ঢাকা ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

বেনিনকে হারিয়ে মেসির শেষ ম্যাচে পূর্ণ হলো গোল-অ্যাসিস্ট

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:০০:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 46

ছবি সংগৃহীত

 

দেশের জার্সিতে শেষ ম্যাচ তবুও গল্পটা যেন চিরচেনা মেসিরই। আকাশি-সাদা জার্সিতে মাঠে নেমে নিজে গোল করেছেন, সতীর্থকে দিয়ে করিয়েছেন আরও দুই গোল। বেনিনকে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার তিন গোলেই সরাসরি অবদান রেখে বিদায় নিয়েছেন লিওনেল মেসি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বুয়েনস আইরেসের ঐতিহ্যবাহী এস্তাদিও মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনকে আতিথ্য দেয় আর্জেন্টিনা।

আরও পড়ুন  ৯৫ মিনিটের গোলে ব্রাজিলকে জিতিয়ে ইতিহাসে মার্তিনেলি

শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে স্বাগতিকরা। বল দখলে এগিয়ে থেকে একের পর এক আক্রমণ সাজালেও বেনিনের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না আলবিসেলেস্তেরা। মেসিও বেশ কয়েকবার আক্রমণে নেতৃত্ব দেন, কিন্তু প্রথমার্ধে তাঁর কোনো প্রচেষ্টাই জালে পৌঁছায়নি।

ম্যাচের ১০ মিনিটে মেসির সম্মানে প্রায় দেড় মিনিট খেলা থামিয়ে দেন রেফারি। গ্যালারিতে থাকা দর্শকরা দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে ফুটবল মহাতারকাকে সম্মান জানান। এ সময় স্টেডিয়ামজুড়ে শোনা যায় ‘ওলে ওলে মেসি’ স্লোগান।

এরপর আবার খেলা শুরু হলেও প্রথম ৪৫ মিনিটে গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

বিরতির পর অবশ্য গোলের জন্য বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে। ৪৮ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে আসা বল ভলিতে জালে পাঠান রিভার প্লেটের সেন্টার-ব্যাক নিকোলাস ওতামেন্দি। এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের ৬১ মিনিটে আবারও মেসির পাস থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হয় এবং স্কোরশিটে নাম লেখান নিকো পাজ। এতে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।

৭১ মিনিটে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। ডি-বক্সের মধ্যে অগাস্টিন জিয়াই ফাউলের শিকার হলে স্পটকিকের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। দায়িত্ব নেন মেসি। তাঁর শক্তিশালী শট সরাসরি জালে গেলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

শেষদিকে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল স্বাগতিকরা। তবে আর গোল না হওয়ায় ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

আর এই জয়ের সঙ্গেই আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির অধ্যায়ের শেষ পাতা লেখা হলো। দেশের হয়ে ২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোল, সঙ্গে বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার শিরোপা সংখ্যার হিসাবে এমন এক অধ্যায়, যার মাহাত্ম্য পরিসংখ্যানের চেয়েও অনেক বড়।

কারণ মেসিকে শুধু গোল, ম্যাচ কিংবা ট্রফির সংখ্যায় মাপা কঠিন। আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে তিনি যে আবেগ, স্মৃতি ও গৌরবের গল্প লিখেছেন, তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম মনে রাখবে।

শেষ ম্যাচেও গোল, অ্যাসিস্ট আর জয়—এর চেয়ে সুন্দর বিদায় আর কী হতে পারে!

বিদায়, লিওনেল মেসি। বিদায়, এলএমটেন। ফুটবলের মঞ্চে আপনার জাদুকরি অধ্যায় রয়ে যাবে অমলিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

বেনিনকে হারিয়ে মেসির শেষ ম্যাচে পূর্ণ হলো গোল-অ্যাসিস্ট

আপডেট সময় ০৮:০০:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

 

দেশের জার্সিতে শেষ ম্যাচ তবুও গল্পটা যেন চিরচেনা মেসিরই। আকাশি-সাদা জার্সিতে মাঠে নেমে নিজে গোল করেছেন, সতীর্থকে দিয়ে করিয়েছেন আরও দুই গোল। বেনিনকে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার তিন গোলেই সরাসরি অবদান রেখে বিদায় নিয়েছেন লিওনেল মেসি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বুয়েনস আইরেসের ঐতিহ্যবাহী এস্তাদিও মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনকে আতিথ্য দেয় আর্জেন্টিনা।

আরও পড়ুন  ব্রাজিলের গোল উৎসবে ৪-০ গোলে ভারত বধ

শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে স্বাগতিকরা। বল দখলে এগিয়ে থেকে একের পর এক আক্রমণ সাজালেও বেনিনের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না আলবিসেলেস্তেরা। মেসিও বেশ কয়েকবার আক্রমণে নেতৃত্ব দেন, কিন্তু প্রথমার্ধে তাঁর কোনো প্রচেষ্টাই জালে পৌঁছায়নি।

ম্যাচের ১০ মিনিটে মেসির সম্মানে প্রায় দেড় মিনিট খেলা থামিয়ে দেন রেফারি। গ্যালারিতে থাকা দর্শকরা দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে ফুটবল মহাতারকাকে সম্মান জানান। এ সময় স্টেডিয়ামজুড়ে শোনা যায় ‘ওলে ওলে মেসি’ স্লোগান।

এরপর আবার খেলা শুরু হলেও প্রথম ৪৫ মিনিটে গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

বিরতির পর অবশ্য গোলের জন্য বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে। ৪৮ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে আসা বল ভলিতে জালে পাঠান রিভার প্লেটের সেন্টার-ব্যাক নিকোলাস ওতামেন্দি। এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের ৬১ মিনিটে আবারও মেসির পাস থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হয় এবং স্কোরশিটে নাম লেখান নিকো পাজ। এতে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।

৭১ মিনিটে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। ডি-বক্সের মধ্যে অগাস্টিন জিয়াই ফাউলের শিকার হলে স্পটকিকের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। দায়িত্ব নেন মেসি। তাঁর শক্তিশালী শট সরাসরি জালে গেলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

শেষদিকে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল স্বাগতিকরা। তবে আর গোল না হওয়ায় ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

আর এই জয়ের সঙ্গেই আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির অধ্যায়ের শেষ পাতা লেখা হলো। দেশের হয়ে ২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোল, সঙ্গে বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার শিরোপা সংখ্যার হিসাবে এমন এক অধ্যায়, যার মাহাত্ম্য পরিসংখ্যানের চেয়েও অনেক বড়।

কারণ মেসিকে শুধু গোল, ম্যাচ কিংবা ট্রফির সংখ্যায় মাপা কঠিন। আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে তিনি যে আবেগ, স্মৃতি ও গৌরবের গল্প লিখেছেন, তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম মনে রাখবে।

শেষ ম্যাচেও গোল, অ্যাসিস্ট আর জয়—এর চেয়ে সুন্দর বিদায় আর কী হতে পারে!

বিদায়, লিওনেল মেসি। বিদায়, এলএমটেন। ফুটবলের মঞ্চে আপনার জাদুকরি অধ্যায় রয়ে যাবে অমলিন।