ঢাকা ১১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

গাজায় আরও রক্তস্নান: একদিনেই ১৪৪ ফিলিস্তিনির প্রাণহানি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২৩:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
  • / 512

ছবি সংগৃহীত

 

গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর হামলায় আরও ১৪৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ জুন) একদিনেই এ প্রাণহানি ঘটে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের বেশিরভাগই খাদ্য ও মানবিক সহায়তা নিতে জড়ো হয়েছিলেন।

ভোররাতে গাজা সিটির নেতজারিম করিডোরে সালাহউদ্দিন সড়কে সহায়তা সংগ্রহে আসা মানুষের ওপর গুলি চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এতে বহু মানুষ প্রাণ হারান। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিহতদের অনেকেই খাদ্য সহায়তার লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

আরও পড়ুন  গাজায় ভয়াবহ ইসরাইলি হামলা, একদিনে নিহত অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনি

একই দিনে গাজাজুড়ে চালানো বিমান ও স্থল হামলায় আল-মাওয়াসি, জেইতুন ও মাজাজি শরণার্থী ক্যাম্পে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ নিহত হন। আল-মাওয়াসিতে শরণার্থী তাঁবুতে চালানো হামলায় পুরো একটি পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানায়, চলমান যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৫৫ হাজার ছাড়িয়েছে। হাসপাতালগুলো চরম জ্বালানি সংকটে রয়েছে। মাত্র তিন দিনের মতো জ্বালানি মজুদ রয়েছে, যা দিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়।

গাজায় সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম ঘিরে সহিংসতা ও প্রাণহানি বাড়ছেই। হামাসের দাবি, এই বিতরণ প্রক্রিয়া আসলে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সামরিক পরিকল্পনার অংশ। তাদের অভিযোগ, ‘রেড জোন’ দেখিয়ে জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোকে বাধা দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করতে না পারে।

এদিকে জাতিসংঘসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গাজার বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিতে ইতোমধ্যেই অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অপরদিকে ইসরাইল প্রতিদিনকার এই হামলা ও হত্যাকাণ্ডকে ‘নিরাপত্তা হুমকি প্রতিহত করা’র নামে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করছে।

বেসামরিক মানুষের ওপর একের পর এক হামলায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়লেও, কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে, যা সামনে আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় আরও রক্তস্নান: একদিনেই ১৪৪ ফিলিস্তিনির প্রাণহানি

আপডেট সময় ১০:২৩:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

 

গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর হামলায় আরও ১৪৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ জুন) একদিনেই এ প্রাণহানি ঘটে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের বেশিরভাগই খাদ্য ও মানবিক সহায়তা নিতে জড়ো হয়েছিলেন।

ভোররাতে গাজা সিটির নেতজারিম করিডোরে সালাহউদ্দিন সড়কে সহায়তা সংগ্রহে আসা মানুষের ওপর গুলি চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এতে বহু মানুষ প্রাণ হারান। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিহতদের অনেকেই খাদ্য সহায়তার লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

আরও পড়ুন  গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা ইসরায়েলের, সীমিত পরিসরে ত্রাণ প্রবেশ শুরু

একই দিনে গাজাজুড়ে চালানো বিমান ও স্থল হামলায় আল-মাওয়াসি, জেইতুন ও মাজাজি শরণার্থী ক্যাম্পে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ নিহত হন। আল-মাওয়াসিতে শরণার্থী তাঁবুতে চালানো হামলায় পুরো একটি পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানায়, চলমান যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৫৫ হাজার ছাড়িয়েছে। হাসপাতালগুলো চরম জ্বালানি সংকটে রয়েছে। মাত্র তিন দিনের মতো জ্বালানি মজুদ রয়েছে, যা দিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়।

গাজায় সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম ঘিরে সহিংসতা ও প্রাণহানি বাড়ছেই। হামাসের দাবি, এই বিতরণ প্রক্রিয়া আসলে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সামরিক পরিকল্পনার অংশ। তাদের অভিযোগ, ‘রেড জোন’ দেখিয়ে জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোকে বাধা দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করতে না পারে।

এদিকে জাতিসংঘসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গাজার বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিতে ইতোমধ্যেই অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অপরদিকে ইসরাইল প্রতিদিনকার এই হামলা ও হত্যাকাণ্ডকে ‘নিরাপত্তা হুমকি প্রতিহত করা’র নামে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করছে।

বেসামরিক মানুষের ওপর একের পর এক হামলায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়লেও, কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে, যা সামনে আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করছে।