমাদের জলসীমার ওপর দিয়ে যাওয়া ইন্টারনেট ক্যাবলের ওপর নতুন ফি আরোপ করব।”

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী—গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা এবং অ্যামাজনের মতো বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকে ইরানের অভ্যন্তরীণ আইন মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি, সাবমেরিন ক্যাবল পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোকে লাইসেন্স ফি দিতে হবে এবং ওই অঞ্চলের ক্যাবল মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের যাবতীয় একচ্ছত্র অধিকার শুধু ইরানি কোম্পানিগুলোকেই দিতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্র আইনবিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশন (UNCLOS)-এর দোহাই দিয়ে ইরান মূলত এই নতুন শর্তগুলো আরোপের চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন  ইরানকে ট্রাম্পের দুই মাসের আল্টিমেটাম, নতুন চুক্তি না হলে সামরিক হামলা

টেলিকম গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘টেলিজিওগ্রাফি’-র তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যাওয়া ‘ফ্যালকন’ এবং ‘গালফ ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল’ নামের দুটি প্রধান সাবমেরিন কেবল সরাসরি ইরানের জলসীমা অতিক্রম করেছে। এই ক্যাবলগুলো বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থার মূল ভিত্তি, যার মাধ্যমে বিশ্বের অধিকাংশ ডেটা, ব্যাংকিং লেনদেন, সামরিক যোগাযোগ এবং ক্লাউড সেবা পরিচালিত হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক হাবতুর রিসার্চ সেন্টারের গবেষক মোস্তফা আহমেদ এই বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, “আইআরজিসি-র কাছে দক্ষ ডুবুরি, ছোট সাবমেরিন এবং পানির নিচে নিখুঁতভাবে পরিচালিত ড্রোন রয়েছে, যা সাবমেরিন ক্যাবলের জন্য সরাসরি বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।” বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, কোনো কারণে এই ক্যাবলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত বা বিচ্ছিন্ন হলে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বহু অঞ্চলে ভয়াবহ ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট দেখা দেবে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে, ভারতের বিপুল আউটসোর্সিং শিল্প বড় ধাক্কা খাবে এবং ইউরোপ-এশিয়ার আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি পূর্ব আফ্রিকার ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক শক্তির বাইরে হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা নিতেই তেহরান এই নতুন চাল চালছে।