ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তাবলিগ জামাতের মাওলানা এহসানুল হক আর নেই

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 39

ছবি সংগৃহীত

 

দাওয়াত ও তাবলিগের কাজে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত পাকিস্তানসহ বিশ্বের অন্যতম প্রবীণ মুরব্বি ও বিশিষ্ট আলেম মাওলানা এহসানুল হক ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে তাবলিগ জামাতের সাথী, আলেম-উলামা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়।

তাঁর ইন্তেকালের তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ আলমী শুরার মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান।

তিনি জানান, মাওলানা এহসানুল হক পাকিস্তানের রায়বেন্ড মারকাজসহ বিশ্বব্যাপী তাবলিগ জামাতের আলমী শুরার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। দীর্ঘ সময় তিনি রায়বেন্ড মারকাজের প্রবীণ মুরব্বি হিসেবে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজে নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

দীর্ঘ ইলমি ও দাওয়াতি জীবনে মানুষের কাছে ইসলামের বাণী পৌঁছে দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পড়াশোনা ও শিক্ষকতার পাশাপাশি দাওয়াতি কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন এবং তাবলিগের প্রবীণ মুরব্বিদের সান্নিধ্যে থেকে দীর্ঘদিন দ্বীনি খেদমত করেছেন।

তাবলিগের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্কও ছিল দীর্ঘদিনের। তিনি পাকিস্তান তাবলিগ জামাতের আমির বাবু বশিরের সন্তান। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবু বশির বাংলাদেশেও তাবলিগের মেহনতকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জানা যায়, তিনি তাঁর সন্তানকে দ্বীনের কাজে উৎসর্গ করেছিলেন।

শিক্ষাজীবনে মাওলানা এহসানুল হক ভারতের সাহারানপুরের মাজাহিরুল উলুম মাদরাসায় অধ্যয়ন করেন। ওই সময়ে মাওলানা হারুনের সঙ্গেও তিনি পড়াশোনা করেন।

তিনি শাইখুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভী (রহ.)-এর কাছ থেকে হাদিসের শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় তাঁর খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন। ছাত্রজীবনেই তাঁর ইলমি ও রুহানি যোগ্যতায় সন্তুষ্ট হয়ে মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভী (রহ.) তাঁকে খেলাফত প্রদান করেন।

শিক্ষাজীবন শেষ করে তৎকালীন আলেমদের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তিনি সাত চিল্লার জন্য আল্লাহর রাস্তায় বের হন। এরপর তাবলিগের নির্ধারিত সময়ের মেহনত শেষ করে ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের কাশিফুল উলুম মাদরাসায় দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেন। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মাওলানা হারুনের সঙ্গেও তিনি শিক্ষকতা করেছেন।

পরবর্তীতে মাওলানা ইউসুফ (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর তিনি পাকিস্তানের রায়বেন্ড মারকাজে চলে যান। সেখানে ইলমি শিক্ষা ও দাওয়াতি কার্যক্রমের পাশাপাশি মারকাজের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন এবং তাবলিগের কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর খান্দানের সঙ্গেও মাওলানা এহসানুল হকের ঘনিষ্ঠ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।

দাওয়াত ও তাবলিগের কাজে মাওলানা এহসানুল হক ছিলেন দীর্ঘদিনের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ও প্রবীণ মুরব্বি। তাঁর দীর্ঘ ইলমি জীবন, বিশিষ্ট আলেম ও মুরব্বিদের সান্নিধ্য এবং দাওয়াতি কাজে অবদানের কারণে তাবলিগের অঙ্গনে তিনি সুপরিচিত ও সম্মানিত ছিলেন।

তাঁর ইন্তেকালে দাওয়াত ও তাবলিগের অঙ্গন একজন প্রবীণ মুরব্বি ও বিশিষ্ট আলেমকে হারাল। তাঁর দ্বীনি সাথী, অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে এ মৃত্যু গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

তাবলিগ জামাতের মাওলানা এহসানুল হক আর নেই

আপডেট সময় ১২:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

দাওয়াত ও তাবলিগের কাজে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত পাকিস্তানসহ বিশ্বের অন্যতম প্রবীণ মুরব্বি ও বিশিষ্ট আলেম মাওলানা এহসানুল হক ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে তাবলিগ জামাতের সাথী, আলেম-উলামা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়।

তাঁর ইন্তেকালের তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ আলমী শুরার মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান।

তিনি জানান, মাওলানা এহসানুল হক পাকিস্তানের রায়বেন্ড মারকাজসহ বিশ্বব্যাপী তাবলিগ জামাতের আলমী শুরার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। দীর্ঘ সময় তিনি রায়বেন্ড মারকাজের প্রবীণ মুরব্বি হিসেবে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজে নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

দীর্ঘ ইলমি ও দাওয়াতি জীবনে মানুষের কাছে ইসলামের বাণী পৌঁছে দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পড়াশোনা ও শিক্ষকতার পাশাপাশি দাওয়াতি কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন এবং তাবলিগের প্রবীণ মুরব্বিদের সান্নিধ্যে থেকে দীর্ঘদিন দ্বীনি খেদমত করেছেন।

তাবলিগের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্কও ছিল দীর্ঘদিনের। তিনি পাকিস্তান তাবলিগ জামাতের আমির বাবু বশিরের সন্তান। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবু বশির বাংলাদেশেও তাবলিগের মেহনতকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জানা যায়, তিনি তাঁর সন্তানকে দ্বীনের কাজে উৎসর্গ করেছিলেন।

শিক্ষাজীবনে মাওলানা এহসানুল হক ভারতের সাহারানপুরের মাজাহিরুল উলুম মাদরাসায় অধ্যয়ন করেন। ওই সময়ে মাওলানা হারুনের সঙ্গেও তিনি পড়াশোনা করেন।

তিনি শাইখুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভী (রহ.)-এর কাছ থেকে হাদিসের শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় তাঁর খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন। ছাত্রজীবনেই তাঁর ইলমি ও রুহানি যোগ্যতায় সন্তুষ্ট হয়ে মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভী (রহ.) তাঁকে খেলাফত প্রদান করেন।

শিক্ষাজীবন শেষ করে তৎকালীন আলেমদের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তিনি সাত চিল্লার জন্য আল্লাহর রাস্তায় বের হন। এরপর তাবলিগের নির্ধারিত সময়ের মেহনত শেষ করে ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের কাশিফুল উলুম মাদরাসায় দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেন। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মাওলানা হারুনের সঙ্গেও তিনি শিক্ষকতা করেছেন।

পরবর্তীতে মাওলানা ইউসুফ (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর তিনি পাকিস্তানের রায়বেন্ড মারকাজে চলে যান। সেখানে ইলমি শিক্ষা ও দাওয়াতি কার্যক্রমের পাশাপাশি মারকাজের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন এবং তাবলিগের কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর খান্দানের সঙ্গেও মাওলানা এহসানুল হকের ঘনিষ্ঠ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।

দাওয়াত ও তাবলিগের কাজে মাওলানা এহসানুল হক ছিলেন দীর্ঘদিনের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ও প্রবীণ মুরব্বি। তাঁর দীর্ঘ ইলমি জীবন, বিশিষ্ট আলেম ও মুরব্বিদের সান্নিধ্য এবং দাওয়াতি কাজে অবদানের কারণে তাবলিগের অঙ্গনে তিনি সুপরিচিত ও সম্মানিত ছিলেন।

তাঁর ইন্তেকালে দাওয়াত ও তাবলিগের অঙ্গন একজন প্রবীণ মুরব্বি ও বিশিষ্ট আলেমকে হারাল। তাঁর দ্বীনি সাথী, অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে এ মৃত্যু গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।