যৌতুক, নি/র্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় ০১:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
- / 15
জয়পুরহাট সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিসিএস ৩৪ ব্যাচ) মো. আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন তাঁর স্ত্রী শামিয়া খান এশা। শনিবার (২৬ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে শামিয়া খান এশা বলেন, ২০১৯ সালের ১৯ জুলাই ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী মো. আরিফ হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বর্তমানে তাঁদের প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিয়ের সময় তাঁর পরিবার প্রায় ২০ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও অন্যান্য উপহার দেয়। এছাড়া প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার স্বর্ণালঙ্কার, মূল্যবান ঘড়ি ও হীরার আংটিও দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাঁর স্বামীর আচরণে পরিবর্তন আসে। তিনি নিয়মিত মদ্যপান, মাদকসেবন এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তুলে এশা দাবি করেন, এসবের প্রমাণ হিসেবে ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তাঁর কাছে রয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে বাসায় বিভিন্ন নারীকে আনা হতো। এসবের প্রতিবাদ করলে তাঁকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। একপর্যায়ে কামরুন জাহান বিথী নামে এক নারীর সঙ্গে তাঁর স্বামীর পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং বিষয়টি নিয়ে তিনি রামপুরা থানায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করলে নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়ে। একই সঙ্গে পেশাগত প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শামিয়া খান এশার দাবি, একপর্যায়ে তাঁর পরিবারের কাছে ৪০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। সংসার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তাঁর বাবা-মা গ্রামের জমি বিক্রি করে নগদ অর্থ ও ব্যাংক চেকের মাধ্যমে ওই টাকা দেন। এরপর অভিযুক্ত কর্মকর্তা ১২ লাখ টাকা দিয়ে কাগজপত্রবিহীন একটি প্রিমিও গাড়ি কেনেন এবং পূর্বাচলে জমি কেনাসহ বিলাসবহুল জীবনযাপন শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এরপরও আরও ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয় বলে তাঁর দাবি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত ৯ জানুয়ারি জয়পুরহাটের ভাড়া বাসায় ৫০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে তাঁকে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁদের শিশুকন্যাও নির্যাতনের শিকার হয় বলে তিনি দাবি করেন। পরে সন্তানসহ তাঁকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হলে স্থানীয়দের সহায়তায় সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এরপর পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় থানায় নেওয়া হলে কয়েক দিন নিরাপত্তা দেওয়া হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে বাবার বাড়িতে ফিরে আসার পর থেকে তাঁর স্বামী তাঁদের ভরণ-পোষণ বন্ধ করে দেন এবং কোনো খোঁজখবর নেন না। পাশাপাশি পরকীয়ার সম্পর্ক ও মাদকাসক্তির কারণে তাঁকে তালাক দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন।
শামিয়া খান এশা আরও অভিযোগ করেন, গত ৩০ মে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলায় এক বন্ধুর বাসায় তাঁর স্বামীকে এক নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। প্রতিবাদ করলে তাঁকে মোবাইল ফোন দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে প্রাণনাশ ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে তাঁকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, পরে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এবং জয়পুরহাটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পাশাপাশি ৫ জুলাই ২০২৬ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় সি.আর. মামলা নং-৬৯৬/২০২৬ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, নির্যাতনের ছবি, অডিও, ভিডিও, বার্তা এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে এবং আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে সমন জারি করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার বিষয়টি জানার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ৯ জুলাই তাঁর ও তাঁর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে তাঁদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং সাক্ষীদেরও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা কর্মস্থলে বহাল থাকায় নিরপেক্ষ তদন্ত ব্যাহত হতে পারে। তাই তদন্তের স্বার্থে তাঁকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শামিয়া খান এশা গণমাধ্যম, মানবাধিকার সংস্থা, বাংলাদেশ পুলিশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিচার বিভাগের প্রতি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
























