চুক্তি হলেও হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ইরানের কাছেই থাকবে; দাবি সাবেক মার্কিন উপদেষ্টার
- আপডেট সময় ০৫:০৩:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
- / 88
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভবিষ্যতে কোনো শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ চিরকাল তেহরানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জ্বালানি ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা আমোস হোচস্টাইন। মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিডেল ইস্ট আই’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ব্লুমবার্গের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে হোচস্টাইন জানান, নিকট ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর থেকে ইরানের একচ্ছত্র আধিপত্য কমার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা নেই।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন হয়তো চুক্তির মাধ্যমে জলপথ উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিশ্বাস করবে, কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলো তা সহজে মেনে নেবে না। কারণ তারা জানে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই পয়েন্টে ইরানের হাতে কার্যত এক ধরণের ‘ভেটো’ ক্ষমতা রয়েছে।
বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা চললেও পরিস্থিতি বেশ জটিল। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করছে এবং আলোচনা ব্যর্থ হলে পুনরায় বোমাবর্ষণের হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুদ্ধ বন্ধ ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে। বর্তমানে কুয়েত ও বাহরাইনের তেল রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
কাতার তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) রপ্তানিতে জুন পর্যন্ত জরুরি অবস্থা বা ‘ফোর্স মেজার’ জারি করেছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে আংশিক রপ্তানি সচল রাখলেও ইরাক সিরিয়া ও তুরস্কের মাধ্যমে বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা করছে।
হোচস্টাইন আরও জানান, বিশ্ববাজারে তেলের দামে এক ভয়াবহ অসংগতি দেখা দিয়েছে। কাগজে-কলমে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার থাকলেও সংকটের কারণে বাস্তবে তা ১৫০ থেকে ১৭০ ডলারে কিনতে হচ্ছে।
শ্রীলঙ্কার মতো দরিদ্র দেশগুলোতে এই দাম ব্যারেল প্রতি ২৮৬ ডলারে পৌঁছেছে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, এই জ্বালানি সংকট এশিয়া হয়ে খুব শীঘ্রই পশ্চিমা দেশগুলোতেও আঘাত হানবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ইরানকে এড়িয়ে বিকল্প অবকাঠামো গড়ার চেষ্টা করছে।

























