ঢাকা ০৪:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

গুরুতর অসদাচরণের দায়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি খিজির হায়াতের অপসারণ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:১৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫
  • / 240

ছবি: সংগৃহীত

 

গুরুতর অসদাচরণের প্রমাণ মেলায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি খিজির হায়াতকে অপসারণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সচিব শেখ আবু তাহেরের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৬(৬) অনুযায়ী মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) বিচারপতি খিজির হায়াতকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের এই ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো বিচারপতি গুরুতর অসদাচরণে লিপ্ত হন বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে পড়েন, তবে তদন্ত শেষে রাষ্ট্রপতি তার অপসারণের নির্দেশ দিতে পারেন।

আরও পড়ুন  আপিল বিভাগে নতুন দুই বিচারপতিকে সংবর্ধনা

বিচারপতি খিজির হায়াতের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত ছিল। অবশেষে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষে তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

এর আগে, বিচার বিভাগের সংস্কার ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চাপের মুখে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের ১২ বিচারককে বেঞ্চ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই তালিকায় বিচারপতি খিজির হায়াতও ছিলেন।

এ তালিকায় আরও ছিলেন বিচারপতি নাইমা হায়দার, শেখ হাসান আরিফ, মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার, আশীষ রঞ্জন দাস, এস এম মনিরুজ্জামান, খোন্দকার দিলীরুজ্জামান, শাহেদ নূরউদ্দিন, মো. আক্তারুজ্জামান, আতাউর রহমান খান, মো. আমিনুল ইসলাম ও এস এম মাসুদ হোসেন দোলন।

এর মধ্যে বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে, অস্থায়ী থেকে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম ও এস এম মাসুদ হোসেন দোলন এখন আর বিচারপতি পদে নেই।

১৯৬৭ সালের ২৪ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করা বিচারপতি খিজির হায়াত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন সম্পন্ন করেন। ১৯৯৭ সালের ৬ আগস্ট তিনি ঢাকা জেলা জজ কোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এবং ২০০১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হন। ২০১৮ সালের ৩১ মে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এবং দুই বছর পর স্থায়ী হন।

তার বিরুদ্ধে আনা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ বিচার বিভাগে নৈতিকতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গুরুতর অসদাচরণের দায়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি খিজির হায়াতের অপসারণ

আপডেট সময় ০২:১৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫

 

গুরুতর অসদাচরণের প্রমাণ মেলায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি খিজির হায়াতকে অপসারণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সচিব শেখ আবু তাহেরের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৬(৬) অনুযায়ী মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) বিচারপতি খিজির হায়াতকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের এই ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো বিচারপতি গুরুতর অসদাচরণে লিপ্ত হন বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে পড়েন, তবে তদন্ত শেষে রাষ্ট্রপতি তার অপসারণের নির্দেশ দিতে পারেন।

আরও পড়ুন  জনগণ অন্তর্বর্তী সরকারকে বৈধ বলে মেনে নিয়েছে,এ নিয়ে বিতর্ক নয়

বিচারপতি খিজির হায়াতের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত ছিল। অবশেষে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষে তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

এর আগে, বিচার বিভাগের সংস্কার ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চাপের মুখে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের ১২ বিচারককে বেঞ্চ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই তালিকায় বিচারপতি খিজির হায়াতও ছিলেন।

এ তালিকায় আরও ছিলেন বিচারপতি নাইমা হায়দার, শেখ হাসান আরিফ, মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার, আশীষ রঞ্জন দাস, এস এম মনিরুজ্জামান, খোন্দকার দিলীরুজ্জামান, শাহেদ নূরউদ্দিন, মো. আক্তারুজ্জামান, আতাউর রহমান খান, মো. আমিনুল ইসলাম ও এস এম মাসুদ হোসেন দোলন।

এর মধ্যে বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে, অস্থায়ী থেকে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম ও এস এম মাসুদ হোসেন দোলন এখন আর বিচারপতি পদে নেই।

১৯৬৭ সালের ২৪ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করা বিচারপতি খিজির হায়াত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন সম্পন্ন করেন। ১৯৯৭ সালের ৬ আগস্ট তিনি ঢাকা জেলা জজ কোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এবং ২০০১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হন। ২০১৮ সালের ৩১ মে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এবং দুই বছর পর স্থায়ী হন।

তার বিরুদ্ধে আনা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ বিচার বিভাগে নৈতিকতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।