বোরো মৌসুমে তীব্র শ্রমিক সংকট: ধান ঘরে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা
- আপডেট সময় ০৭:৩৫:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
- / 96
তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে বোরো মৌসুমের ধান সময়মতো কাটা ও শুকানো নিয়ে দেশের কৃষকরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত ‘শোষণহীন, দুর্নীতিমুক্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। গণতন্ত্রী পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় দেশের বর্তমান কৃষি পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেওয়া বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অভিযোগ করেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে দেশের পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এর ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অসময়ে অতিবৃষ্টি ও হাওরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় হাজার হাজার একর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে উচ্চ মজুরি দিয়েও প্রয়োজনীয় শ্রমিক না পাওয়ায় কৃষকরা সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারকে ভর্তুকি বাড়ানোর দাবি জানান। একইসঙ্গে কর ফাঁকিদাতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে তা জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সবার জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের মাধ্যমে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার দাবিও তোলেন তারা।
গণতন্ত্রী পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড আব্দুল্লাহিল কাফি রতন, বাসদ নেতা কমরেড খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন।
সভায় বক্তারা রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে দেশের সকল সৎ, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি শক্তিশালী ফ্রন্ট গঠনের আহ্বান জানান। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে কৃষকের স্বার্থ রক্ষা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই বলে তারা মনে করেন।


























