ঢাকা ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

তত্ত্বাবধায়ক সরকার জনগণের সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ: আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৫০:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
  • / 94

ছবি সংগৃহীত

 

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তার ঐতিহাসিক রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে যে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কোনো চাপিয়ে দেওয়া বিধান নয়, বরং এটি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনি ব্যবস্থার জন্য জনসাধারণের দীর্ঘদিনের ব্যাপক দাবির ফসল। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিতে সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করেছে যে, এই ব্যবস্থা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করেনি; বরং সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত জনগণের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের পবিত্রতাকে আরও শক্তিশালী ও সুসংহত করেছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারকের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ মনে করে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করাই ছিল এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা রক্ষা করার একটি অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে গণ্য।

আরও পড়ুন  কুমিল্লা-৪ আসনে মঞ্জুরুলের প্রার্থীতায় কি সিদ্ধান্ত নিলেন আপিল বিভাগ

২০১১ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের দেওয়া রায়কে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে বর্তমান আপিল বিভাগ বলেছে যে, সেই সময় কেবল অনুমানমূলক আশঙ্কার ওপর ভিত্তি করে একটি কার্যকর আইন বাতিল করা হয়েছিল। আগের রায়ের পদ্ধতিগত অসঙ্গতি তুলে ধরে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ২০১১ সালের সংক্ষিপ্ত আদেশে পরবর্তী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার কথা থাকলেও দেড় বছর পর প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে তা উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছিল।
বর্তমান আদালত মনে করে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণাটি একটি আদর্শ অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন হিসেবে তৈরি করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় যন্ত্রপাতির অপব্যবহার রোধ করে এক নির্বাচিত সরকার থেকে অন্য নির্বাচিত সরকারে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ প্রশস্ত করে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটি মূলত নির্বাচনি ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থার গভীর সংকট থেকে একটি মৌলিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছিল। এটি একটি অনন্য সাংবিধানিক অর্জন যা জনগণের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের ইচ্ছাকে সমুন্নত রাখে।

১৪ বছর আগের বিতর্কিত রায়টি বাতিলের মাধ্যমে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিধানগুলো পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে, তবে আদালত সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে এটি কেবল ভবিষ্যৎ প্রয়োগযোগ্যতার ভিত্তিতে অর্থাৎ আগামী চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগ তার সংশোধনমূলক ক্ষমতার প্রয়োগ ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক চেতনার এক গভীর শক্তিবৃদ্ধি করল বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

তত্ত্বাবধায়ক সরকার জনগণের সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ: আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণ

আপডেট সময় ০৪:৫০:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

 

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তার ঐতিহাসিক রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে যে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কোনো চাপিয়ে দেওয়া বিধান নয়, বরং এটি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনি ব্যবস্থার জন্য জনসাধারণের দীর্ঘদিনের ব্যাপক দাবির ফসল। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিতে সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করেছে যে, এই ব্যবস্থা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করেনি; বরং সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত জনগণের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের পবিত্রতাকে আরও শক্তিশালী ও সুসংহত করেছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারকের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ মনে করে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করাই ছিল এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা রক্ষা করার একটি অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে গণ্য।

আরও পড়ুন  তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল রায়: চারটি রিভিউ আবেদনের শুনানি আজ আপিল বিভাগে

২০১১ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের দেওয়া রায়কে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে বর্তমান আপিল বিভাগ বলেছে যে, সেই সময় কেবল অনুমানমূলক আশঙ্কার ওপর ভিত্তি করে একটি কার্যকর আইন বাতিল করা হয়েছিল। আগের রায়ের পদ্ধতিগত অসঙ্গতি তুলে ধরে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ২০১১ সালের সংক্ষিপ্ত আদেশে পরবর্তী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার কথা থাকলেও দেড় বছর পর প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে তা উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছিল।
বর্তমান আদালত মনে করে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণাটি একটি আদর্শ অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন হিসেবে তৈরি করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় যন্ত্রপাতির অপব্যবহার রোধ করে এক নির্বাচিত সরকার থেকে অন্য নির্বাচিত সরকারে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ প্রশস্ত করে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটি মূলত নির্বাচনি ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থার গভীর সংকট থেকে একটি মৌলিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছিল। এটি একটি অনন্য সাংবিধানিক অর্জন যা জনগণের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের ইচ্ছাকে সমুন্নত রাখে।

১৪ বছর আগের বিতর্কিত রায়টি বাতিলের মাধ্যমে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিধানগুলো পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে, তবে আদালত সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে এটি কেবল ভবিষ্যৎ প্রয়োগযোগ্যতার ভিত্তিতে অর্থাৎ আগামী চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগ তার সংশোধনমূলক ক্ষমতার প্রয়োগ ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক চেতনার এক গভীর শক্তিবৃদ্ধি করল বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।