ঢাকা ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বাগেরহাটে বিএনপির সম্মেলনে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০, স্থগিত সভা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৩৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫
  • / 689

ছবি সংগৃহীত

 

 

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পুটিখালী ইউনিয়ন বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে দুই সভাপতি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। রোববার (১৫ জুন) দুপুরে চরপুটিখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন  বিএনপির নেতা-কর্মীদের কাকরাইলে রাতভর অবস্থান, সকালেও অব্যাহত কর্মসূচি

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ১১টায় সম্মেলন শুরু হয়। সভার একপর্যায়ে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা আব্দুল হালিম খোকনের বক্তব্য চলাকালে দুই সভাপতি প্রার্থী খলিলুর রহমান শিকদার ও আব্দুস ছাত্তার হাওলাদারের সমর্থকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। মুহূর্তেই তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। পরে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি খাদেম নিয়ামুল নাসির আলাপ সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করেন।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন বিএনপি কর্মী শিহাব শিকদার, এমদাদুল হাওলাদার, সাইফুল হাওলাদার, অহিদুল ইসলাম ও মো. হালিম। আহতদের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আব্দুস ছাত্তার হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, “খোকন সাহেব মূলত খলিলুর রহমান শিকদারের আত্মীয়। তিনি বক্তব্যে বলেন, পূর্বে কমিটি নিয়ে সমঝোতা হয়েছিল, তাই আবার নির্বাচন প্রয়োজন নেই। এরপর আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর খলিলুরের সমর্থকরা হামলা চালায়।”

অন্যদিকে খলিলুর রহমান শিকদার বলেন, “আমাদের কাউন্সিলরদের বাদ দিয়ে অন্যদের ভোটার করা হয়েছে। আমাদের কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। যখন একজন নেতা আমাদের পক্ষে কথা বলেন, তখন আব্দুস ছাত্তারের লোকজনই প্রথমে হামলা চালায়।”

এ বিষয়ে প্রধান অতিথি খাদেম নিয়ামুল নাসিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে ঘটনাস্থলের এক ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “আপনারা শান্ত থাকুন, আমরা এই সম্মেলন স্থগিত করছি। পরবর্তীতে সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।”

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. তৌহিদুল আরিফ বলেন, “সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি সম্মেলন স্থগিত করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

বাগেরহাটে বিএনপির সম্মেলনে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০, স্থগিত সভা

আপডেট সময় ০৭:৩৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫

 

 

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পুটিখালী ইউনিয়ন বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে দুই সভাপতি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। রোববার (১৫ জুন) দুপুরে চরপুটিখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন  গোপালগঞ্জে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ১১টায় সম্মেলন শুরু হয়। সভার একপর্যায়ে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা আব্দুল হালিম খোকনের বক্তব্য চলাকালে দুই সভাপতি প্রার্থী খলিলুর রহমান শিকদার ও আব্দুস ছাত্তার হাওলাদারের সমর্থকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। মুহূর্তেই তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। পরে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি খাদেম নিয়ামুল নাসির আলাপ সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করেন।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন বিএনপি কর্মী শিহাব শিকদার, এমদাদুল হাওলাদার, সাইফুল হাওলাদার, অহিদুল ইসলাম ও মো. হালিম। আহতদের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আব্দুস ছাত্তার হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, “খোকন সাহেব মূলত খলিলুর রহমান শিকদারের আত্মীয়। তিনি বক্তব্যে বলেন, পূর্বে কমিটি নিয়ে সমঝোতা হয়েছিল, তাই আবার নির্বাচন প্রয়োজন নেই। এরপর আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর খলিলুরের সমর্থকরা হামলা চালায়।”

অন্যদিকে খলিলুর রহমান শিকদার বলেন, “আমাদের কাউন্সিলরদের বাদ দিয়ে অন্যদের ভোটার করা হয়েছে। আমাদের কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। যখন একজন নেতা আমাদের পক্ষে কথা বলেন, তখন আব্দুস ছাত্তারের লোকজনই প্রথমে হামলা চালায়।”

এ বিষয়ে প্রধান অতিথি খাদেম নিয়ামুল নাসিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে ঘটনাস্থলের এক ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “আপনারা শান্ত থাকুন, আমরা এই সম্মেলন স্থগিত করছি। পরবর্তীতে সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।”

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. তৌহিদুল আরিফ বলেন, “সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি সম্মেলন স্থগিত করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”