ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

তিন জটিল ইস্যুতে আটকে আছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 105

ছবি সংগৃহীত

 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা এখনও বড় ধরনের অচলাবস্থায় আটকে আছে। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে স্পষ্ট যে, একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনও বেশ কিছু কঠিন বাধা অতিক্রম করা বাকি। গত শনিবার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটন ‘চূড়ান্ত কোনো চুক্তি থেকে এখনও অনেক দূরে’ অবস্থান করছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং ইরান কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে। তবে তেহরানের দরকষাকষির কৌশলকে তিনি ‘চালাকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না।

আরও পড়ুন  ইরান গোপনে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে: দাবী দ্য টেলিগ্রাফের

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মূলত তিনটি প্রধান ইস্যুতে আলোচনা থমকে দাঁড়িয়েছে:

১. ইউরেনিয়াম মজুতের গন্তব্য:
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে রাজি হয়েছে। তবে ইরানি কর্মকর্তারা এই দাবি সরাসরি নাকচ করে একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। বর্তমানে ইরানের হাতে থাকা প্রায় ৪০০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিনিময়ে তেহরান তাদের জব্দ করা ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ মুক্ত করা এবং বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের দাবি জানিয়েছে।

২. সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের সময়সীমা:
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি কত বছরের জন্য স্থগিত থাকবে, তা নিয়ে দুই পক্ষ বিপরীতমুখী অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের জন্য এই কর্মসূচি বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিলেও ইরান মাত্র ৫ বছরের বেশি রাজি হতে চাইছে না। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে গিয়ে কোনো বিশেষ শর্ত বা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মসূচি বন্ধের দাবি মেনে নেবে না।

৩. হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ:
দীর্ঘ দুই মাস বন্ধ থাকার পর গত শুক্রবার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান পুনরায় ওই সমুদ্রসীমায় জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বমুহূর্তে এই অচলাবস্থা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ মুহূর্তে কোনো চমকপ্রদ নাটকীয়তা ঘটবে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

তিন জটিল ইস্যুতে আটকে আছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা

আপডেট সময় ০৩:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা এখনও বড় ধরনের অচলাবস্থায় আটকে আছে। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে স্পষ্ট যে, একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনও বেশ কিছু কঠিন বাধা অতিক্রম করা বাকি। গত শনিবার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটন ‘চূড়ান্ত কোনো চুক্তি থেকে এখনও অনেক দূরে’ অবস্থান করছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং ইরান কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে। তবে তেহরানের দরকষাকষির কৌশলকে তিনি ‘চালাকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না।

আরও পড়ুন  রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মূলত তিনটি প্রধান ইস্যুতে আলোচনা থমকে দাঁড়িয়েছে:

১. ইউরেনিয়াম মজুতের গন্তব্য:
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে রাজি হয়েছে। তবে ইরানি কর্মকর্তারা এই দাবি সরাসরি নাকচ করে একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। বর্তমানে ইরানের হাতে থাকা প্রায় ৪০০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিনিময়ে তেহরান তাদের জব্দ করা ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ মুক্ত করা এবং বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের দাবি জানিয়েছে।

২. সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের সময়সীমা:
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি কত বছরের জন্য স্থগিত থাকবে, তা নিয়ে দুই পক্ষ বিপরীতমুখী অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের জন্য এই কর্মসূচি বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিলেও ইরান মাত্র ৫ বছরের বেশি রাজি হতে চাইছে না। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে গিয়ে কোনো বিশেষ শর্ত বা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মসূচি বন্ধের দাবি মেনে নেবে না।

৩. হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ:
দীর্ঘ দুই মাস বন্ধ থাকার পর গত শুক্রবার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান পুনরায় ওই সমুদ্রসীমায় জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বমুহূর্তে এই অচলাবস্থা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ মুহূর্তে কোনো চমকপ্রদ নাটকীয়তা ঘটবে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল।