গোয়েন্দা হুমকিতে মাঝপথে বিমান বদলান ট্রাম্প, দাবি নিউইয়র্ক টাইমসের
- আপডেট সময় ১১:১১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
- / 19
চলতি মাসে তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উড়োজাহাজ পরিবর্তনের পেছনে প্রাণনাশের আশঙ্কাজনিত গোয়েন্দা তথ্য কাজ করেছিল বলে দাবি করেছে নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে আকাশপথে হামলার পরিকল্পনা করছিল বলে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পরই নিরাপত্তা বাহিনী তাকে বিমান বদলের পরামর্শ দেয়।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ন্যাটো সম্মেলন চলাকালেই এই নির্দিষ্ট হুমকির তথ্য সামনে আসে। সংবেদনশীলতার কারণে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প তুরস্কের আঙ্কারায় গিয়েছিলেন কাতারের উপহার দেওয়া একটি বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজে। তবে এতে পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না।
হুমকির তথ্য পাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিস ট্রাম্পকে উড়োজাহাজ পরিবর্তনের পরামর্শ দেয়। পরে তিনি ঘোষণা দেন, তুরস্ক থেকে ফেরার জন্য পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানই ব্যবহার করবেন।
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানপন্থী প্রক্সি গোষ্ঠীর লক্ষ্য ছিল ট্রাম্প এবং তিনি যে বিমানেই থাকুন না কেন, সেটিকে আকাশে লক্ষ্যবস্তু বানানো।
ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তাকে হত্যার চেষ্টা চলছে এবং বিভিন্ন ‘হিটলিস্টে’ তার নাম রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এত দিন ভাগ্য তার পক্ষে ছিল, তবে সেটি সবসময় নাও থাকতে পারে।
প্রথমদিকে ট্রাম্প বিমান পরিবর্তনের কারণ হিসেবে ব্রিটেনে অবস্থানরত মার্কিন সেনাসদস্যদের নতুন উড়োজাহাজটি দেখার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে পরে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মূলত নিরাপত্তাজনিত কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই গোয়েন্দা তথ্য মার্কিন প্রশাসনের খুব সীমিত সংখ্যক কর্মকর্তার মধ্যে রাখা হয়েছিল। এমনকি কংগ্রেসের শীর্ষ সদস্যদেরও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টার বিষয়টি স্বীকার করে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন।
একই সময়ে ইসরায়েলও ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তথ্য ভাগ করে নেয়। তবে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা ওই তথ্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রকে উৎসাহিত করতেই এ তথ্য দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে তুরস্কে বিমান পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের পেছনের গোয়েন্দা তথ্য ইসরায়েলি সূত্রের তথ্য থেকে আলাদা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে কাতারের উপহার দেওয়া নতুন উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মার্কিন সরকার তথ্য ফাঁসের তদন্ত শুরু করে। পরে সমালোচনার মুখে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে জারি করা আইনি নোটিশ প্রত্যাহার করা হয়।
গত রোববার ট্রাম্পও স্বীকার করেন, নতুন উড়োজাহাজে এখনো পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের সব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংযুক্ত হয়নি। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, অতিরিক্ত নিরাপত্তা আধুনিকায়নের জন্য আগামী শরতে প্রায় এক মাস নতুন বিমানটি সেবার বাইরে থাকবে। ওই সময় ট্রাম্প তার পুরোনো উড়োজাহাজ ব্যবহার করবেন।
মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা, ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার পর থেকেই ইরান-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ট্রাম্পকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে।























