ঢাকা ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
সাংবাদিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি খোকা ছিলেন রাজপথের খাঁটি যোদ্ধা: মির্জা আব্বাস শিল্প বাঁচলে মজুরি বাড়বে, অহেতুক প্ররোচনায় না পড়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান শ্রম মন্ত্রীর মেগা প্রকল্প নয়, জনগণের প্রয়োজনই অগ্রাধিকার: প্রতিমন্ত্রী ফুটবলে নজিরবিহীন ঘটনা: এক ম্যাচে ৫১ লাল কার্ড, ছাড়িয়ে গেল আগের রেকর্ড কাল থেকে সেন্টমার্টিনে যাচ্ছে পর্যটকবাহী তিন জাহাজ মান ও শর্ত পূরণ ছাড়া মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী একনেকে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মন্ত্রীর বৈঠক ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৬ মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৮৬৬

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা-বিরোধী দুটি গোষ্ঠীর তীব্র সংঘর্ষ, পালিয়ে আসছে হাজারো মানুষ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৩৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
  • / 810

ছবি সংগৃহীত

 

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা-বিরোধী দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর তীব্র সংঘর্ষের কারণে দেশটির হাজার হাজার মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মিজোরাম রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ভারতের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, গত ২ জুলাই মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় চিন রাজ্যের কয়েকটি কৌশলগত এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চিন ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স (সিএনডিএফ) এবং চিনল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্স-হুয়ালংরাম (সিডিএফ-এইচ) এর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এর পরপরই চিন রাজ্যের বহু বাসিন্দা সীমান্ত পেরিয়ে মিজোরামে ঢুকে পড়েন।

আরও পড়ুন  রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে প্রায় চার হাজার শরণার্থী মিজোরামে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারের চিন রাজ্যের বহু এলাকা এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা ভারতের মিজোরামের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে। দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ঐতিহাসিক জাতিগত সম্পর্কও রয়েছে, ফলে সীমান্ত পেরিয়ে আসা শরণার্থীদের অনেকেই মিজোরামে স্বজনের মতো পরিবেশ পান।

মিজোরামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে সাপদাঙ্গা জানিয়েছেন, চিন রাজ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে নতুন করে শরণার্থীদের আগমন শুরু হয়েছে। তার ভাষায়, ‘‘চিন রাজ্যের সংঘর্ষ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। মানবিক কারণে আমরা বাধ্য হয়েছি তাদের খাদ্য, পানি ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে।’’

তিনি আরও জানান, বাস্তবে মিয়ানমার থেকে নতুন করে অন্তত তিন হাজার শরণার্থী ইতিমধ্যে মিজোরামে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে অস্থিরতা শুরু হলে বহু মানুষ মিজোরামে এসে আশ্রয় নেয়। তখন থেকেই রাজ্যটি মানবিক সহায়তার মনোভাব নিয়ে মিয়ানমারের শরণার্থীদের সহায়তা করে যাচ্ছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের একজন মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা-বিরোধী দুটি গোষ্ঠীর তীব্র সংঘর্ষ, পালিয়ে আসছে হাজারো মানুষ

আপডেট সময় ০৮:৩৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

 

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা-বিরোধী দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর তীব্র সংঘর্ষের কারণে দেশটির হাজার হাজার মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মিজোরাম রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ভারতের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, গত ২ জুলাই মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় চিন রাজ্যের কয়েকটি কৌশলগত এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চিন ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স (সিএনডিএফ) এবং চিনল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্স-হুয়ালংরাম (সিডিএফ-এইচ) এর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এর পরপরই চিন রাজ্যের বহু বাসিন্দা সীমান্ত পেরিয়ে মিজোরামে ঢুকে পড়েন।

আরও পড়ুন  মিয়ানমারে মানবিক সহায়তা: বাংলাদেশের সহানুভূতির প্রদর্শন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে প্রায় চার হাজার শরণার্থী মিজোরামে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারের চিন রাজ্যের বহু এলাকা এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা ভারতের মিজোরামের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে। দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ঐতিহাসিক জাতিগত সম্পর্কও রয়েছে, ফলে সীমান্ত পেরিয়ে আসা শরণার্থীদের অনেকেই মিজোরামে স্বজনের মতো পরিবেশ পান।

মিজোরামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে সাপদাঙ্গা জানিয়েছেন, চিন রাজ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে নতুন করে শরণার্থীদের আগমন শুরু হয়েছে। তার ভাষায়, ‘‘চিন রাজ্যের সংঘর্ষ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। মানবিক কারণে আমরা বাধ্য হয়েছি তাদের খাদ্য, পানি ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে।’’

তিনি আরও জানান, বাস্তবে মিয়ানমার থেকে নতুন করে অন্তত তিন হাজার শরণার্থী ইতিমধ্যে মিজোরামে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে অস্থিরতা শুরু হলে বহু মানুষ মিজোরামে এসে আশ্রয় নেয়। তখন থেকেই রাজ্যটি মানবিক সহায়তার মনোভাব নিয়ে মিয়ানমারের শরণার্থীদের সহায়তা করে যাচ্ছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের একজন মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।