ঢাকা ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা-বিরোধী দুটি গোষ্ঠীর তীব্র সংঘর্ষ, পালিয়ে আসছে হাজারো মানুষ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৩৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
  • / 580

ছবি সংগৃহীত

 

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা-বিরোধী দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর তীব্র সংঘর্ষের কারণে দেশটির হাজার হাজার মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মিজোরাম রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ভারতের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, গত ২ জুলাই মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় চিন রাজ্যের কয়েকটি কৌশলগত এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চিন ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স (সিএনডিএফ) এবং চিনল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্স-হুয়ালংরাম (সিডিএফ-এইচ) এর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এর পরপরই চিন রাজ্যের বহু বাসিন্দা সীমান্ত পেরিয়ে মিজোরামে ঢুকে পড়েন।

আরও পড়ুন  মিয়ানমার পণ্য আমদানি করতে সরকারের পাশাপাশি আরাকান আর্মিকে ট্যাক্স পরিশোধ করতে হচ্ছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে প্রায় চার হাজার শরণার্থী মিজোরামে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারের চিন রাজ্যের বহু এলাকা এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা ভারতের মিজোরামের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে। দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ঐতিহাসিক জাতিগত সম্পর্কও রয়েছে, ফলে সীমান্ত পেরিয়ে আসা শরণার্থীদের অনেকেই মিজোরামে স্বজনের মতো পরিবেশ পান।

মিজোরামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে সাপদাঙ্গা জানিয়েছেন, চিন রাজ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে নতুন করে শরণার্থীদের আগমন শুরু হয়েছে। তার ভাষায়, ‘‘চিন রাজ্যের সংঘর্ষ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। মানবিক কারণে আমরা বাধ্য হয়েছি তাদের খাদ্য, পানি ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে।’’

তিনি আরও জানান, বাস্তবে মিয়ানমার থেকে নতুন করে অন্তত তিন হাজার শরণার্থী ইতিমধ্যে মিজোরামে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে অস্থিরতা শুরু হলে বহু মানুষ মিজোরামে এসে আশ্রয় নেয়। তখন থেকেই রাজ্যটি মানবিক সহায়তার মনোভাব নিয়ে মিয়ানমারের শরণার্থীদের সহায়তা করে যাচ্ছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের একজন মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা-বিরোধী দুটি গোষ্ঠীর তীব্র সংঘর্ষ, পালিয়ে আসছে হাজারো মানুষ

আপডেট সময় ০৮:৩৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

 

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা-বিরোধী দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর তীব্র সংঘর্ষের কারণে দেশটির হাজার হাজার মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মিজোরাম রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ভারতের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, গত ২ জুলাই মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় চিন রাজ্যের কয়েকটি কৌশলগত এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চিন ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স (সিএনডিএফ) এবং চিনল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্স-হুয়ালংরাম (সিডিএফ-এইচ) এর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এর পরপরই চিন রাজ্যের বহু বাসিন্দা সীমান্ত পেরিয়ে মিজোরামে ঢুকে পড়েন।

আরও পড়ুন  আইসিজিতে শুরু রোহিঙ্গা গণহত্যা বিচার, দশ বছর পর ন্যায়বিচারের পথে প্রথম ধাপ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে প্রায় চার হাজার শরণার্থী মিজোরামে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারের চিন রাজ্যের বহু এলাকা এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা ভারতের মিজোরামের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে। দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ঐতিহাসিক জাতিগত সম্পর্কও রয়েছে, ফলে সীমান্ত পেরিয়ে আসা শরণার্থীদের অনেকেই মিজোরামে স্বজনের মতো পরিবেশ পান।

মিজোরামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে সাপদাঙ্গা জানিয়েছেন, চিন রাজ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে নতুন করে শরণার্থীদের আগমন শুরু হয়েছে। তার ভাষায়, ‘‘চিন রাজ্যের সংঘর্ষ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। মানবিক কারণে আমরা বাধ্য হয়েছি তাদের খাদ্য, পানি ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে।’’

তিনি আরও জানান, বাস্তবে মিয়ানমার থেকে নতুন করে অন্তত তিন হাজার শরণার্থী ইতিমধ্যে মিজোরামে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে অস্থিরতা শুরু হলে বহু মানুষ মিজোরামে এসে আশ্রয় নেয়। তখন থেকেই রাজ্যটি মানবিক সহায়তার মনোভাব নিয়ে মিয়ানমারের শরণার্থীদের সহায়তা করে যাচ্ছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের একজন মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।