ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
পদত্যাগের পর হাসিমুখে পূজামণ্ডপে ইশরাক সৌদি আরবে নিহত নুরুল হকের পরিবার পেলেন ক্ষতিপূরণ বিচ্ছেদের পর নতুন রূপে শেহতাজ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমছে নেতানিয়াহুর, খুঁজছেন নতুন মিত্র সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার ববি হাজ্জাজের নিজ সন্তানের জন্য হলেও ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, তথ্যের ঘাটতি ছিল

গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত গাদ্দাফি পুত্র সাইফ আল-ইসলাম

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০৮:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 2859

ছবি: খবরের কথা

 

লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির দ্বিতীয় পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। পশ্চিম লিবিয়ার জিনতান শহরে মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল-ইসলামকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তিনি গত প্রায় এক দশক ধরে জিনতান শহরেই অবস্থান করছিলেন। তবে কী পরিস্থিতিতে এবং কারা এই হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন  সুদানের খার্তুমে গোলাবর্ষণে নিহত ১২০, আহত বিপুলসংখ্যক

আল জাজিরা আরবির লিবিয়া বিষয়ক সংবাদদাতা আহমেদ খলিফা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, সাইফ গাদ্দাফির পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র, তার আইনজীবী খালেদ এল-জাইদি এবং দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যম তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে হত্যার সময়কার সুনির্দিষ্ট ঘটনা বা হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো অস্পষ্ট।

সাইফ আল-ইসলাম ছিলেন গাদ্দাফির সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ও প্রভাবশালী। ২০১১ সালে গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর তিনি গ্রেপ্তার হন, পরে মুক্তি পান। মুক্তির পর তিনি লিবিয়ার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেন এবং নিজেকে আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে আনতে উদ্যোগ নেন।

একসময় তাকে তার পিতার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবেও দেখা হতো। যদিও গাদ্দাফির শাসনামলে তিনি আনুষ্ঠানিক কোনো সরকারি পদে ছিলেন না, তবে নীতিনির্ধারণে তার প্রভাব ছিল ব্যাপক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি ছিলেন পরিচিত মুখ।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে পড়াশোনা করা সাইফ সাবলীল ইংরেজিভাষী ছিলেন এবং একসময় পশ্চিমা বিশ্বে লিবিয়ার তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিতি পান। লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র ত্যাগ এবং ১৯৮৮ সালের লকারবি বিমান বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আলোচনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তবে ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত তাকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেয়। সেই রায়ের কারণে ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলেও তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।
চার দশকেরও বেশি সময় লিবিয়া শাসন করা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ২০১১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারান এবং পরে নিহত হন। তার এক দশকেরও বেশি সময় পর এবার সহিংস মৃত্যুর শিকার হলেন তার পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি।

নিউজটি শেয়ার করুন

গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত গাদ্দাফি পুত্র সাইফ আল-ইসলাম

আপডেট সময় ১১:০৮:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির দ্বিতীয় পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। পশ্চিম লিবিয়ার জিনতান শহরে মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল-ইসলামকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তিনি গত প্রায় এক দশক ধরে জিনতান শহরেই অবস্থান করছিলেন। তবে কী পরিস্থিতিতে এবং কারা এই হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন  খুলনায় ভোটকেন্দ্রে মাদ্রাসা প্রধানের ধাক্কায় বিএনপি নেতা নিহত

আল জাজিরা আরবির লিবিয়া বিষয়ক সংবাদদাতা আহমেদ খলিফা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, সাইফ গাদ্দাফির পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র, তার আইনজীবী খালেদ এল-জাইদি এবং দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যম তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে হত্যার সময়কার সুনির্দিষ্ট ঘটনা বা হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো অস্পষ্ট।

সাইফ আল-ইসলাম ছিলেন গাদ্দাফির সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ও প্রভাবশালী। ২০১১ সালে গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর তিনি গ্রেপ্তার হন, পরে মুক্তি পান। মুক্তির পর তিনি লিবিয়ার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেন এবং নিজেকে আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে আনতে উদ্যোগ নেন।

একসময় তাকে তার পিতার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবেও দেখা হতো। যদিও গাদ্দাফির শাসনামলে তিনি আনুষ্ঠানিক কোনো সরকারি পদে ছিলেন না, তবে নীতিনির্ধারণে তার প্রভাব ছিল ব্যাপক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি ছিলেন পরিচিত মুখ।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে পড়াশোনা করা সাইফ সাবলীল ইংরেজিভাষী ছিলেন এবং একসময় পশ্চিমা বিশ্বে লিবিয়ার তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিতি পান। লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র ত্যাগ এবং ১৯৮৮ সালের লকারবি বিমান বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আলোচনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তবে ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত তাকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেয়। সেই রায়ের কারণে ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলেও তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।
চার দশকেরও বেশি সময় লিবিয়া শাসন করা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ২০১১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারান এবং পরে নিহত হন। তার এক দশকেরও বেশি সময় পর এবার সহিংস মৃত্যুর শিকার হলেন তার পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি।