দোয়া কবুলের জন্য যেসব আমল ও শর্তের কথা বলা হয়েছে
- আপডেট সময় ০৯:৩৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
- / 23
ইসলামে দোয়াকে মুমিনের অন্যতম শক্তিশালী ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কোরআন ও হাদিসে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করার উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। ইসলামি শিক্ষায় দোয়াকে বান্দার আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, দোয়া এমন একটি আমল, যার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করা হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া ছাড়া আর কোনো কিছুই আল্লাহর সিদ্ধান্তকে বদলাতে পারে না।’ (সুনানে তিরমিজি: ২১৩৯)
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা আমার কাছে দোয়া করো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা মুমিন: ৬০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘দোয়া সব ইবাদতের মূল।’ (সুনানে তিরমিজি: ৩৩৭১)
ইসলামি সূত্রগুলোতে দোয়া কবুলের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুসরণের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দোয়া কবুলের অন্যতম শর্ত হলো হারাম উপার্জন, খাদ্য ও জীবনযাপন থেকে বিরত থাকা। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি হারাম উপায়ে জীবিকা অর্জন করে কিংবা হারাম খাদ্য গ্রহণ করে, তার দোয়া কবুল না হওয়ার আশঙ্কা থাকে। (সুনানে তিরমিজি: ২৯৮৯)
দোয়ার সময় আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস, আন্তরিকতা ও মনোযোগ বজায় রাখারও নির্দেশনা রয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কবুল হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে দোয়া করো। কারণ আল্লাহ অমনোযোগী ও উদাসীন হৃদয়ের দোয়া কবুল করেন না।’ (সুনানে তিরমিজি: ৩৪৭৯)
হাদিস অনুযায়ী, দোয়া শুরু করার আগে আল্লাহর প্রশংসা করা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা উত্তম। এরপর নিজের প্রয়োজন ও কামনা-বাসনার কথা আল্লাহর কাছে তুলে ধরতে বলা হয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ)
এ ছাড়া দোয়া করার পর দ্রুত ফল না পেলে হতাশ হওয়া বা তাড়াহুড়ো করাও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষের দোয়া কবুল হতে থাকে, যতক্ষণ না সে অধৈর্য হয়ে বলে—‘আমি দোয়া করেছি, কিন্তু তা কবুল হয়নি।’ (সহিহ বুখারি: ৬৩৪০)
ইসলামি শিক্ষায় তাই দোয়ার ক্ষেত্রে বৈধ উপার্জন, আন্তরিকতা, আল্লাহর প্রতি আস্থা, দরুদ ও প্রশংসার মাধ্যমে শুরু করা এবং ধৈর্য ধারণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

























