ইমামদের শুধু নামাজের নয়, মুত্তাকিদেরও ইমাম হতে হবে: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় ১০:০৩:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
- / 31
সমাজে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ইমাম ও আলেম-ওলামাদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। তিনি বলেছেন, ইমামদের শুধু নামাজের ইমাম হলে চলবে না, তাদের মুত্তাকিদের ইমাম হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
শনিবার ২৯ আগস্ট চট্টগ্রাম ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির মিলনায়তনে আলেম-ওলামা, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষের মধ্যে সত্য, ন্যায়, সততা ও তাকওয়ার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে ইমামদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য নিজেদের জীবনেও তাকওয়া, সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও আমলের প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষকে দ্বীনের পথে আহ্বান করতে হলে হিকমত ও প্রজ্ঞার সঙ্গে কথা বলতে হবে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশনা অনুসরণের পাশাপাশি মানুষের বাস্তবতা বুঝে সুন্দর ও যুক্তিসঙ্গতভাবে ইসলামের শিক্ষা তাদের সামনে তুলে ধরতে হবে।
পবিত্র কোরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে শামীম কায়সার বলেন, সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব রয়েছে। সামাজিক, কর্মক্ষেত্র এবং নৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব—প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষের সামনে আদর্শ স্থাপন করা জরুরি।
ইমামরা ধর্মীয় ও নৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের আচরণ, বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড মানুষের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হওয়া উচিত।
আল্লাহর দেওয়া বিভিন্ন নিয়ামতের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষ চোখ, কান, চিন্তা ও বিবেকসহ অসংখ্য নিয়ামত পেয়েছে। তবে এসব নিয়ামতের যথাযথ শুকরিয়া আদায় করা হয় না। আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়াও ঈমানি দায়িত্বের অংশ।
মতবিনিময় সভায় পাহাড়তলি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির অবকাঠামো ও ভূমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির অব্যবহৃত জায়গাগুলো কেন কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়নি, তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নিয়ে এসব জায়গা জনকল্যাণমূলক ও প্রশিক্ষণমূলক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
চট্টগ্রাম ও আশপাশের অঞ্চলের হজযাত্রীদের আবাসন ও প্রশিক্ষণসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটির জায়গা আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মোস্তফা মনসুর আলম খাঁনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আলেম-ওলামারা উপস্থিত ছিলেন।

























